আমি যেমন আছি!
ব্রাত্য রাইসু বলেন আমার লেখাতে "আমি" ভাবটা অনেক প্রবল। আমার জবাব ছিল "আমার নিজের ব্লগেই এই জন্য লিখি। তাই স্বাধীনতা নিতে পারি ষোল আনা। কারো (কর্তৃপক্ষ) কাছে জবাব দিতে হয় না।" আসলেই তাই। আমার এই এলেবেলে আমিটার জন্যই এ ব্লগ।
আমি একা থাকি। আসলে একা থাকিও না। সারাদিন যখন কাজ করি, তখন একা না। যখন কম্পিউটার এর সামনে থাকি, একা থাকি না। অনলাইনে অনেক জন। কথাও বলি না কিন্তু তাদের অনলাইন উপস্থিতি এক ধরনের আশ্রয় দেয়। আমি সেই ভার্চুয়াল আশ্রয়টুকু জড়িয়ে থাকি। পেচিয়ে থাকি আমার আবেশে। চৌম্বকিত করি অনলাইনে থাকা মানুষদের। আহা বেঁচে থাকা!
তবুও কিন্তু একটা সময় বিছানায় আসতে হয়। বিছানা অপেক্ষা করে একটা। আর তখনই আমি অনেক একা। যে থাকে অপেক্ষা করে তার কাছে এলেই মানুষ একা হয়ে যায়? কী নিদারূণ ম্যাজিক। বেঁচে থাকার উপলক্ষ গুলোন এ সময়টা অনেক বেশী হিসেব করি। মনে হয় দিন শেষে আমি এক মুদির দোকানি ২০০গ্রাম গড়ম মশলাল দাম মিলাচ্ছি!
কত জনস্রতের প্রবাহ আমি অনুভব করি। অন্যের সমস্যা শুনি, উপায় বলি। খারাপ নয় অনলাইনের জীবন। কিন্তু একটা কথা কখনই শুনি না। "আমি খেয়েছি কি না?" কেমন যেন নিজেকে কাঙালের মতোন মনে হয়। এ বেদনা আমার সকাল বেলা চা খাওয়া বন্ধ করার বেদনার মতোনই। বড় অভিমানি বেদনা। এই বেদনা আস্তে আস্তে শরীরে মিশে। বড় মধুর মতোন এ অভিমান। লালন করতে ভালো লাগে কিন্তু কোথায় যেন খঁচখঁচ করে!
হে আমার আশ্রয়(রা)! আমি খঁচখঁচানি নিয়ে, অভিমান নিয়ে এই রাতের কাছে, বিছানার কাছে নিমজ্জ্বিত হচ্ছি। আমি একা হয়ে যাচ্ছি! আজকে রাতে শুধু খাওয়াটা হলো না। রান্না করতে একদম ইচ্ছে করছিল না। খেতে ভালোও লাগে না।























3 comments so far
Leave a reply