একুশটা বছর! কেমন করে যে চলে গেলো বুঝতে পারলাম না| সময় চলে যায়; গভীর রেখাগুলন থেকে যায়| তবুও এখুষ্টা বছর! একুশ বছর পরে মেয়ের সাথে আমার দেখা হবে! কত বড় হয়েছে সে? দেখতে কেমন হয়েছে? কেমন করে সে হাসে? কার মতন দেখতে হয়েছে? চুলের রং কি? এ ধরনের অনেক প্রশ্ন মনে আসছে| অপেক্ষা করছি| অপেক্ষা! অপেক্ষার উত্তেজনা|
আমার মেয়ে কি দরজার ওপাশে আমার জন্য অপেক্ষা করছে? ওর মা কি আমাকে দেখেতে এসেছে? আর কে কে এসেছে?
আমি শুয়ে আছি বা ঘুমিয়ে আছি একটা হাসপাতালে| আসলে মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছি| মেয়ের সাথে দেখা করবো বলেই ঢাকা থেকে ছুটে আসা| এসেই এই বাজে এক্সিডেন্ট| খুব ভালো লাগছে না| মাঝে মাঝে মনে হয় ঘুমিয়ে যাই আবার মাঝা মাঝে জাগি| অন্ধকার সব| কিছুই দেখি না| শরীরটাও অনুভব করতে পারি না|
একুশ বছর আগে ছোট্ট এত্তটুকু ছিলো সে| মাত্র ৭মাস| এরপরে আর দেখা হয় নাই| যে নিখুত সুরে জীবনটা বাঁধা ছিলো; সুরটা হুট করে কেটে গেছে| আর কখনই তাল ফিরে আসেনি| মাঝখানে ২১ত বছর কেটে গেলো|
এই ২১বছরের প্রত্যেকটা দিন মেয়ের কাছে চিঠি লিখেছি| পোস্ট করা হয় নাই| কত রাতের পর রাত পুরনো চিঠিগুলন পড়েছি আর কেদেছি| আহারে! নিজের উপর নিজেরই যত মায়া! আমার মেয়ের হাতে সব চিঠিগুলন তুলে দিবো| আমার মেয়ে কি বাংলা পড়তে পারে?
কাজের জন্য পুরো পৃথিবী ঘুরে বেরিয়েছি| যত সব ভালো ভালো স্থানে পলক ফেলেছি, মেয়েকে মিস করেছি| আসলে অবাস্তবের পাওয়া বাস্তবের থেকেও স্পষ্ট যদি ভালোবাসা থাকে!
চিন্তা গুলন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে! আবার মনে হয় ঘুমিয়ে যাবো| মেয়েটার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে|
যখন আমি এইসব চিন্তা করছি তখন আমি সিসিউতে| বাইরে আমার বন, বনের স্বামী ইবন তাদের ছেলে| ডাক্তার এসে জানালো এখন লাইফ সাপোর্ট খুলে দিবে কিনা! অনেক কান্নার আওয়াজ| আমার বন সাইন করে দিলো|
