Lutfar Rahman Nirjhar's Blog | ..!

Archive for July 2008

আজকে রাতে গিয়েছি ফাহমিদা আপার বাসায় (ফাহমিদা নবী)। আমার বন্ধু লিনা’কে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম। লিনা ফাহমিদা আপার অনেক বড় ফ্যান। আমরা সবাই অনেক গান করেছি। আমার নতুন লেখা এবং সুর করা দু’টি গান সবাইকে শুনিয়েছি।

barishal 254 (Small)

লিনা, ফাহমিদা আপা

barishal 255 (Small)

barishal 257 (Small)

আমি ধ্যানের ভঙিতে গান শুনছি।

barishal 258 (Small)

ক্লোজ-আপ ওয়ানের পুতুল।

barishal 261 (Small)

S K Das

barishal 262 (Small)

আসলেই দিনটা ছিল শুধুই গানের।

· · · ·

heartইদানিং হঠাৎ লক্ষ করলাম আমার গানময় দিন। সারাদিন গান লিখছি এবং সুর করছি। গুন গুন করে গাচ্ছি। ফোন করে অত্যাচার করছি গান দিয়ে। সময়টা আসলে খারাপ না। তবে আজকে খামকা খেয়াল; এই গানের বারতা’র অন্তরালে কলকাঠি নারছে কে?

আসলে আমি প্রেমে পরেছি। নিছক প্রেম নয়, যাকে বলে “ডুবে মরি বার বার তবুও বাসি ভালো এই ডুবসাঁতার”। আমি ভালো সাঁতুরে নই, তবুও প্রেমের মধ্যে আছি। প্রেমের সংজ্ঞা খুঁজতে খুঁজতে সজ্ঞাহীন হচ্ছি, ভয় পাচ্ছি, তবুও আমি খাঁটি প্রেমিক। কোন ভেজাল নাই। ১০০ ভাগ খাঁটি।

কিন্তু দুঃখের বিষয়টা হলো, কার প্রেমে আছি এটা বের করতে পারছি না। কোন উপায় আছে জানার? যদিও উপায় নিয়ে ভাবি না। প্রাপ্তিটা আমার ষোল আনা। নগদের উপার গান গুলো হচ্ছে। প্রত্যেকটি গান আমাকে ছুঁয়ে ছুয়ে যাচ্ছে। আমার না জানা ভালো লাগা বা না লিখা কবিতাগুলোর মতোন মধুর এই গানগুলো। তবে খুব শখ!

শখ আমার! একদিন কোন এক নিশুত রাতে, কোন প্রান্তরে ঘাসের উপর কাঠ জড়ো করে আগুন জ্বালাব। তারপর আমার সবচেয়ে পছন্দের মানুষটাকে সেখানে ডাকব। ডাকব যখন আগুনটা ঝলসে উঠবে। শ্রাবস্তীগহনকালে তার দিকে চেয়ে থাকব। যখন ক্রমশই আলোক্ছটা নীরব হযে যাবে তখন ধরব তার হাত। আধো অন্ধকারে তার চোখ অনুমান করে চেয়ে গাইব আমার না গাওয়া ভালোবাসার সব গানগুলো। শুধু তুমি আমার পাশে বন্ধু হে… একটু বসিয়া থেকো!

· ·

Jul/08

23

breathing spaces!!

I will live for these smiles only

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

One of my favorite shot now! I am really happy with this photo.

buddies-2

Took this photo in my village, kurigram.

buddies

Somewhere in this world-somewhere in: I’ll breath one day with my precious moment. I’ll survive, you know that better than me because you’ll be my nest. Farewell my past, farewell at last!

ছবিগুলোন তুলেছি কুড়িগ্রামে। আমার গ্রামের বাড়িতে। এই পাখিগুলোর একটা নাম আছে। জানি না। কেউ জানলে আমাকে জানান।

আমি অনেক দিখ থেকে ছবি তুলছি না। ছবি তুলতে ইচ্ছে করছে। ছবি তুলতে পারছি না। চেষ্টা করছি।

ভাবছি কিছুদিনের জন্য কুড়িগ্রাম থেকে ঘুরে আসব। দেখা যাক যাব কিনা? আপনারা কেউ আমার সাথে যেতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের গ্রামখানা ছবির মতোন।

এই ছবিগুলোন আমি বড় করে প্রিন্ট করে আমার বাসায় রেখে দিব ভাবছি। অনেক ছবি থেকে বাছাই করতে হবে। আজকে থেকে বাছাই পর্ব শুরু হলো। ১৬টা ছবি আমি নির্বাচন করব। সময় লাগবে। সময় আছে আমার।

· · · · · · ·

From Dhaka University Teachers Quarter Campaus. Was taken by Son Dong Ho

From Dhaka University Teachers Quarter Campaus. Was taken by Son Dong Ho

এখন নাকি ঘোর বরিষণ কাল। তা অবশ্যই বুঝতে পারছি। সকাল থেকে উদাস করা হাওয়া। উদাস উদাস পানির ফোটা। খুব মন খারাপ করার মতোন অবস্থা। বৃষ্টির জন্য নাকি আমার জন্য বুঝি না। শুধু শেষটায় এসে থামি। আজ আমার মন খারাপ দিবস।

অনেক পরিকল্পণা করলাম। কিভাবে শুরু করব মন খারাপের শুরুটা। সবার উপর অভিমান করে?

যে মানুষটা আজকে সকালে আসার কথা ছিল: তার উপর কি অভিমান করব? নাকি যে মানুষটা অনেক মধুর সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর কিছুই হলো না তার উপর?

সে যাই হোক: আজকে কিন্তু আমার মন খারাপের দিন। আমি মন খারাপ করবই। কিন্তু সমস্য হলো এখানেই। এই যে এখন দমকা বাতাসে আমার বিশাল জানালার কাঁপন শুনছি। মুহূর্তেই এখন হৃদয়ের প্রতিটি প্রকষ্ঠ নাড়া দিয়ে উঠল। কার প্রতি বা কাহার প্রতি এটা ভাবার মতোন সময় নেই। শুধু কাঁপন গুলোন অনুভবে থাকে। কারন আজ আমার মন খারাপের দিন।

· · · · · · ·

Jul/08

14

A Macro Work!

another oneOne of my favorite now.

I really love this flower.

Today I am planning have some more shots! Wish me luck.

· · ·

(প্রিয় পাঠক, এই গল্পটি আগের লেখা। খুঁজে পেলাম কম্পিউটারে। গল্পটি খুব ভালো নয়। কিন্তু আমার ব্লগে আমি লিখলাম। কোন প্রুফরিডিং বা সম্পাদনা ছাড়া। কোন যায় আসে না।)

একশ পচাত্তর টাকা গাড়ীর ব্লুবুকের ভিতর থেকে বের করল আমিনুল। আমিনুল একজন ট্রাফিক সার্জন। সে দাড়িয়ে আছে ফার্মগেইট পুলিশ বক্সের সামনে। তার হাতের ওয়ারলেস থেকে পি পি আওয়াজ বের হচ্ছে, কিছু একটা গোলযোগ ধরেছে তাতে। খুব নির্বিকার ভাবে জিজ্ঞেস করল

-বাকী পচিশ টাকা কই?

সামনে দাড়িয়ে থাকা ছেলেটি মিইয়ে যায়। তার চোখ জীবন্ত হয়ে ওঠে তাতে প্রকাশ পায় রাজ্যের কাকুতি মিনতি।

-স্যার আজকে আরো এক জায়গায় ধরা খাইছি। আর টাকা নাই (ছেলেটির চোখ ছল ছল করে ওঠে)।

আমিনুল চেহারায় রাগী রাগী একটা ভাব নিয়ে আসে।

-তোদের তো নতুন এই গান, ধরলেই হয় টাকা কম নয়তো আর একজায়গায় ধরা খাইছি। সমস্যা কি?আমিনুল বলে।

-স্যার যা আছে রাইখ্যা দেন, আর একদিন হইব’ ছেলেটি উত্তর দেয়।

আমিনুল ছেলেটির গালে সজোড়ে একটা চর মারে এবং সেই সাথে টাকাটাও পকেটে ভরে ফেলে। তার মেজাজ আস্তে আস্তে বিগড়ে যাচ্চে। এখনও লাইনের মনসুর মিয়া আসে নাই। মনসুর না আসলে তো তার অনেক সমস্যা হবে। নিজে গিয়ে গাড়ী থামিয়ে টাকা নেয় খুব খারাপ দেখাচ্ছে। সামনে ঈদ। অনেক খরচার ব্যাপার। এখন যদি মনসুর এমন করে তাহলে তো মাঠে মারা। নিজের মোটর সাইকেলের উপর বসে আপন মনে সিগারেট টানতে থাকে আমিনুল। বেলা গড়াতে থাকে। এদিকে আকাশের অবস্থাও খুব সুবিধার না। রাত্রে মনে হয় ভালো বৃষ্টি নামবে।

ঢাকা শহরের ট্রাফিক সার্জনদের উপরি টাকা নেয়ার ঘটনা সবার জানা। যেসব গাড়ী রাস্তায় চলে তার অধিকাংশের কাগজপত্র থাকে গোলমালের। সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পকেট ভর্তি হয় সার্জনের। আর গাড়ি কর্তৃপক্ষ মামলার হাত থেকে বাঁচার জন্য দুইশ টাকা দিতে কার্পণ্য করে না।

গলায় কড়া লাল রঙের একটা মাফলার জড়ায়ে মনসুর রাস্তা পার হচ্ছে। চোখে তার একটা রঙিন রোদ চশমাও দেখা যাচ্ছে। আমিনুল তার সমস্ত গতিবিধি লক্ষ্য করছে। যেমন তার বা পায়ের স্যান্ডেলের একটা ফিতা নাই। তাই খুব কায়দা করে তাকে হাটতে হচ্ছে। আমিনুল এসব খুটিয়ে লক্ষ্য করতে গিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল ভঙ্গ করা একটা রাইডার্সকে সে ধরতে পারল না। এমনিতেই তার মেজাজ খারাপ এবং এবার তাতে বাড়তি যোগ হলো এই ফসকে যাওয়া গাড়ি। মনসুর পাশে এসে দাড়াল। তার মুখ থেকে জর্দার গন্ধ আসছে। আমিনুল এই জর্দার নামও জানে। হাকিমপুরি। লালটি দাঁত নিয়ে মনসুর সামনে দাড়ায়।

-ছালাম ছার। ছারের শইলডা কি ভালা?

মনসুর মিয়ার মুখের বিস্তৃতি হয় অনেক অংশে।

-তোমারে আমি ২৩০ টাকা দিয়া যে ঘড়িটা কিনা দিছিলাম সেই ঘড়িটা কই? আমিনুল বাঁকাভাবে জবাব দেয়।

-আমার ছোড পোলায় ওইডা নিছে, তাই আমার হাতে নাই।’ মনসুরের সহজ স্বীকারোক্তি। -তোমার এইটা কি আসার সময় হলো? আমি তোমারে নিয়া আর পারতেছি না। নাকি আমি খালেকরে কাম দিয়া দিব? খালেক তো এমন করত না। সে আমারটা খুব ভালোই দেখত।’ আমিনুল খিস্তে উঠে।

মনসুর চেহারায় কমনীয়তার উপস্থিতি নিয়ে আসে।

-খালেকরে কাম দিয়া দিলে তো আর আমি কিছু কইতে পারুম না তয় কিনা আপনেরো একটু বিবেচনা করতে হবে। আমারো তো জীবন আছে!’ মনসুর বলে।

-তোমারও জীবন আছে আমারও জীবন আছে। সামনে ঈদ ওই চিন্তাটা কি তোমার মাথায় আছে। অনেক টাকার দরকার এখন আর তুমি কিনা আসো দেরি করে।’ আমিনুল বলে।

-ঠিক আছে ছার, আর দেরি হইব না। ওই যে বাসডা খারাইছে, ওইটারে আগে ধরেন’ মনসুর কথাটা উচ্চারন করেই রাস্তার পাশে দাড়ানো পানের দোকানের কাছে দাড়ায়। আমিনুল বাসটির দিকে এগিয়ে যায়। এবং গাড়ীর ব্লুবুক বের করে আনে।

মনসুর থাকে মিরপুরে। একটা নির্মানাধীন বাড়ির নীচ তলায়। বাড়িটা তার দূর সম্পর্কের মামার। মামা পুরা পরিবার নিয়ে থাকেন জার্মানিতে। মনসুর একাধারে বাড়ির কেয়ারটেকার এবং দারোয়ান। আর যে সময়টা তার বাইরে কাটে সেই সময়ে তার হয়ে কাজ করে আমেনা-মনসুরের স্ত্রী। সেই সুবাদে একটা টাকাও বাড়ি ভারা লাগে না। অবশ্য এটাকে এখনও বাড়ি বলা চলে না, কনক্রিটের একটা কঙ্কাল বলা চলে। তাই কেয়ারটেক করার কিছু নাই। শুধু দখলদারিত্বের দায়ভার বহন করে চলা। টিন দিয়ে একরকম জোড়া-তালি দেয়া তার একমাত্র ঘরটা। দুই ছেলেকে নিয়ে বেশ ভালোই কেটে যায় তার। মনসুরের কাজের ধরণ খুব সামান্য আবার এক দিক দিয়ে কঠিন। গাড়ীর লোকদের কাছ থেকে ট্রাফিক সার্জনের সরাসরি টাকা নেয়া কষ্ট। তাতে অনেকের নজর পরে আর একবার যদি কোন সাংবাদিকের দৃষ্টি পরে তাহলে অনেক কিছুই হতে পারে। মনসুর গাড়ীর থেকে এই টাকা তোলার কাজটাই করে। প্রতি গাড়ী ২০০ টাকা। এইভাবে আট ঘন্টার ডিউটিতে গড়ে তিন হাজার টাকা রোজগার হয় রোজ। আর দৈনিক ভিত্তিতে আমিনুল তাকে পারিশ্রমিক দেয়। টাকার অংকটা আমিনুলের জন্য সামান্য হলেও তা মনসুরের জন্য খারাপ না।

আজ মনসুরের মন ভালো নেই। সকাল বেলা চিঠি পেয়েছে সে। গ্রাম থেকে আসা সেই চিঠির বিষয়বস্তু ভয়াবহ, মনসুরের বড় ভাই বাসে উঠতে গিয়ে গন্ডগোল বাধায় কন্ট্রাকটরের সাথে আর তা থেকেই হাতাহাতি শুরু হয় আর বাস-স্ট্যাফ তাকে বেদম পিটুনি লাগায়। তার ভাই এখন হাসপাতালে। অবস্থা বেশ খারাপ। কিছু একটা হয়েও যেতে পারে। কিছু একটা হলে অবশ্য এক দিক দিয়ে ভালোই হয়। কোন পিছুটান আর থাকে না। জন্মের শক্ত শিকরটা খুব সহজেই আলগা করে নিতে পারবে সে। হিসেবমতন তাকে আজই যেতে হতে পারে কিন্তু তার যাওয়ার কোন উপায় নাই। অনেক কাজ তার। এইসব কাজ না করলে তাকে একরকম না খেয়েই থাকতে হবে। এই ধরনের কাজ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এই ঈদের সময়ে তার কোনো দরকার নাই হাতে ধরে এই কাজটা হারার।

আজ শফির মনটা খুব উড়ু উড়ু করছে। মেঘমুক্ত আকাশের দিকে অনেক্ষণ তাকিয়ে থাকার ফলে যেরকম ঔদাসিন্য আচ্ছন্ন করে অনেকটা সেরকম উদাস। আজকে কাজে না যেয়ে বরং তার মার্বেল খেলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু বাকী ছেলারা তার এই প্রস্তাবে রাজি হওয়র কথা না। সারাদিনের কাজ এখনও শুরু হয় নাই। ছেলেরা এখনও আসে নাই। সবাই মিলে আজকে কাগজ কুড়াতে যাবে বনানী পার্কে। মজাই হওয়ার কথা। বনানী পার্ক জায়গা হিসেবে ‘ফাছ কেলাস’। পাতা কুড়াতে কুড়াতে গান শোনা যায়। আজিব ব্যপার, মানুষের কাজ কামের যে কি তামাসা! শফি মনে মনে ভাবে। অবশ্য তাকে অনেক কিছুই ভাবতে হয়। এগারো বছরের এই ছোট্ট নির্মম জীবন তাকে অনেক কিছু ভাবতে বাধ্য করেছে। যেমন, যে বার সাদা-গাড়ীটাতে করে ময়না বু’কে কিছু লোক উঠায়ে নিয়া গেল এবং দু’দিন কান্নাকাটির পর সবাই ভুলে গেল সব-শফি খুব ভেবেছে সেই সময়টা। অবশ্য ভাবনার অনেক কারণ। ফুলিও বড় হচ্ছে। আর সাদা গাড়ির সাথে এখন একটা নীল গাড়িও জুটেছে। গাড়িতে-গাড়িতে বন্ধুত্ব খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে যায়। ফুলি শফি’র একমাত্র বোন। শফি আর ফুলি থাকে বনানী টেলিফোন অফিসের বস্তিতে এক বৃদ্ধার সাথে। বৃদ্ধার সাথে তাদের কোন পারিবারিক সম্পর্ক নেই কিন্তু আত্মীয়তা আছে। বৃদ্ধা খুব ছোট থেকেই বড় করছে এই দুইজনকে। স্ত্রী জাতির মা-মনটা কখনই বুঝি মরে না।

বিকেল বেলা নিজের কাগজের বোঝাটার দিকে তাকিয়ে বেশ হাসিখুসি হয়ে ওঠে শফির মন। অনেক ভালো ভালো কাগজ আজকে সে পেয়েছে। হেসে খেলেই ১৫ টাকা পাওয়া যাবে। সবাই দলবেধে সর্দারের কাছে যাচ্ছে কাগজ বেঁচতে। শফির খুব ভালো লাগে যখন সর্দার হাতে টাকা তুলে দেয়। টাকা জিনিসটা শফি’র খুব ভালো লাগে। টাকার মূল্যই তার এই ভালো লাগাটার জন্ম দিয়েছে। ইদানিং ঘুমের মধ্যেও সে টাকাকে স্বপ্নে দেখে। আজকে বিশাল লাইন পড়েছে। শফি লাইনের অনেক পিছনে। অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাকে। যদিও অপেক্ষা করতে তার খুব ভালো লাগে না। অপেক্ষা মানেই সময়ের অপচয়। আর শফি’র বৈচিত্রময় জীবন কিছু বুঝুক আর নাই বুঝুক সুর্যের উপস্থিত সময়টাকে খুব গুরুত্বের সাথে দেখে। তাকে দেখতে হয়। অনেক্ষন পর শফি কাগজগুলো দেওয়ার সুযোগ পায়। ‘কীরে শইফ্ফা, তর কাগজ গুলান তো চিল্লিক পারতাছে! কই থাইক্যা আনলি?’ সর্দার বেশ তাচ্ছিল্যের সাথে বলে। ‘পাইছি। তয় কই পাইছি তা কইবার পারুম না। পোলাপান হুনব’ শফির জবাব। ‘ঠিক আছে পুরা ১৭ ট্যাকাই পাবি। কাইল নিয়া যাইস’ সর্দার বলে। শফির চেহারা অন্ধকার হয়ে আসে। কী হবে এখন! আজকের দিনটাতে টাকা অবশ্যই দরকার, বুড়ির আস্তানায় চাউল নাই। চাউল না নিতে পারলে তিন তিনটা মানুষের উপোস যাবে রাতটা। যেদিন টাকা পরের পকেটে থাকে সেদিন ক্ষধাটা খুব বেড়ে যায়। এটিই শফির ভয়। আরো ভয় ফুলিরে নিয়া। ফুলি’র ধারণা শফি তারে খাইতে দিবেই। আরো সমস্যা বুড়ির ঘরেরও চাউল শেষ। বুড়ির ছেলে গত সপ্তাহে আসতে পারে নাই। একেবারে বিপদের উপরে বাঘের বাচ্চা।

আমিনুলের মনে আজ বেশ ফুর্তি। অনেক টাকা আজকে পকেটে এসেছে। চার হাজার সাতশ সত্তুর টাকা। এই আশাতীত অর্থযোগের পরিণামে সে শীষ দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তদেহে কোন শব্দ বের হচ্ছে না। আমিনুল তবুও চেষ্টা করছে। এই রকম রোজ টাকা আসলে তার একটা স্বপ্ন পূরণ হবে এবার। সে একটা মাইক্রবাস কিনে দিবে বাড়িতে, ভাড়া খাটার জন্য। ভারার টাকায় তার পরিবারে একটা বাড়তি স্বচ্ছলতা আসার কথা। আমিনুল মোটর সাইকেলের গতি অজান্তেই বাড়িয়ে দেয় এবং পরক্ষণেই তা সাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনে। আমিনুল খুব সাবধানি হয়ে ওঠে। জীবনের যতগুলোন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে সবগুলোই হয়েছে তার খুশির কারণে। মহাখালির ফ্লাইওভার সমস্যা এড়াতে সে আজকে তেজগাঁ দিয়ে ঢুকে পড়ল। গুলশান এলাকা ছেড়ে কাকলী দিয়ে বেড় হওয়ার ইচ্ছা তার। পেটের ক্ষিধেও মাথা চাড়া দিয়ে তার প্রয়োজনের কথা স্মরণ করে দিচ্ছে বার বার। বনানী বাজারের কাছে এসে সে একটি রেস্টুরেন্ট খোলা পেল। সস্তার রেস্টুরেন্ট, সামনে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে দাড়িয়ে। মোটর সাইকেল থেকে সে নামতেই দোকানের ছেলেটি বেশ ভীত চোখে এগিয়ে আসে। ট্রাফিক সার্জন এবং পুলিশ ইন্সপেক্টরের মধ্যে কোন পার্থক্য সে করতে পারে না। অবশ্য অস্বাধারণ মানুষরাও এই পার্থক্য সহজে করতে পারবে না। ট্রাফিক সার্জনদের সার্টের ঘারে যে দুইটা লাল দাগ থাকে সেটিই একমাত্র তাদের পরিচয় বহন কারী। এই ক্ষুদ্র পার্থক্য সবাই করতে পারারা কথ না। ‘কী খাইবেন ছার?’ বেশ সংশয়ে দোকানের ছেলেটি জিজ্ঞেস করে। তার ভয় এই পুলিশ আবার টাকা চাইয়া বসে কীনা। আরো ভয় খাওয়া শেষে বিল না দিয়াই চলে যেতে পারে। আমিনুল ভিতরে ঢুকে সবচেয়ে ভালো খাবার গুলোর অর্ডার দিয়ে দেয়। দোকানে দ্বিতীয় কোন খদ্দের নেই। সে খেতে শুরু করে।

বনানী বাজারের এই খাবারের দোকানটায় এর আগেও ফুলি সহ অনেকবার খেয়েছে শফি। সেই সুবাদে দোকানের কর্মচারির সাথে তার সামান্য পরিচয়ও আছে। সেই সামান্য পরিচয়ের ভরসায় আজকে দোকানে এসেছে সে; যদি বাকীতে দোকানের ছেলেটি তারে খাওয়ায়। কিন্তু পুলিশ ছারের খাওয়া নিয়া সে যেমন ব্যস্ত কথাটা তাকে বলাও যাচ্ছে না। অন্যদিন যে সাহসে দোকানে নির্দিধায় প্রবেশ করা ছিল তার স্বাভাবিকতা, আজকে সেই সাহসটি পকেট থেকে হাওয়া। তাই দুই ভাই বোন দাড়িয়ে পুলিশ ছারের খাওয়া দেখছে। এই সময় দোকানের লোকটি তাদের দিকে তাকায়। কর্মচারিটি বেড় হয়ে আসে। ‘কীরে শফি, বাইরে দাড়ায় আছস ক্যান? ভিতরা আয়। খাবি না?’ শফি ভারী অবাক হয়। এই লোক তারে নাম ধইরা ডাকল! তার নাম সে মনে রাখছে! শফি তবুও ভিতরে যায় না। দাড়িয়েই থাকে। আর ফুলি তার হাত ধরে সমানে টানছে ভিতরে যাওয়ার জন্য। টাকা জিনিস টার মাহত্য এখনও তার বুদ্ধির সীমায় আসে নাই। তাই সামনে খাবারের সম্ভার তার ছোট্ট মাথায় রিতিমতন বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে দিল। দোকানের লোকটা তাদের এই পরিস্থিতির কারনটা আঁচ করতে পারে। এমনিতেই আকাশ খারাপ হওয়ার কারণে দোকানে মনে হয় না আজকে আর কোন কাস্টমার আসবে। আর না আসলে অনেক খাবার এমনিতেই তাদের নষ্ঠ হবে আজবে। তাই বলে বসে ‘কীরে ট্যাকা নাই?’ শফি মাথা নাড়িয়ে তার জবাব দেয়। ‘আইচ্ছা যা, আইজ ট্যাকা না দিলেও চলব। পরে আইসা দিয়া যাইস।’ শফির চোখে পানি এসে যায়। এ যেন একুইরিয়াম মাছের নদী আবিস্কার!

শফি’দের কথপোকথন আমিনুলের কানে আসে। তার পাতে তখনো অর্ধেক খাওয়া মুরগীর রান। একপাশে পাংগাস মাছের পেটি। কী মনে করে সে বরে ফেলল ‘বাচ্চা দুইটারে মুরগী আর পাংগাস মাছ দে। ওরা খাউক। আমি দেখি।’ দোকানের লোকটি চাওয়া-চাওয়ি করে। তারপর আমিনুলের অর্ডার দেয়া খাবার গুলো এগিয়ে দেয় শফি’র টেবিলে। একই সঙ্গে মাছ আর মাংস দেখে ফুলি তো চোখ উপরে তুলে আমিনুলকে দেখা শুরু করল। তারপর শুরু করল খাওয়া। বুভুক্ষ মানুষের খাওয়া খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়। খাওয়া শেষে বুড়ির জন্য খাবার প্যাকেট করে নিল তারা। আমিনুলের দিকে মিষ্টি হেসে তারা বিদায় নিল। আকাশের অবস্থা তখন বেশ খারাপ। ‘আজ রাতে ঢাকা শহরের খবর আছে’ আপন মনে বলে আমিনুল। রাতে ভিজতে ভিজতে সে বাসায় পৌছল। তখন রাত ঠিক বারটা। এসময় তার মোবাইল ফোনে অজানা একটা নাম্বার থেকে ফোন এল। আমিনুল ধরতে গ্রাম থেকে ফোন করা ওপাশের চাচা জানাল যে মনসুরের ভাই মারা গেছে। ফোন রেখে দেওয়ার পর সে খালেকের বাসার পাশের ফোনের দোকানের নাম্বারটা বের করে রাখল। সকালে তাকে এই নাম্বারে ফোন দিতে হবে। তার অনেক টাকার দরকার।

সে রাতে প্রবল বর্ষণ হলো। ঢাকা শহরের অনেক রাস্তাঘাট গেল ডুবে। কাগজ কুড়োনিরা যেসব কাগজ পরের দিন কুড়াবে বলে ভেবে রেখেছিল তা গেল ভিজে। কিন্তু তারপর!

তারপর আবারো সকাল হয়। আবারো একটি দিনের জীবন সংগ্রামে নামে প্রতিটি মানুষ তার স্ব-স্ব ক্ষেত্রকে ঘিরে। আর একটি গল্পের জন্ম হয় এই ভাবে।

মিরপুর-ঢাকা

২৫ সেপ্টেম্বর/২০০৪

· ·

DSCF0364

ফুলকুমার নদী। ছবিটি তুলেছিলেন ডাঃ রোনাল্ড হালদার। আমরা ২০০৩ সালে বেড়াতে গিয়েছিলাম।

· · · ·

এক.
রাত ৩:৪০ মিনিট। আজহার সাহেবের ঘুম ভেঙে গেল। ঘর অন্ধকার। তাকে কেউ সময় বলে দেয়নি। কিন্তু তিনি খুব ভালো করেই জানেন এখন রাত ৩:৪০। গত দুই মাস ধরে কোন এক বিচিত্র কারণে তার এই সময় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। অসময়ে ঘুম ভেঙে গেলে আজহার সাহেবের মন হাহাকার করে উঠে। খুব গল্প করার ইচ্ছে হয় কিন্তু উপায় থাকে না। জাহানারার ঘুম এই সময়ে ভাঙালে প্রচন্ড বিরক্ত হবে। যেদিন প্রথম ঘুম ভেঙে গেছিল সেদিন জাহানারাকে ডাকতেই খেই করে উঠেছিল। খুব দ্রুত জাহানারা পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। এর জন্য কি বয়স দায়ী। ‘বয়সের সাথে সাথে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হয়’ বিষয়ক একটা বই অনেকদিন আগে পড়া হয়েছিল কিন্তু এই মুহুর্তে কিছুতেই নামটা মনে করতে পারছেন না তিনি। খুব চিন্তিত হয়ে পরছেন, নিজের স্মৃতি এখন তাকে নিয়ে খেলছে এবং বার বার তিনি হেরে যাচ্ছেন। আজহার সাহেবের পানির পিপাসা পেয়ে গেল। অন্ধকারেই তিনি পানির গ্লাসের জন্য হাত বাড়ালেন। পানির গ্লাস নেই। এমনটা হওয়ার কথা নয়। নাকি এখানে পানির গ্লাস থাকার কথা নেই! তিনি বেড সুইস টিপে বাতি জ্বালালেন। না পানির গ্লাস আসলেই নেই।
-জাহানারা। জাহানারা। একটু উঠো তো।
-লাইট বন্ধ করো। এখন কয়টা বাজে?
-৩:৪০ (খুশি খুশি গলায় জবাব দেন আজহার সাহেব। স্ত্রীর এই প্রশ্নে তিনি বিগলিত)
-এত রাত্রে তুমি কি করছ? (গলায় বিরক্তি প্রকাশ পেল পুরোভাবেই)
-কিছুই না। ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল। খুব পানি পিপাসা পেয়েছে।
-পানি পিপাসা পেয়েছে তো পানি খাও। আমাকে ডাকাডাকির তো কিছুই দেখতে পারছি না।
আজহার সাহেবের চেহারা মিইয়ে যায়। একটা সময় থাকে যখন মানুষের আর নৈত্তিক প্রয়োজন থাকে না। আজহার সাহেবের এখন সেই সময়ই চলছে বলে তিনি মনে করেণ। আজহার সাহেবের নিজের শরীরটাকে খুবই ভারী মনে হচ্ছে। তিনি তার শরীরটাকে টেনে টেনে ডাইনিং রুমের দিকে নিয়ে গেলেন। রাত ৩:৫০ মিনিটে দেখা গেল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবসর প্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব আজহার আহমেদ ফ্রিজ থেকে বরফ-শীতল পানি বের করে ঢক ঢক করে খাচ্ছেন।

দুই.
রূপকথাদের বাড়িটা বনানীর ১৭ নম্বর রোডে। পুরোনো ধাচের একটা দোতলা বাড়ি। যার কল্যাণেই হাউজিং কোম্পানিগুলোর নজর এখন ছয় কাঠার এই বাড়িটার দিকে। এই বাসাটা হচ্ছে এমন একটা বাসা যার সবকিছুই উল্টো নিয়মে চলে। যেমন সাধারণত বাবা-মা থাকে নীচ তলায় আর ছেলে-ছেলে বৌ থাকে উপরে কিন্তু এই বাসায় উল্টো। রূপকথার বড় ভাইয়া শান্ত ও তার সদ্যপরিণিতা লাবনী থাকে নীচতলায়। রূপকথার পাশের ঘরে। মেজ ভাই প্রাঞ্জল থাকে বাবা মার সাথে উপরে। রূপকথা এবার ঢাকা ভার্সিটেতে ভর্তি হয়েছে ভূগোলে। মেজভাই পাশ করেছে এক বছর হয়, এখনও কিছু করছে না। অবশ্য তার কিছু করার ইচ্ছে আছে বলে কেউ মনে করে না এই বাসার। রূপকথা ঠিক করেছে সে হিসেব রাখবে যে প্রাঞ্জল মাসে বাসায় কয়টা কথা বলে। যদিও প্রাঞ্জল রূপকথার ৬ বছরের বড় কিন্তু তাকে সে তুই তুই করেই বলে। আর বড় ভাইয়া শান্তু পুরোপুরি অশান্ত। সারাদিন বক বক করছে। অথচ খুবই ভালো চাকরি করে সে একটা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে বাসার সব মানুষ তাকে এবং তার সদ্য বিবাহীতা স্ত্রীকে নিয়ে নানান রসিকতা করছে কিন্তু তারা বুঝতেই পারছে না।

আজ খুব ভোরে উঠেছে রূপকথা। অনেক ভোরে। আজ রূপকথার জন্মদিন নভেম্বর। কিন্তু তাকে এখনও কেউ শুভেচ্ছা জানায় নি। অবশ্য ঘটা করে জানানোর কোন কারণও নেই। সে যে একুশটি বছর শেষ করে ফেলল তাকে যতটা আলোড়িত করছে, আশপাশের কাউকেই তা স্পর্শ করছে না। রূপকথার মন বিষন্নতায় ছেয়ে যায়। গলার কাছে কি যেন শক্ত হতে থাকে।
‘শুভ জন্মদিন’ বলেই সামনে বিশাল একটা ফুলের তোড়া রেখে দিল প্রাঞ্জল। রূপকথা বিস্ময় গোপন করতে পারেনা।
-ভাইয়া তুই একি করেছিস!
-তোর জন্য নিয়ে এলাম।
-তোকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া
জবাবে প্রাঞ্জল মিটি মিটি হাসতে থাকে। কিছু কথা বলে না। তার এমন ভাব রূপকথার জন্য যে কথার বাজেট ছিল তা বলা হয়ে গেছে। বাড়তি কথা বললে এর জন্য বাজেট ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এবং তা হয়ে গেয়ে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট্য কোন তদন্ত কমিটির কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে দিনের পর দিন। মিটি মিটি হাসিমুখ নিয়ে প্রাঞ্জল উপরে চলে যায়।
রূপকথার মনটা হঠাৎ করেই খুব ভালো হয়ে যায়। যাকে বলে ‘মেঘ না চাইতেই প্লাবন’ অবস্থা। আজকে সারাদিনের পরিকল্পনা তার মাথায় ছিল। তবুও আর একবার ঝালাই করে নেয় মনে মনে। প্রথম পরিকল্পনা মতো রূপকথার তার লেখার খাতা খুলে বসে। ‘আজ আমার একুশতম শুভ জন্মদিন’ এতটুকু লিখেই রূপকথা থামে। এবং সাথে সাথেই শুভ শব্দটি কেটে দেয়। আর লেখা এগোয় না। রূপকথা খাতা বন্ধ করে উপরে উঠে যায়। উপরে তার প্রিয় বারান্দা। যেখানে একটি দোলনা আছে। ছোটবেলা থেকেই রূপকথা দোলনায় দোল খেতে ভালোবাসে। তার বাবা আজহার আহমেদ খুব শখ করে কিনে এনেছিলেন এই বাহারী দোলনাটি। যা কিনে আনার পর রূপকথার মা জাহানারা বেগম স্বামীকে কথার বাণে রিতিমতন ‘ধোলাই দিয়েছিলেন’। সত্যিকার অর্থে তাদের বাসায় সেই সময় সেটাই ছিল সবচেয়ে দামী আসবাব।

দোলনায় দোল খেতে খেতে রূপকথা বাইরে তাকায়। দেখার মতন কিছুই নেই। শুধুই ইট-কাঠ মার্কা একটা পরিবেশ। তবুও আজকে তার দেখতে ভালো লাগছে। বাসার সামনে ক্যাবলটিভির তারে বসা কাকগুলোর তান্ডবও তার আজকে খারাপ লাগছে না। খারাপ লাগার কারণও নেই। আজকে একটি বিশেষ দিন। আজকে রূপকথার জন্মদিন। আজহার সাহেব চায়ের কাপ হাতে নিয়ে রূপকথার পিছনে এসে দাড়ালেন।
-কীরে মা। করছিস কি এত সকালে?
-কিছু না বাবা। কাক দেখছি।
-কাক আবার দেখার কি হলো?
-এমনি বাবা, দেখার কিছু নাইতো, তাই।
-তা ভালো। তবে কাক কিন্তু মোট ৬ প্রকার। যদিও আমাদের দেশে মাত্র দুই প্রকার কাক দেখা যায়।
-বাবা, তুমি তোমার ঔষধ খেয়েছো?
চেহারায় অন্ধকার নেমে আসে আজহার সাহেবের। তিনি ঔষধ খাননি। তাই তরিঘরি করে তিনি তার ঘরে চলে গেলেন। আর রূপকথাও হাপ ছেড়ে বাঁচল। আজহার সাহেবের জীবনের একমাত্র ধ্যাণ জ্ঞান হচ্ছে বই। এবং তিনি সুযোগ পেলেই তার জ্ঞান জাহির করতে বসেন। যা সবসময় হজম করা সুখকর নয় কারোরি জন্য। আজহার সাহেবকে রূপকথার খারাপ লাগেনা, তবে তার একমাত্র সমস্যা হচ্ছে সময় জ্ঞান। বাবার কোন ধারণাই নেই যে পৃথিবীর সব মানুষই ব্যাস্ত এবং সবারই নিজস্ব একটা জগত আছে। নিজের সেই জগতকে আবিস্কার করতে করতে মানুষ প্রচন্ড বিস্ময় নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। রূপকথা অপেক্ষা করতে থাকে। ডাইনিং উপরের তলায় বলেই সবাইকে উপরে আসতে হবেই। তবে বড় ভাইয়ার কথা বলা যায় না। দেখা যাবে ঘরেই নাস্তা চেয়ে পাঠিয়েছে। বিয়ের পর ভাই সাধারণত নাস্তার টেবিলে আসে না খুব একটা। রূপকথার খুব ইচ্ছে দেখার যে ভাইয়া কেমন করে নাস্তা করে ঘরে বসে। নিঃ সন্দেহে একজন আর একজনকে অনেক ন্যাকামো করে খাওয়ার জন্য সাধাসাধি করে কিংবা একজন আর একজনকে খাইয়ে দেয়। সকাল আটটা বাজতেই এক এক করে সবাই নাস্তার টেবিলে হাজির হল। জাহানারা বেগম অবশ্য রান্নাঘর থেকে বের হননি। বাসার পুরোনো বুয়াÑফরিদা বুয়াকে নিয়ে সকাল সাতটা থেকে তিনি রান্নাঘরে অবস্থা করছেন। তার একমাত্র মেয়ের আজকে জন্মদিন এটা তার মাথা থেকে হাওয়া হয়ে গেছে। আজ নিয়মের ব্যাতিক্রম করে শান্ত ও লাবনী নাস্তার টেবিলে এসেছে। নাস্তার টেবিলেই এই বাসার প্রধাণ অধিবেসন হয় রোজ। সারাদিনের নানা কাজের কথা (যদিও তার ৭০ শতাংশই হয় অপ্রাঙ্গিক) এবং এই টেবিলেই সবাই একটু স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। নাস্তার টেবিলে সবাই বসে আছে, শান্ত তার স্বভাবসুলভ একটানা কথা বলে যাচ্ছে আর প্রাঞ্জল শুনছে। লাবনী কিছু বলছে না তবে মুখ নিচু করে হাসছে মিটি মিটি করে। রূপকথা আজ কিছুই বলছে না, তার সমস্ত ইন্দ্রিয় সজাগ একটি ফোনের জন্য। ফোন আসছে না কেন?

তিন.
সকাল বেলাতেই মনটা খুব উদাস থাকে আবিরের। ইদানিং এই রোগ ধরেছে। বিবর্তনের ধারায় প্রকৃতির সবচেয়ে বিস্ময়কর জীব মানুষ। কিন্তু আবিরের মধ্যে কিছুটা সমস্যা যাচ্ছে। সে বিস্মিত হবার চেষ্টা করছে, কিন্তু ইদানিং সে বিস্মিত হতে পারছে না। তার বিস্মিত হওয়ার স্থানে যোগ হয়েছে বিষন্নতা। ইদানিং ভবঘুরে একটা ইচ্ছে তৈরি হচ্ছে। সে বুঝতে পারছে না এর কারন কি? রূপকথার বাবাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে। এই যেমন এখন সকাল ৮:১০। সে দাড়িয়ে আছে মানিক মিঞা এভিনিউয়ের মাঝখানে। তাকিয়ে আছে সংসদ ভবনের দিকে। তার দাড়িয়ে থাকার মধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা নেই। কিন্তু সে নিজেই জানে তার মধ্যে স্বাভাবিকতা বিরাজ করছে না। সে ক্রমাগত চোখ পিট পিট করছে। সামনের সংসদ ভবনসহ তার চত্তর অন্ধকার হয়ে আসছে। আবীর একটা গাছকে ধরে বসে পড়ল। ভাগ্যিস বিশাল মানিক মিঞা এভিনিউকে দুই খন্ড করা হয়েছিল, তাই রক্ষা। তার শরীর বেশ দুর্বল এখনও। কিছুদিন আগে তাকে হাসপাতাল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ‘ডেঙ্গু জ্বর’ নামের নতুন এক ধরনের উত্তাপ উৎপাদক ব্যাধি তাকে আক্রান্ত করেছিল কিন্তু বেশি সুবিধা করতে পারে নি। আবির থাকে ধানমন্ডি। আজ ঘুম থেকে উঠেই তার মনে হয়েছিল আজকে রূপকথার জন্মদিন। তাই সে বাধ্য হয়ে বের হয়েছে। তার কখনই সকাল বেলা বের হতে ইচ্ছে করে না। তার কোন কাজ নেই। একমাত্র কাজের লোকরাই সকাল বেলা ঘরের বাইরে যায়। সে যে কাজ করে তাকে কখনই তার জন্য সকালে বের হতে হয়নি এবং হবেও না। একটি আই এস পিতে (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার) রাতের শিফ্ট এ কাজ করে সে। যদিও কাজ করার কোন দরকার নেই, কিন্তু আবীর তবুও করছে। কাজ করছে সে তার বাবার হাত থেকে বাঁচার জন্য। কতটুকু কাঁচামাল থেকে কি পরিমাণ সুতা হয় কিংবা কোন সুতা থেকে কি কোয়ালিটির কাপর হয় সেই হিসাবের চেয়ে কম্পিউটারে ভাইরাস বানানোর কাজ তার কাছে অনেক বেশি সহজ এবং আনন্দদায়ক। সে বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পাশ করেছে আর তার মধ্যে আছে প্রচন্ড কম্পিউটার প্রেম। এই দুইয়ের কল্যাণেই আবীরেরএই চাকরি। যদিও এর মধ্যে আবীরের বাবা নিয়ামত তালুকদার হালকা ভাবে বলেছেন যে তিনি নিজেই একটি আই.এস.পি দিতে চান। অবশ্য তার পক্ষে এটা বলা যতটা সহজ করা তার চেয়ে আরও সহজ। টাকার কোনো কমতি তার নেই। সে ভুলেই তার বাবার ফাঁদে পা দিবে না। আবীর ইদানিং প্রায়ই ভাবে মানুষ কেন পাখিদের মতন হলো না। বিভিন্ন ডালে ডালে ঘুরে বেড়ানো। ঘর বাধ আবার সেই ঘর ছেড়ে চলে যাও। অন্তত সেই সিস্টেমে তার বাবার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যেত।

আজকে যে সময় আবীরের ঘুম ভেঙেছে তাও নিয়মের ঘুম ভাঙা। এই সময় সে উঠে নাস্তা খায় এবং নাস্তা শেষ করে আবারও ঘুমিয়ে পরে। তার এটা অভ্যেস। ধানমন্ডিতে প্রাসাদতূল্য আবীরদের বাসাটাতে সদস্য সংখ্যা অপ্রতুল। সেই অপ্রতুলতাকে সমতায় এনেছে সামনের লেক। লেকের পানিতে সকালের কাঁচা সূর্যের কীরণ আবীরের রুমের ছাদে খেলা করে। আর সেই সময় সে আলোর খেলা দেখে। এটা তার শৈশব কালের অভ্যাস, হয়তো আরও আগের। আবীরের বর্তমান রুটিনের কল্যাণে বাসার অন্য সদস্যদের সাথে তার দেখা এবং কথা দুটোই খুবি কমই হয়। তাদের সময়ের পাল্লা এবং তার সময়ের পাল্লায় স্থায়ীভাবেই ওজনের কমবেশি। তাদের দেখা হওয়ার কোন লজিক নেই। আজকে কোন যানবাহনে উঠতে ইচ্ছে করছে না আবীরের। আজকে হাটবে। যতক্ষন হাটার মতন তার ক্ষমতা আছে। তবে এই হাটা সে শেষ করবে রূপকথাদের বাসার সামনে। আজ ৯ নভেম্বর। আজ তাকে যেতেই হবে। সে উঠে দাড়ায়। সাবধানে বিশাল রাস্তাটাকে ক্রস করে আবীর। সামনেই ভ্রাম্যমান খাবারের দোকান। দোকানের নাম ‘ইয়ান তুন খাইজান’। আবীরের মাথায় চট করে প্রশ্ন উঠল এই বিচিত্র চাইনিজ নাম কেন এই দোকানের? এ ধরনের নাম থাকবে তো বিশাল কোন চাইনিজ রেস্তোরায়। যে রেস্তোরার ভিতরে ঢুকলে নিজের চেহারাই বুঝা যাবে না অন্ধকারে। তারপর সেই অন্ধকারে স্যুপ হাতে নারাচারা করতে হবে। এবং কোন খাবার অবশ্যই হাত দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না। চাইনিজ খাবার হাতের স্পর্শে অপমানিত বোধ করে!
-ভাই, এই দোকানের নামের অর্থটা জানতে পারি?
-এটা একটা ‘চাটগাইয়া’ শব্দ। এর অর্থ এখান থেকে খেয়ে যান।
বিস্মিত হয় সে। এবং আরও বিস্মিত হয় এই ভেবে যে সে বিস্মিত হতে পেরেছে। কোন উদাসি রোগে ধরা মানুষ বিস্মিত হতে পারে না। আবীরের বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয়নি তাহলে।
-আপনার দোকানের সবচেয়ে কোন খাবারটা মজার?
-চটপটি খান। চটপটি গড়ম আছে। অবশ্য অন্য কোন কিছু এখনও তৈরি হয়নি। সবে মাত্র দোকান খুললাম। তবে আমার চালু আইটেম ফুচকা।
-ঠিক আছে। চটপটিই দিন দুই প্লেট। আমার প্লেটে ঝাল কম দিবেন।
দোকানের লোকটি চটপটি বানাতে লেগে গেল এবং জিজ্ঞেসও করল না আর এক প্লেট কার জন্য করতে বলা হয়েছে। এর মনে হয় বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের কি বিভিন্ন পরিবেশে বিস্মিত হওয়া নির্ভর করে? রূপকথার বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। এবং তার গুরুতর সন্দেহ ভদ্রলোক শেষ পর্যন্ত বিশাল একটা হাইপোথিসিস তৈরি করে ফেলবেন যার শেষটা অবশ্যই তথ্য সংগ্রহ পর্যন্ত গড়াবে। তবে আরও একটা সম্ভাবনা আছে, তা হলো রূপকথা তাকে রক্ষা করতে পারে।

চটপটি তৈরি হয়ে গেছে। তার সামনে ধোয়ায়িত দু’টি প্লেট। বেশ হলুদ হলুদ একটি ভাব। তবে তা রোদের জন্যই মনে হয়। সে প্রকৃতি প্রেমিক নয়। সে যন্ত্রপ্রেমিক। এই হলুদাভাব তাকে আকর্ষণ করল না। মে দোকানের লোকটিকে জিজ্ঞেস করে ‘ভাই আপনার নামটা জানতে পারি?’
-আমার নাম কাজল।
-কাজল সাহেব, আমার সাথে এক প্লেট চটপটি খেতে কি আপনার কোন আপত্তি আছে? আমার নাম আবীর।
কাজল কোন জবাব দেয় না। সামন থেকে চটপটির প্লেট উঠিয়ে নেয়। খাওয়া শুরু করে। তার মধ্যে নির্বিকার ভাব। আবীর বিস্মিত হয়। আজ পর পর দুবার বিস্মিত হবার ঘটনা ঘটল। জেনে শুনে বিস্মিত হওয়ার কোন উপায় থাকলে বেশ ভালো হতো।
-কত টাকা হলো?
-আবীর ভাই, টাকা দিতে হবে না। তবে একটা টাকা দেন। প্রথম কাস্টমার তো। প্রথম কাস্টমারকে তো আর ফাও দেয়া যায় না। আপনি সময় করে আর একদিন আইসেন। বিকেলে আসবেন। আপনাকে স্পেশাল ফুচকা খাওয়াব।
আবীর কিছুই বলে না। হাটা ধরে। তাকে বনানী যেতে হবে।
সংসদ ভবনের সামনে দশাশই পুরুষ রমণীরা দৌড়ের কসরত করছে যদিও তাকে একরকম পাছা দোলানি হাটার মতন মনে হচ্ছে। এবং পরুষদের হাতে একটা করে ছড়ি। আবীরের খুব জানার ইচ্ছে এই ছড়িটি নিয়ে কেন হাটা হাটি করতে হবে। ছড়ির সাথে দেহঘড়ির সম্পর্ক কোথায়? আজহার সাহেবকে জিজ্ঞেস করতে হবে। সে আজকে পর পর বেশ কয়েকবার আজহার সাহেবের নাম মাথায় আনল এটাও খুব ভালো কথা নয়, সায়েন্স ফিকশনের ভাষায় এটা দশম মাত্রার অপরাধ। আজহার সাহেবকে এক রকম এড়িয়েই চলে সে। কিন্তু লোকটাকে খারাপ লাগে না। লোকটার মধ্যে আছে পরিচ্ছন্ন একটা দৃষ্টিভঙ্গি যা তাকে কাছে ডাকে। আবার ভদ্রলোক এত বেশি জ্ঞানের কথা বলেন যে তখন পালিয়ে বাঁচলেও শান্তি নেই।
আবীর র‌্যাঙ্গস এর মোড়ে যেতে না যেতেই খ্যাচ করে ব্রেক কষল একটি গাড়ি। গাড়িটা তারই। দাত কেলিয়ে রহমত মাথা বেড় করে।
‘ভাইজান আপনারে যাইতে কইছে।’ বলেই রহমতের হাসির স্পিড আরো বেড়ে যায়। আর এইদিকে তার বিরক্তি চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। কোন এক বিচিত্র ক্ষমতায় তার ড্রাইভার আজকে তাকে খুঁজে পেয়েছে। এতে অবশ্য তার বিরক্তির জন্ম নয়। বিরক্তির কারন হচ্ছে তার দিকে একপাল লোক উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যা তার মোটেও সহ্য হচ্ছে না।

-আমি এখানে তুমি তা কেমন করে জানলে রহমত?
-আম্মায় কইল আপনারে খুইজা আনতে। আমি এইদিক দিয়া বেড় হইলাম। তয় আপনেরে এইখানে পামু তা ভাবি নাই।
-রহমত তুমি আমাকে পাও নাই। তোমার আম্মাকে (আবীরের মাকে রহমত আম্মা ডাকে) বলবে আমাকে কোথাও পাওয়া যায় নাই।
বলেই আর ফিরেও তাকায় না আবীর সামনে হাটা ধরে। হঠাৎ তার মনে হল তার ড্রাইভার আবার যুধিষ্ঠির গোত্রের। এ ব্যাটা তো সত্যি কথাটাই গিয়ে বলে দিবে। সে দ্রুত গাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে রহমত তার থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। আসন্ন পরিস্থিতি বিচার করার জন্য মোটেও সময় ব্যয় করে না সে অবশ্য ইচ্ছেও নেই। সে এগিয়ে যায়।
সে যখন রূপকথাদের বাসার সামনে পৌছল তখন বেলা ১২ টা, কাটায় কাটায় ১২ টা। আবীর যেই বেল দিতে যাবে তখুনি প্রাঞ্জল দরজা খুলে বের হয়। আবীরকে দেখে কিছুই বলে না।
-কিরে খবর কি তোর?
প্রাঞ্জল জবাব দেয় না , হাসে। অনেকটা নতুন জামাইয়ের মতন, সঙ্কোচমাখা হাসি। যা দেখে আবীরের বিরক্তি বেড়ে যায়। প্রাঞ্জল তার স্কুল বন্ধু এবং একমাত্র বন্ধু।
-আমি তোর গলার আওয়াজ শুনতে চাচ্ছি, একটু কথা-তথা পাস্ র্কনা আব্বা।
-তুই এসময় কি মনে করে? সব খবর ভালো তো?
-কেন তুই কি কোন মন্ত্রীর শালা হয়ে গেছিস নাকি, যে তোর বাসায় আসতে এপয়নমেন্ট নিয়ে আসতে হবে?
প্রাঞ্জল কোন কথা বলে না। তবে ঘরের ভিতরে ঘুকে যায় এবং আবীরের গৃহপ্রবেশের জন্য অপেক্ষা করে। আবীর ভিতরে ঢুকে। ভেতরে রূপকথা সোফায় বসে আছে। তার সামনে কলকাতার দেশ পত্রিকা খুলে ধরা। চোখে চশমা। চশমাটা আগে সে দেখেনি। কালো কার্বনফ্রেমে চশমাটা ভালোই মানিয়েছে তাকে।
-কি রূপের কথা, খবরা খবর কোন চ্যানেলে?
-আপনাকে আমি কতবার বলেছি যে আমাকে ঐ নামে ডাকবেন না।
রূপকথা আরও অনেক কিছুই বলত, কিন্তু আজ সে কিছু বলবে না। আজকে তার জন্মদিন। এমনিতেই আবীরের সাজসজ্জা তার পছন্দ হয়নি। মানুষটা কি আজকে ইচ্ছে করেই অমন কাপড় পরে এসেছে! মনে হয় ঘুম থেকে উঠে আর কাপড় ছাড়ে নি।
-ভার্সিটির খবর কি? পোলাপান কি হরতাল-ফরতাল ভুলে গেল? হরতাল ছাড়া তারা পরাশুনা কেমন করে করে ?
-ভার্সিটির খবর ভয়াবহ। তবে আপনার হরতাল প্রীতির কারণটা কি?
-না এমনি জিজ্ঞেস করলাম, কথার কথা আরকি।
-আমি কথার কথা পছন্দ করি না। কথার প্রয়োজনে কথা বলা এক ধরনের মিথ্যাশ্রয়তা।
এই কথাটা বলেই রূপকথা চুপ করে যায়। কথাটা রূপকথা আজহার সাহেবের কাছ থেকে শিখেছে। তার বাবার কথা তার মধ্যে ইদানিং প্রভাব ফেলছে। রূপকথা বেশ কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করছে তাকে ভার্সিটির বন্ধুরা একরকম এড়িয়ে চলছে। কারনটা রূপকথা বের করতে পারছে না। রূপকথা কি ভার্সিটেও তার বাবার মতন কথা বলছে!
-শুভ জন্মদিন। আমি উপরে যাচ্ছি।
রূপকথা চমকে আবীরের দিকে তাকায় কিন্তু ততক্ষণে সে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছিল। রূপকথা আর কিছুই বলতে পারে না। বিষাদময়তা তাকে গ্রাস করে ফেলছে।
চার.
দুপুর বেলাটা আজহার সাহেবের জন্য ভয়াবহ একটা সময়। এই সময় বাসায় জাহানারা বেগম ছাড়া আর কেউ থাকে না। আর জাহানারা বেগম থাকাও যে কথা না থাকাও সে কথা, একটা কথাও ঠিকমতোন বলেন না তিনি। আজহার সাহেব খুব উসখুস করেন কথা বলার জন্য। নতুন কি পড়ে জানলেন তা বলার জন্য, তার মতামত কী তা শেয়ার করার জন্য কিন্তু কিছুই হয় না। তাই এই সময়টাতে তিনি লেখার চেষ্টা করেন। তবে তার লেখা কোনটাই বেশি একটা গড়ায় না। তিনি এতো দ্রুত চিন্তা করেন যে তার সাথে হাত পেরে উঠে না। তাই তিনি লেখা লিখি কিছুক্ষণের মধ্যে চুকিয়ে দিয়ে বসে থাকেন। এটাই রিটায়ার্ড করার পর থেকে তিনি করে আসছেন। বাসার কোন কিছুর ব্যপারে তার আগ্রহ বরাবরের মতন খুবই কম। তাই কোনদিন তাকে বাজারে যেতে হয় না। তাকে কেউ ফোনও করেন না , তিনিও কারও খোঁজ করেন না। একদম ডোমেসটিক। তবে আজকে আবীরকে দেখে তিনি ঝিকমিকিয়ে উঠলেন। আরও খুশি হলেন দেখে যে আবীর দোতলায় উঠছে। তিনি সিঁড়ির গোড়ায় দাড়িয়ে রইলেন।

‘আবীর, ইয়াংম্যান, মানুষের ব্রেনের সাথে কম্পিউটারের কোন ইন্টারফেস তৈরি হলো?’ জবাবে আবীর সুন্দর করে হাসি দেয় একটা। এই বিশেষ ধরনের হাসি তাদেরকে শেখানো হয়েছিল বিজনেজ কমিউনিকেশন নামের ৩ ক্রেডিট আওয়ারের একটা সাবজেক্টে। যেখানে পড়ানো হয়েছিল কাস্টমার খারাপ হোক ভালো হোক সবসময় মুখ হাসি হাসি করে রাখতে হবে। আবীর এখন একজন ‘খারাপ’ কাস্টমার সামলাচ্ছেÑহাসি হাসি মুখ করে। তার হাসি দেখে আজহার সাহেবের আকর্ণ বিস্তৃর্ণ অবস্থা। আবীরের হাত ধরে তার ঘরে টেনে নিয়ে যান তিনি। আর পুরো ব্যপারটা মিট মিট করে দেখে প্রাঞ্জল। ‘বুঝলে বাবা, বয়স বাড়ার সংগে সংগে মানুষের পরিবর্তন খুব দ্রুত হয়ে যায়। যাকে বলে র‌্যাপিড চেঞ্জ।’ আজহার সাহেব বলেন। ‘তাই নাকি? হুম্ মজার কথা’ আবীর জবাব দেয়। ‘এটা তোমার কাছে মজার কথা মনে হচ্ছে? তুমি তো এখনও শুনলেই না পরিবর্তন গুলা কোথায়। আর তাতেই তুমি মজা পেয়ে গেলে। না ইয়াংম্যান তোমাদেরও ধৈর্যশক্তির অবনতি হচ্ছে। তাহলে কী বয়স কোন ঘটনা না।’ শেষের বাক্যটা একটু আস্তে আস্তে উচ্চারণ করেন আজহার সাহেব। ‘খালুজান, বয়সের সাথে ধৈর্য নিয়ে কিছু হয়েছে কী?’ আবীর বলে। ‘হয়নি আবার! যেমন ধরো তোমার খালা, সারাদিন আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করছে, কোন ভাবেই আমাকে হেল্প করছে না, এটা বয়স বাড়ার সাথে সাথেই ঘটছে।’ আবীর জবাব দেয়ার আগেই রূপকথা নাস্তা নিয়ে ঘরে ঢুকে। আবীর এবং আজহার সাহেব মনযোগ টেবিলের উপর আবদ্ধ করেন। এর পর চা দিয়ে যায় বুয়া। রূপকথা বাবার পাশে বসে। ঘটনাক্রমে আজকের চা খুবই খারাপ হয়েছে যা এই বাসার সংবিধান পরিপন্থি। চা মুখে দিয়েই আজহার সাহেব দিলেন এক হাক ‘কী হলো আজকে চায়ে! মুখেই তো দেয়া যাচ্ছে না, চা দিয়ে কী ওজু করতে হবে নাকি?’। কোন কিছু দিয়ে ওজু করাÑকথাটা আজহার সাহেবের মুদ্রা দোষ। এই মুদ্রাদোষ হওয়ারো একটা কারণ আছে। একবার তাদের গ্রামে এক মৌলানা সাহেব বেড়াতে এসেছিলেন। খুব নাম ডাক ছিল তার। বাড়িতে আসতেই বেশ সাড়া পরে গেছিল। কোথায় বসতে দেবে, কী খাবে ইত্যাদি নিয়ে চিন্তার শেষ নাই। যখন খেতে দেয়া হলো তখন তিনি ওজু করবেন বলে বাইরে বের হলেন। বাইরে বের হতেই তার চোখে পরল পানি একটা জগ। তিনি চমৎকার করে ওজু করলেন। হুজুরের চোখের অবস্থা ছিল বেশ কাহিল। ভুলে তিনি পানির জায়গায় দুধ দিয়ে ওজু শেষ করেছিলেন। বাড়ির মানুষজন সেই পরক্রমশালী হুজুরকে কিছু বলেনি এই ভেবে যে তিনি বোধ হয় দুধ দিয়েই ওজু করেন। অবশ্য সেই দুধ ওখানে থাকার কারণও ছিল না। যে লোককে বাজারে পাঠানো হয়েছিল দুধ আনানোর জন্য তার দুধ আনা হতেই তার তলব পরে হুজুরের পা টেপার জন্য তাই তিনি দুধ বারান্দায় রেখে তরি ঘরি করে ছুটে যান ঘরের মধ্যে। আর সেই সূত্র ধরেই বিপত্তি। সেই ঘটনার পর থেকে আজহার সাহেবের এই কথার বদভ্যাস।
চা নিয়ে হৈ চৈ এর অবসান ঘটালেন জাহানারা বেগম। এই কাজটা তিনি দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্বের সাথে করে আসছেন।

(চলবে. যদি পাঠক কিছু বলেন)

a common flower in different way

There was time when I can write easily. Now those are history. Instead of writing now I can take photos. May be it is good for me. I have started taking photos when I was 7 by the inspiration of my Photographer uncle Kabir. For the information, I grew up in the village; a real remote one. Still there is not electricity in 2008!

Few months before my friend Bratya Raisu (Writer, Poet, Philosopher, Editor, Painter) told me “Why you are not starting writing again? You’ve a colorful childhood.” I didn’t answer to his question because I was searching myself. And Finally I realized my pasts are really vast.

In the very morning I have started writing on my blog. For this purpose my ex-colleague Shafqat Ahmed (www.shafqatahmed.com) inspired me. He told me I have many versatile things to write such as Computing, Internet, Web Technology, Hacking, Networking, Photography, Writing, Music, Traveling. Well it is a huge category. But from today I’ll do this.

I took this photo from Ishmam’s playground in Lalmatia, Dhaka. This is a common flower in Bangladesh. We called it “JOBA”. I didn’t do any Photoshop work here. I just played with the RAW processing.

I used my Nikon D80 with a 300mm Macro lens.

· · ·