এক.
পাড়ার লোকেরা তোতামিয়ার বাকপটুতায় বড়ই অস্থির ছিল । তোতার মুখের লাগাম নাই , এই যুগে যে কানাকে কানা বলিও না’র মতো সাদাকে সাদা বলিও না আর কালাকে কালা বলিও না বলিয়াও সুশীল নীতি আছে , তোতা তা বুঝিতে পারে না ।
সে অবলীলায় পাড়ার মুরুব্বি আখতার উকিলরে প্রশ্ন করিয়া বসে , আপনার ঘরের বালিকা বান্দীটি প্রেগনেন্ট হইল কী প্রকারে ? সে কানা খসরুকে গুন্ডা বলিয়া একদিন মাইরও খাইয়াছে । এহেন ঠোঁটকাটা তোতা মিয়াকে দেখিলেই তাই আমাদের মাঝে এক ধরনের ভীতি কাজ করিত ।

আমরা যারা রোজ সন্ধ্যার সময় অফিস হইতে ফিরিবার পথে বিমলের দোকানে টোস্ট বিস্কুট ভিজাইয়া চা খাইতাম আর রাজা উজির মারিতাম , তাহারা তোতার এহেন কর্মকান্ডে একদিকে যেমন সন্ত্রস্ত ছিলাম অন্যদিকে তোতার মতো লোকের প্রতিভা এইভাবে বিনষ্ঠ হইয়া যাইতেছে বলিয়া আফসোস করিতাম ।

তোতার টাকা পয়সা নাই , সর্বোপরি সে নেতানেত্রীদের তেলাইতে পারে না , তাই রাজনীতিতে তাহার কোন ভবিষ্যৎ দেখি না । লেখালেখি করিতে হইলে পত্রিকার সম্পাদকের সাথে খায় খাতির রাখা লাগে , তোতা তার এই মুখরা স্বভাব নিয়া সেই কাজও করিতে পারিবে না ।
তাহা হইলে তোতার কী হইবে ? তাহার কথা কি এই দেশের আপামর জনতা শুনিতে পাইবে না ? এইসব ভাবিয়া আমরা চিন্তায় চিন্তায় অস্থির ছিলাম ।

দুই .
এমনই এক বাদলা দিনে আমাদের বিমলের আড্ডার অনিয়মিত সদস্য মোখতারুদ্দিন একটি সংবাদ লইয়া ইউরেকা ইউরেকা বলিয়া সেই বটতলা মাতাইয়া উঠিল । সকলেই জিজ্ঞাস্য দৃষ্ঠিতে তার দিকে তাকাইলাম ।
মোখতারুদ্দিন বলিল – তোতা কাহিনীর সমাধান হইয়াছে । তোতা মিয়া যাহা ভাবে , যাহা মনে করে , যাহা তার বলিবার অধিকার সব কিছু রক্ষিত করিবার ,প্রকাশ করিবার অধিকার পাইয়াছে ।

মোখতারুদ্দিন এককালে ‘ বাংলাদেশ শ্রমজীবি চিন্তক আন্দোলন ( মো-উ) নামের একসদস্য বিশিষ্ঠ দলের সভাপতি এবং বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক ছিল , সুতরাং তাহার এইসব “অধিকার “”রক্ষিত” এইসব শব্দকে ফিল্টার করিয়া ফেলিয়া আমরা যা বুঝিলাম যে , তোতা মিয়ার কন্ঠকে সকলের সামনে উপস্থিত করিবার এক দারুন মওকা পাওয়া গিয়াছে ।

মোখতারুদ্দিন জানাইল – মানুষের বাকস্বাধীনতার অঙ্গীকার একমাত্র ব্লগের মাধ্যমেই উপস্থাপন করা যাইবে । তোতা মিয়ার যা খুশী , যখন খুশী তখনই সে সেইগুলা নিজের কী বোর্ড চাপাইয়া চাপাইয়া লিখিয়া ফেলিবে , বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তাহা পড়িয়া তোতামিয়ার মনোভাব বুঝিতে পারিবে , এইখানে কোন মারপ্যাচ নাই ।

তিন.

অত:পর তোতামিয়াকে ব্লগিং শিক্ষা দিবার মানসে মোখতারুদ্দিন তাহাকে নিয়া স্থানীয় সাইবার ক্যাফেতে প্রবেশ করিল । একই বুথে দুইটি ছেলেকে প্রবেশ করিতে দেখিয়া ক্যাফের ছোকরা ছেলেটা কিঞ্চিত হাসিলেও তারা উভয়ে সেদিকে নেত্রপাত করিল না ।

মোখতারুদ্দিন নবগঠিত একটি ব্লগ খুলিয়া তোতামিয়াকে আমন্ত্রন জানাইয়া কহিল – লেখ ।
তোতা জিজ্ঞাসিল – কী লিখিব ?

: যাহা ইচ্ছা তাহা লিখ ।
: প্রথমে তাহা হইলে নিজের পরিচিতমূলক একটি লেখা দেই । এই বলিয়া তোতা লিখিল – আমার নাম তোতা ।

মুখতারুদ্দিন হা হা করিয়া উঠিল – ইহা লিখিতে পারিবে না । নীতিমালায় আটকাইবে । কোন মনুষ্য যদি পক্ষীর নাম ধারন করে তাহা হইলে ইহা পক্ষী সমাজের অবমাননা । পক্ষীর অবমাননা নিয়া লিখিতে পারিবে না ।

তোতা কহিল – তাহা হইলে আমি আখতার উকিলের ঘরের বান্দীটির রহস্যজনক প্রেগনেন্ট হওয়া নিয়া লিখিব ।
মোখতারুদ্দিন কহিল – না না , ইহা কেমনে লিখিবে ? নীতিমালায় আছে -“প্রচলিত ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুসারে শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তিকে হেয় করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।” আখতার উকিল আমাদের পাড়ার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি , তাহার নামে কিছু লিখিতে পারিবে না ।

তোতা কহিল – আমি তাহা হইলে আন্তর্জাতিক বিষয়েই লিখুম । আমেরিকা যে আমাদের চুষিয়া খাইতেছে , তাহা লিখিব ।
— না, তা লিখিতে পারিবে না । কারন নীতিমালায় আছে “দেশীয় বা দেশের বাইরের কোনো জাতি, গোষ্ঠী, ভাষা ও ধর্মের প্রতি অবমাননামূলক বা কারো অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে এমন কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।”

তোতা এবার কহিল , আমি কি তাহা হইলে ইজরায়েলের গুন্ডামি নিয়া লিখিতে পারিব না ?

- তা সম্ভব নহে । ইজরায়েলের অনুভূতিতে আঘাত করিতে পারিবে না । তাহা ছাড়া নীতিমালায় আরো আছে – ” বিবদমান দুই বা ততোধিক জাতি, গোষ্ঠী ও ধর্মের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষের উস্কানি দিতে পারে এমন লেখা প্রকাশ করা যাবে না।” তোমার লেখায় প‌্যালেস্টাইন আর ইজরায়েলের মাঝে সংঘর্ষের উস্কানি প্রকাশ পাইতে পারে ।

তোতা বিরক্ত হইয়া বলিল – তাহা হইলে আমি কী ঘোড়ার ডিম লিখিব ? সমাজের কারো কথাই তো লিখিতে পারিতেছি না । আমি কি তবে আফ্রিকার জঙ্গলের নরমাংস ভোগী জংলীদের নিয়া লিখিব ?

- উহু , তাহা লিখিতেও অসুবিধা আছে । নীতিমালায় বলিয়াছে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার, জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস বা ভাষাকে কটাক্ষ বা অবমাননা করে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না।

তোতা হাসিয়া কহিল – এতো দেখি কোন পথই বাকী নাই । সবই যদি বাদ যায় , তাহা হইলে কি তাবলীগের ফজিলত নিয়া পুস্টাইব নাকি ?

- তা বোধহয় করিতে পারিবে না । কারন নীতিমালা বলিতেছে -
ধর্মগ্রন্থের বাণী ত্রুটিপূর্ণভাবে উদ্ধৃত করা যাবে না। এমনভাবে ধর্মগ্রন্থের বাণী উদ্ধৃত করা যাবে না, যাতে ধর্ম বা বাণীর অসম্মান হয়। তুমি নিশ্চয়ই জানো যে তাবলীগের ব্যাপারে সকল আলেম ওলামা একমত নহেন । মাওলানা সাঈদী ধর্মগ্রন্থের আলোকে তাবলীগকে উড়াইয়া দিয়া ওয়াজ করেন । সুতরাং তুমি যদি ফজিলত প্রকাশ করিতে গিয়া কোন বাণী উদ্ধৃত করো , তাহা সাঈদীর কাছে ত্রুটিপূর্ণ মনে হইতে পারে ।

সাঈদীর কথা মোখতারুদ্দিনের কাছে শুনিয়া তোতা বলিল – বেড়ে বলিয়াছ । ঐ রাজাকার শুওরের বাচ্চার বিরুদ্ধেই না হয় লিখিব ।

- তাহা কিভাবে লিখিবে ? নীতিমালা দেখ , ইহাতে বলা হইয়াছে “রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ প্রচার করা যাবে না।”

তোতা এইবার মাথা চুলকাইয়া বলিল “সাঈদী কিংবা গোলাম আযমের প্রতি আমার তো কোন ব্যক্তিবিদ্বেষ নাই । ইহারা রাজাকার । তাহা বলিতে অসুবিধা কোথায় !
- বলিতে অসুবিধা কারন নীতিমালায় আছে “সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।” এবং আরো আছে “সমাজে বিতর্ক আছে এমন বিষয়ে মন্তব্য ও লেখা প্রকাশ করতে হলে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা করতে হবে।”
এখন রাজাকার নিয়া ঢ়াজাকারদের মাঝে বিভ্রান্তি আছে । কিছু বলিলেই তাহারা বলে আদালতে প্রমান হওয়ার আগে গোলাম আযম , কামরুজ্জামান , নিজামী ইহাদেরকে খুনী বলা যাইবে না । সুতরাং নীতিমালা অনুযায়ী তুমি ইহা লিখিতে পারিবে না ।

তোতা বলিল – ঐ সব পলিটিক্যাল বক্তব্য ছাড়িয়া দাও । ইহারা এইসব বলিয়া মাঠ গরম করে । আসো রাজাকার প্রতিরোধ করি , মৌলবাদ প্রতিরোধ করি । এই আহ্বান নিয়া আসো লেখালেখি করি ।
মোখতারুদ্দিন কহিল – কিন্তু ছাড়িবার উপায় নাই । নীতিমালা বলিতেছে “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দাঙ্গা-পরিস্থিতির বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে এমন লেখা প্রকাশ করা যাবে না।” সুতরাং উহাও তুমি লিখিতে পারিবে কি না সন্দেহ হইতেছে ।

তোতা কহিল – বুঝিলাম । আমার দরকার নাই তাহা হইলে রাজনৈতিক প্যাচালে জড়াইয়া । শালার বাচ্চারা দুধের মাঝে মেলামাইন দিয়া শিশু মারিয়া ফেলিতেছে । এই সব রেডকাউ , ডানো , ইয়াশলীর বিরুদ্ধে জনমত গড়িব ।
মোখতার কহিল – করো কী ! করো কী! নীতিমালা বলিতেছে

” কোনো ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে নেতিবাচক লেখা দেওয়া যাবে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নাগারের উদ্ধৃতি দিয়া তুমি এই ব্রান্ডগুলোর বিরুদ্ধে এখন কিছু লিখিলেই নীতিমালায় আটকাইবে । তাহার চাইতে কিছু শিশু মরিয়া যাউক , কিন্তু তুমি বিদেশী রসায়নাগারের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা কর ।

তোতা এইবার হতাশ হইয়া বলিল – তাহা হইলে আমি কী নিয়া লিখিব ?
মোখতারুদ্দিন কহিল – তুমি তো এখন লিখিতে পারিবে না । কারন আগে তোমাকে আইনের বই পড়িতে হইবে । নীতিমালা বলিয়াছে “ক) বাংলাদেশে প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) কোনো লেখার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত আইন-কানুন লঙ্ঘন করা যাবে না।”

সুতরাং আগে তোমাকে কিছুদিন দেশী বিদেশী আইনের গ্রন্থ অধ্যয়ন করিতে হইবে । তাহারপরে লিখিবার সুযোগ পাইবা । তবে এ জন্য তোমাকে কিছু টাকাকড়ির সংস্থানও রাখিতে হইবে ।

তোতা জিজ্ঞাসিল – ব্লগিং করিতে টাকা লাগে নাকি ?
মোখতার কহিল – তা লাগে না । তবে উকিলের টাকা রেডি রাখিও । নীতিমালা বলিয়াছে কোন মামলা হইলে তোমাকে তার টাকা দিতে হইবে ।

তিন.
তাহার পরে বহুদিন গত হইয়াছে । তোতা মিয়াকে আর বিমলের দোকানের আড্ডায় দেখি না । সে আড্ডা ছাড়িয়া ব্লগিংয়ে মন দিয়াছে বলিয়া শুনিতে পাই ।

এক শুক্রবারে কাঁচাবাজার করিতে গিয়া তাহার সাথে দেখা ।
জিজ্ঞাসিলাম – তোতা মিয়া কেমন আছ ?
তোতা বলিল – উঁ !

- তোমার বউ কি ভালো আছে ? বাচ্চা দুইটার কী খবর ?
- উঁ !

- আড্ডায় আর আসিবে না ?
- উঁ !

বিরক্ত হইয়া কহিলাম – কী সেই থেকে ” উঁ” উঁ” করিতেছ ? কথা বলিতে ভুলিয়াছ নাকি ?

তোতা দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া করুণ কন্ঠে বলিল – এর চাইতে বেশি বলিবার উপায় নাই ।
নীতিমালায় আটকাইবে ।

———————————–

ফুটনোট :

১. প্রথম আলোর গঠনপক্রিয়ায় একজন রোজকামলা শ্রমিক ছিলাম । সে সময় আমি , সুমন্ত আর আশীফ এন্তাজ রবি ‘ আলপিন ” নামের হাস্যরসাত্মক একটি ম্যাগাজিন বের করতে প্রানান্ত শ্রম দিতাম ।

কনসেপ্ট নতুন ছিল । আমরা লোকজনের হাসির অধিকারকে সমুন্নত রাখতে পেরেছিলাম ।

২.আজ সেই আলপিনও নেই , তাই সেই হাসাহাসিও নেই।

নতুন কনসেপ্ট প্রথম আলো ব্লগ ,আর তার নীতিমালা ।
আলপিনের সাফল্য কামনা করেছিলাম , প্রথম আলো ব্লগের নীতিমালারও সাফল্য কামনা করি ।

Tags: , , , ,

This entry was posted on Saturday, October 25th, 2008 at 8:28 pm and is filed under Guest Blogger. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

5 comments so far

 1 

ধন্যবাদ আরিফ ভাই আমার ব্লগে লেখার জন্য। প্রিয় পাঠক আপনাদের ব্লগ লেখার সুবিধার্থে আমি পুরো নীতিমালাটি এখানে দিচ্ছি।
************************************************************
‘প্রথম আলো ব্লগ’-এর নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি

‘প্রথম আলো ব্লগ’-এ আপনাকে স্বাগত জানাই। ‘প্রথম আলো ব্লগ’-এ নিবন্ধন করার সময় এর ‘নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি’ আপনারা পড়ে নেবেন। কেউ ব্লগে নিবন্ধন করলে ধরে নেওয়া হবে তিনি ‘নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি’ পড়ে তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। ব্লগে প্রকাশিত লেখার বক্তব্য, মত ও স্বত্ব লেখকের নিজস্ব। এ ব্লগে প্রকাশিত লেখার আইনগত বা অন্য কোনো দায়দায়িত্ব প্রথম আলো বহন করে না। ‘প্রথম আলো ব্লগ’-এর উদ্দেশ্য মত প্রকাশের পরিসর বাড়ানো, সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহ দেওয়া, লেখক-পাঠক যোগাযোগের মাত্রা প্রসারিত করা। আমরা আশা করি, ‘নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি’ মেনে ব্লগাররা ইতিবাচকভাবে এসব সুযোগ ব্যবহার করবেন।

নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি

১.
ক) বাংলাদেশে প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) কোনো লেখার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত আইন-কানুন লঙ্ঘন করা যাবে না।

২.
ক) দেশীয় বা দেশের বাইরের কোনো জাতি, গোষ্ঠী, ভাষা ও ধর্মের প্রতি অবমাননামূলক বা কারো অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে এমন কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) বিবদমান দুই বা ততোধিক জাতি, গোষ্ঠী ও ধর্মের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষের উস্কানি দিতে পারে এমন লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
গ) ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার, জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস বা ভাষাকে কটাক্ষ বা অবমাননা করে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না।
ঘ) প্রচলিত ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুসারে শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তিকে হেয় করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।
ঙ) কোনো জাতি, জনজাতি, গোষ্ঠী, জাতি-উৎস, লিঙ্গপরিচয়, বয়স, শ্রেণীপরিচয়, শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা নিয়ে ঘৃণা বা অবমাননামূলক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা যাবে না।
চ) ধর্মগ্রন্থের বাণী ত্রুটিপূর্ণভাবে উদ্ধৃত করা যাবে না। এমনভাবে ধর্মগ্রন্থের বাণী উদ্ধৃত করা যাবে না, যাতে ধর্ম বা বাণীর অসম্মান হয়।

৩.
ক) নারীর প্রতি অবমাননা, আক্রমণ ও নিপীড়নমূলক কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) অশ্লীল ও অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ এমন কোনো শব্দ, বাক্য, ছবি, ভিডিও ও অডিও ব্যবহার করা যাবে না, যা নারীকে হেয় করতে পারে।
গ) নারী ব্লগারদের সঙ্গে কটাক্ষমূলক আচরণ করা যাবে না।
ঘ) ব্লগে পোস্ট দিয়ে কোনো নারী বা পুরুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রেম নিবেদন করা যাবে না। ব্যক্তিগত চিঠি দেয়া যাবে না।

৪.
ক) কোনো পর্নোগ্রাফিক ছবি, লেখা, তথ্য বা ভিডিও প্রকাশ করা যাবে না। কোনো পর্নোগ্রাফিক সাইটের লিংক দেওয়া যাবে না।
খ) এমন কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না যা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অশ্লীল বা অশালীন বলে বিবেচিত হতে পারে।
গ) অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ কোনো শব্দ, শব্দবন্ধ বা বাক্য ব্যবহার করা যাবে না।
ঘ) স্নায়বিক চাপ তৈরি করতে পারে এমন কোনো বীভৎস, ভয়ংকর, অরুচিকর ছবি প্রকাশ করা যাবে না।
ঙ) কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া/গোপনে তোলা কোনো ছবি প্রকাশ করা যাবে না।
চ) বিকৃত করে, জোড়া লাগিয়ে পরিপ্রেক্ষিত পরিবর্তন করে কোনো ছবি প্রকাশ করা যাবে না।

৫.
ক) কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অবমাননামূলকভাবে কোনো প্রাণীবাচক নাম দেয়া যাবে না।
খ) সহব্লগারদের কিংবা ব্লগের বাইরের কাউকে গালিগালাজ করা যাবে না।
গ) কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা যাবে না।
ঘ) এমন কোনো নাম বা ছদ্মনাম (ইউজার নেম বা নিক) ব্যবহার করা যাবে না যা অন্য ব্লগারের নামকে হেয় করে, সামাজিকভাবে কোনো প্রচলিত নামকে হেয় করে কিংবা সামাজিক-সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অশালীন মনে হয়।
ঙ) হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য কারো ব্যক্তিগত তথ্য ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না।
চ) অন্য কারো জাতীয় পরিচয়পত্র, ক্রেডিট কার্ড, পাসপোর্ট নম্বর প্রকাশ করা যাবে না।
ছ) অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ঠিকানা বা ফোন-ফ্যাক্স নম্বর ইত্যাদি প্রকাশ করা যাবে না।
জ) ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্র ধরে কারো ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের দুর্বল দিক ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না।
ঝ) কাউকে হত্যা, আঘাত বা আক্রমণের হুমকি দেয়া যাবে না। কোনো পরিস্থিতিতেই কাউকে ভয় দেখানো যাবে না।
ঞ) ব্লগে বা ব্লগের বাইরে অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে সংগঠিত হওয়া বা সংগঠিত হওয়ার প্রচারণা চালানো যাবে না।

৬.
ক) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে অবমাননা ও কটাক্ষমূলক কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) সমাজে বিতর্ক আছে এমন বিষয়ে মন্তব্য ও লেখা প্রকাশ করতে হলে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা করতে হবে।
গ) রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দাঙ্গা-পরিস্থিতির বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে এমন লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
ঘ) রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ প্রচার করা যাবে না।
ঙ) সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।
চ) প্রচলিত আইনে অপরাধ বলে গণ্য হয় এমন কোনো কাজের সমর্থনে প্রচারণা চালানো যাবে না।

৭.
ক) কোনো ভাইরাস, স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়ারের লিংক দেয়া যাবে না। হ্যাকিং এবং ক্র্যাকিং করার কোনো সূত্র বা এ সম্পর্কিত কোনো সফটওয়ারের লিঙ্ক ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না। হ্যাকিং বা ক্র্যাকিংয়ে উৎসাহ দিয়ে কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা ট্রেড ইউনিয়নের নামে ব্লগ খোলা যাবে না। কোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের নামে ব্লগ খুলতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে নিবন্ধনকারীর ন্যায্যতা প্রমাণ করতে হবে।
গ) কোনো ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে নেতিবাচক লেখা দেওয়া যাবে না।
ঘ) ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন, আলোচনা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কোনো বিজ্ঞপ্তি বাদে বাণিজ্যিক উদ্দেশে বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে অবশ্যই ব্লগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
ঙ) ধূমপান, মাদক ও নেশাকে উৎসাহিত করে কোনো বিজ্ঞাপনমূলক লেখা, ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করা যাবে না।

৮.
ক) একই ব্লগার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রথম পাতায় একটির বেশি পোস্ট করতে পারবেন না। এক সঙ্গে একটির বেশি লেখা দিলে প্রয়োজনে অতিরিক্ত লেখা প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।
খ) একই বিষয়ে একাধিক পোস্ট দেয়া হলে এবং সেগুলোয় বিষয়বৈচিত্র্য না থাকলে একটি রেখে বাকিগুলোকে প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।
গ) কোনো খবর দিতে হলে প্রাথমিক উৎস থেকে তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে এবং তথ্যের সঙ্গে সে উৎস উল্লেখ করতে হবে। প্রকাশিত খবর মিথ্যা হলে ব্লগারকে বাতিল করা হবে।
ঘ) কারও বিরুদ্ধে একাধিক নাম বা ছদ্মনাম (ইউজার নেম বা নিক) ব্যবহার করে ব্লগে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার সকল ছদ্মনাম বাতিল করা হবে।
ঙ) হ্যাকিং বা প্রতারণার ঘটনা ঘটলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চ) অন্য কোথাও থেকে সরাসরি কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ উদ্ধৃতি, রেফারেন্স, আলোচনা, সমালোচনা ইত্যাদি প্রয়োজনে ব্লগে প্রকাশ করতে হলে লেখার উৎস ও লেখকের নাম উল্লেখ করতে হবে। স্বত্ত্ব সংরক্ষিত লেখার ক্ষেত্রে ব্লগে প্রকাশের আগেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে।
৯.
ক) প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় ‘নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি’ পরিবর্তনের অধিকার রাখে।

লেখার দায় ও স্বত্ব
১. ব্লগে একটি নাম (ইউজার নেম) ও সংকেতমালা (পাসওয়ার্ড) ব্যবহার করে লেখা সকল লেখায় দায় সংশ্লিষ্ট ব্লগারের ওপর বর্তাবে। নাম ও সংকেতমালা সংরক্ষণ করার দায়িত্ব ব্লগারের। প্রকাশিত লেখার মত ও তথ্য ব্লগারের ব্যক্তিগত মত ও তথ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
২. ব্লগে প্রকাশিত ছবি, তথ্য ও লেখার স্বত্ব ব্লগারের বলে গণ্য হবে। কপিরাইট আইন ভঙ্গ করে কোনো ছবি, তথ্য ও লেখা প্রকাশ করা যাবে না। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ ব্লগে প্রকাশিত লেখার স্বত্ব দাবি করে না। তবে ব্লগে প্রকাশিত পোস্ট প্রয়োজনে প্রথম আলোর অন্য কোনো সংস্করণ বা মাধ্যমে ব্লগারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো পত্রিকায় প্রকাশের জন্য লেখাটি জমা দেয়া যাবে না। ব্লগার প্রথম আলোর নিয়ম অনুসারে লেখার সম্মানী পাবেন।
৩. ব্লগে প্রকাশিত পোস্ট ও মন্তব্যে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তার দায় ব্লগারকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে। আইন লঙ্ঘনের পরবর্তী দায়দায়িত্বও তার ওপরই বর্তাবে।
৪. কোনো পোস্ট দেশীয় বা আন্তর্জাতিক আইন কিংবা সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হলে ব্লগ প্রশাসন ব্লগারকে আগাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বা না দিয়ে ব্লগটি অপসারণ করতে পারে।
৫. কোনো ব্লগারের অবৈধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য যদি প্রথম আলো মামলার সম্মুখীন হয় তবে মামলার সম্পূর্ণ খরচ উক্ত ব্লগারকে বহন করতে হবে।
৬. আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক প্রথম আলো যে কোনো সময় কোনো আগাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বা না দিয়ে যে কোনো ব্লগারের লেখা অপসারণ করতে পারে।
৭. ব্লগে প্রকাশিত লেখা সংরক্ষণের দায় প্রথম আলো বহন করে না।

ব্লগের নীতিমালা লঙ্ঘিত হলে
১. যে কোনো ব্লগার ব্লগের নিয়ম লঙ্ঘন করলে, কেউ কাউকে আক্রমণ করলে বা কেউ আক্রান্ত বোধ করলে ই-মেইলে বা ব্লগের অভিযোগ বাটনের সাহায্যে অভিযোগ জানাতে পারেন। এ বিষয়ে কোনো পোস্ট না দিয়ে ব্লগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করাই কার্যকর পদ্ধতি বলে গণ্য হবে। ব্লগ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পর্যালোচনা করে নীতিমালা অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
২. কেউ ব্লগের নীতিমালা লঙ্ঘন করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শিয়ে বা না দর্শিয়ে নীতিমালা ভঙ্গকারী লেখা প্রয়োজনে প্রথম পাতা থেকে অপসারণ করতে পারে, প্রথম পাতায় ব্লগারের লেখা প্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করতে পারে কিংবা বিভিন্ন মেয়াদে ব্লগারকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
৩. ব্লগার একই বা ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে তাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
৪. কর্তৃপক্ষ যে কোনো ব্লগ ও ব্লগারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিল করার অধিকার রাখে।

October 25th, 2008 at 8:43 pm
Mithu
 2 

মামা, কঠিন হইছে !!!

October 27th, 2008 at 11:30 am
Anika Shah Promi
 3 

impressive writing….writer ke amar regards dio.
Prothom Alo Blog-er neetimala gulo kar matha theke ber hoechhilo sheta janano jae ki?

October 29th, 2008 at 9:59 am
 4 

কাপায় ফেলছেন :)

November 11th, 2008 at 3:49 am
Neera
 5 

oonnnkkk din por valo akta lekha porlam… joss… :)

June 26th, 2009 at 10:49 am

Leave a reply

Name (*)
Mail (will not be published) (*)
URI
Comment