Archive for September 2008
28
মৃত এবং জীবিতরা
11 Comments · Posted by Nirjhar in Diary, আমার ছেলেবেলা, আমার ভাবনা, ডায়েরি
এই ছবিটার নাম মৃত বনাম জীবিত। তুলেছিলাম কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে। আজকে ছবিটা আমার ফ্লিকারে পোস্ট করলাম। যেহেতু আমি এখন উপলক্ষ করছি ছবিটাকে তাই ছবির সাথে একাত্মতা করতেই হচ্ছে। এটা দায়বদ্ধতা এক ধরনের। ছবির প্রতি দায়ভার।
আমার বাড়ি কুড়িগ্রামের রায়গঞ্জে। বাড়ি যেতে পাড়ি দিতে হয় ধরলা নদী। আগে এই নদীর উপর ব্রিজ ছিল না। তখন অনেকটা পথ হেটে যেত হতো চরের মধ্য দিয়ে। অনেক কষ্টের একটা পথ। নদীর চরে সব সময় দু’জন ভিখারিনীকে বসে থাকে দেখতাম। কথনও কথা বলতো না। ফ্যাল ফ্যার করে চেয়ে থাকতো। ভাবলেশহীন (আমি তাদের সম্পর্কে আমার একটা কবিতা লিখব তে বলেছি) মুখ। আমি আজকে চিন্তা করছি তারা কী মৃতজন ছিলেন? তাদের জীবন বোধটা কী ছিল? জীবনের কোন দিকটা নিয়ে তারা ভাবিত হতেন?
অনেক নির্জনতায় আমার বাস এখন। একা একা থাকি। ভাবি। অনুভব করার চেষ্টা করি জীবনকে। এই নির্জনতায় মাঝে মাঝে নিজেকে মৃত মনে হয়। বা মৃতপ্রায়। এই অনুভবের প্রেক্ষিতে মাথায় এলো একটা সার্ভিসের কথা। এমন কোন একটা নাম্বার থাকবে। যে নাম্বারে ফোন করলে অটো এন্সার হবে। এবং যা থেকে শোনা যাবে লাইভ কোলাহল। যে সময়টা আমি অনেক নিঃসঙ্গ অনুভব করব। আমি সেই নাম্বারে ফোন করে কোলাহল শুনব। কোলাহলকে এখন জীবন মনে হয়। মানে আমার এই জীবনবোধের সাথে তুলনা করে।
এমন কোন নাম্বার কী আছে যেখানে ফোন করে মানুষের দুঃখগুলোন অটো ক্লিন করে ফেলা যাবে। ফোন করলেই অপারেটর বলবে “আপনার দুঃখ ডাউনলোড করা হচ্ছে। ক্লিন করতে সময় লাগবে ১০মিনিট। এই ১০ মিনিট আপনি চোখ বন্ধ করে দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুলের মাঝে ছুটে বেড়ান। নদীর পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন কোনার কিনারায়। আকাশে মেঘের জন্মদিন। সেই মেঘের মধ্যে মেঘ হয়ে যান। তারপর মেঘ থেকে যখন বৃষ্টি হবে সেই বৃষ্টিতে ভিজুন। পানির প্রতিটি বিন্দুতে বয়ে বেড়ানো দুঃখ গুলোন মিশিয়ে দিন। তারপর ধুয়ে যাক। ধুয়ে যাক মুছে যাক বেদনার সকল স্তর।” এটা হবে হয়তো কোনদিন। যেদিন সামান্য হাসির কলোরবে জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে আমি নবজাতকের মতোন অনুভব করব জীবনকে। জীবনের ক্লেদ থাকবে না। এমনটা কবে হবে? কবে কোন ম্যাজিশিয়ান আমাকে আলিঙ্গণ করবে? অপেক্ষায় আছি কিন্তু!
জীবন যেমন অপেক্ষার একটা দায়ভার নিয়ে বয়ে যাই। মাঝে মাঝে হিসেব মিলাই। কিন্তু যে অংক বা হিসেব মেলাতে চেষ্টা করি তা থাকে স্বপ্নের জগতে। তাই বাস্তবের মাপকাঠি গুলোন আরালে থেকে অন্যকারোর কলকাঠি-ইশারায় ওলোট পালোট হয়ে যায়। তাই আর দুঃখের শেষ হয় না। তাই আমি একটা দুঃখের ফোন নাম্বার পেয়েছি। এই নাম্বারটায় ফোন করলে কেউ একজন ফোনটা ধরে। তার গলার স্বরে থাকে জীবনের তাবৎ অভিজ্ঞতা। কিন্তু আমার মতোন যারা স্বপ্ন বা ভালোবাসার কাঙাল তাদের জন্য করুণামিসৃত কোন কথা থাকে না। তাই সময়ের প্রতিটি হাসির ঝঙ্কার, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। আর তা হয়ে যায় হাহাকারের অট্টহাসি। সেই হাহাকারের আকারে বিকারে দুঃখের জন্ম হয় শুধু। অত:পর। আমি নির্ঝর সেই দুখের ধারায় অনেক বেশি দুঃখ সঞ্চয় করি। এভাবেই আমার দুঃখ প্রাপ্তি ঘটে।

Diary · flickr · my life · photography
খা খা খা খা খা….
বড্ড বেসুরো হাসি
আনাচে কানাচে হাসাহাসি করে সব অসুরেরা
সবুজ পথের কচি রোদের আলোতে
যে সুর খেলা করে
তার লয় তাল নিয়ে অযথাই মাতামাতি অবুঝেরা
তবুও কিন্তু গান!
আমাদের শ্রবন বা শ্রাব্যতার পাল্লা বিষয়ক সেমিনার এখানেই শেষ হলো।

No tags
রবীন্দ্রনাথে বাঁশি থেকে শিরোনামটি ধার নিলাম। প্রিয় কবিতার লাইন নিতে আমার কোন আপত্তি নেই। যদিও আমি আকবর বাদশাহ বা হরিপদ কেরানি নই। আমি মনে হয় কান্তবাবু, শুধু বাজনা বাজাই। এ বাজনা তোমাদের কানে পৌঁছাবে না। যে কানে গড়ম সীসা ঢেলে রেখেছো সে কানে গান প্রবেশ করবে না। এ গান বড্ড অবেলার গান।

No tags
24
এ গৃহ আমার জন্য নয়…এ গৃহ তোমার জন্যও নয়… এ গৃহ নিগৃহীত জনের..
6 Comments · Posted by Nirjhar in আমার ভাবনা, ডায়েরি
হা হা হা। অনেক ভারী একটা শিরোনাম দিয়ে দিলাম। আসলে গত কয়েকদিন থেকে বাসার সাথে যুদ্ধ করছি। মানে সবকিছু নতুন করে সাজাচ্ছি। যেহেতু আমি গৃহী (সারাদিন বাসায় থাকি সেই অর্থে) তাই বাসাটার একটা মেজাজ তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমার বন্ধুর পরামর্শে কালার থিম দিলাম বাসায়। বসার ঘরটা এখন সাদাকালো, আমার শোবার ঘর বাসন্তী। আহা কী সুন্দর অনুভূতি। চিরবসন্তের মাঝে বিলীন হয়ে আছি। আর পুরোপুরি বসন্ত অনুভবের জন্য আজকে সারাদিন কোকিলের ডাক চালিয়েছি কম্পিউটারে। অবশ্য কোকিল কন্ঠের জন্য ডা. রোনাল্ড হালদারকে ধন্যবাদ দিতে হয়। ওনারি রেকর্ড করা ডাক।
তো ঘরেতে বসন্ত, মনেতে শ্রাবণ, বাইরে বরিষণ। ধারাবাহিক উপরিপাতন! বিষাদমাখানো একটা গৃহ হয়ে গেল। আমি একা একটা মানুষ এই বিষাদ অরণ্যে হাসফাস করি। বুভুক্ষের মতোন চেয়ে থাকি ফোনের দিকে। কিন্তু সানাই বাজে না।
আগের প্যারাগ্রাফের শুরুতেই বললাম মনেতে শ্রাবণ। আসলেই তাই। আমি খুব বিষন্ন হয়ে আছি। কোথা থেকে যে আসছে বেদনা বুঝি না। আমার নতুন সাজের বাসায় আমি বসে বসে বেদনাপাত করছি। স্বপ্নাতুর হয়ে বেদনার অনুভূতি গুলোন দিয়ে রঙ মাখছি। আহা বসন্ত! তোমার রঙের সাথে আমার বেদনার রঙ! ভালো কম্বিনেশন। দুয়ো তোমাকে!
আমার এ ঘর শূণ্যতার ঘর। আমার এ গৃহ প্রবেশের অনুপযোগী। তবুও কষ্টের কষ চেটে চেটে চলি আমি দুখের বাজিকর। ভালো থাক আমার এ ঘর!

No tags
ছবিটা মিরপুর থেকে তোলা। মিরপুর-ঢাকা। আমি এই শহরে বাস করি। প্রায় এক বছর আগে তুলেছিলাম। কোন বর্ণনার প্রয়োজন আছে কি?

No tags
ব্রাত্য রাইসু বলেন আমার লেখাতে "আমি" ভাবটা অনেক প্রবল। আমার জবাব ছিল "আমার নিজের ব্লগেই এই জন্য লিখি। তাই স্বাধীনতা নিতে পারি ষোল আনা। কারো (কর্তৃপক্ষ) কাছে জবাব দিতে হয় না।" আসলেই তাই। আমার এই এলেবেলে আমিটার জন্যই এ ব্লগ।
আমি একা থাকি। আসলে একা থাকিও না। সারাদিন যখন কাজ করি, তখন একা না। যখন কম্পিউটার এর সামনে থাকি, একা থাকি না। অনলাইনে অনেক জন। কথাও বলি না কিন্তু তাদের অনলাইন উপস্থিতি এক ধরনের আশ্রয় দেয়। আমি সেই ভার্চুয়াল আশ্রয়টুকু জড়িয়ে থাকি। পেচিয়ে থাকি আমার আবেশে। চৌম্বকিত করি অনলাইনে থাকা মানুষদের। আহা বেঁচে থাকা!
তবুও কিন্তু একটা সময় বিছানায় আসতে হয়। বিছানা অপেক্ষা করে একটা। আর তখনই আমি অনেক একা। যে থাকে অপেক্ষা করে তার কাছে এলেই মানুষ একা হয়ে যায়? কী নিদারূণ ম্যাজিক। বেঁচে থাকার উপলক্ষ গুলোন এ সময়টা অনেক বেশী হিসেব করি। মনে হয় দিন শেষে আমি এক মুদির দোকানি ২০০গ্রাম গড়ম মশলাল দাম মিলাচ্ছি!
কত জনস্রতের প্রবাহ আমি অনুভব করি। অন্যের সমস্যা শুনি, উপায় বলি। খারাপ নয় অনলাইনের জীবন। কিন্তু একটা কথা কখনই শুনি না। "আমি খেয়েছি কি না?" কেমন যেন নিজেকে কাঙালের মতোন মনে হয়। এ বেদনা আমার সকাল বেলা চা খাওয়া বন্ধ করার বেদনার মতোনই। বড় অভিমানি বেদনা। এই বেদনা আস্তে আস্তে শরীরে মিশে। বড় মধুর মতোন এ অভিমান। লালন করতে ভালো লাগে কিন্তু কোথায় যেন খঁচখঁচ করে!
হে আমার আশ্রয়(রা)! আমি খঁচখঁচানি নিয়ে, অভিমান নিয়ে এই রাতের কাছে, বিছানার কাছে নিমজ্জ্বিত হচ্ছি। আমি একা হয়ে যাচ্ছি! আজকে রাতে শুধু খাওয়াটা হলো না। রান্না করতে একদম ইচ্ছে করছিল না। খেতে ভালোও লাগে না।

No tags
21
আমার গ্রাম এবং শ্রমিক
No comments · Posted by Nirjhar in flickr, photography, আমার ছেলেবেলা, আমার ভাবনা, ডায়েরি
ছবির মানুষটার নাম মনে নেই। তবুও একটু পরিচিতি পর্ব ফরমার আকারে দিচ্ছি।
নাম: অজানা
পেশা: ট্রাক শ্রমিক
বয়স: ৫০ (আনু:)
গ্রাম: রাঙ্গালীর বস্
উপজেলা: নাগেশ্বরী
জেলা: কুড়িগ্রাম।
এইভাবে দেয়ার অর্থ হলো আমি ওনার পোট্রেট করেছি। যদিও তাকে চিনি গ্রাম্যসূত্রে, তবুও তিনি আমার মডেল।
ছবিটা আনুমানিক ৩বছর আগের তোলা। তারিখ মনে নেই।
এবার ঈদে বাড়ি যাচ্ছি না। ঈদের পরে যাব। এবার গিয়ে পোট্রেট কালেকশন বাড়িয়ে ফেলব। দেখা যাক কী হয়!

b&w · d40 · kurigram · portrait · poverty · rangalirbash · village · worker
১৯৯৯ সাল থেকে ভার্চুয়াল ভূবনের বাসিন্দা। ক্রমবর্ধমান বসবাসের কারণে এখন আমি মনে হয় পুরাপুরি ভার্চুয়াল হয়ে গেছি। পেশাগত কারণে মোটামুটি ১২ঘন্টা অনলাইনে থাকতে হয়। বাকী আরো ৩/৪ ঘন্টা কাটাই নিজের জন্য। খারাপ নয়। অবাস্তবতার কামলা খেটে চলি।
প্রতিদিন শত মুখের কথা শুনছি। শত হাসি, অশ্রু বা হাহাকার আমার মনিটরে ভেসে আসে। আমি মুগ্ধ দর্শকের মতোন মোহাচ্ছন্ন হয়ে মানুষের জীবনযাত্রা দেখি। নতুন যাদের সাথে পরিচয় হয়, তারা পরের বার থেকে সব সময়’ই জিজ্ঞেস করেন, “ভালো আছেন?”। আমি বলি হ্যা। আপনি কেমন আছেন? আরে ভাই আমি কেমন করে ব্যাখ্যা করি যে আমার খারাপ থাকার কোন পথই খোলা নাই। তাই বাধ্য হয়ে ভালো থাকি!
এই আমার দেয়ালে পিঠ ঠেকা অবস্থা তার মধ্যেও অনেকে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করে। অবাক হয়ে যাই। কেন বোঝে না যে আমাকে কোন ভাবেই কষ্ট দেয়া যায় না। কারণ আমার কষ্ট পাওয়ারো কোন পথ অবশিষ্ট নেই।
আমি অনেক সুখী একটা মানুষ। যেদিন থেকে আমার দুঃখ বিলাসিতা বন্ধ করে দিয়েছি, আমি অনেক সুখী। তাই হে বান্ধবসকল: অকারণে, অজান্তে বা কষ্টের উদ্রেক করতে যদি আমাকে বেদনার বিষবাষ্প দেখাতে চান দয়াকরে তফাতে থাকুন। আমার এ পথ তোমার থেকে অনেকটাই দূরে। কিন্তু এ পথটা এখনো বেঁকে যায় নি। আমার পথ অনেক সরল এবং মসৃণ।

friends · life · আমার ভাবনা · ডায়েরি
একটা মানুষ কেন এত্তো একা?
কীভাবে?
কীভাবে?
কীভাবে?
একটা মানুষ এত্তো একা হয়ে যায়?
আচ্ছা, দু’টো মানুষ যখন পরস্পরকে প্রতিপক্ষ ভাবে তখনই কী তারা একা হয়ে যায়?

No tags






Amit’s Blog
Christoph Jan’s Blog
Emran’s Blog
Hasin’s Blog
Mark Cuban’s Blog
Mehfuz’s Blog
Mithu’s Blog
Mouly’s Blog
Omar Al Zabir
Saqib’s Blog
Shafqat Ahmed’s Blog
Shahed’s Blog
Shahidul News
Magnum
