হাসানের সাথে আমার পরিচয় ২০০৬ সালে। তখন আমি মিরপুরে থাকতাম। হাসান আমার বাসায় এসেছিল এসি লাগাতে। সে এল জি তে কাজ করে। আমার বাসায় যেদিন সে এসি লাগাতে আসে তখন অনেক রাত। এসে সে যখন কাজ শুরু করল, কারেন্ট চলে যায়। তখন সে একটা চার্জার লাইট দিয়ে এসি লাগানো শুরু করে। ছাদের মধ্যে সে কাজ করছিল একাএকা। তার কারিগরি যোগ্যতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর হাসানের সাথে অনেকবার দেখা হয় অফিসের সমস্ত এসি লাগানোর সময় বা আমার বাসা পরিবর্তনের সময়। হাসান হয়ে যায় আমার সব কাজের কাজী।

কয়েকদিন আগে হাসান আমার বাসায় আসে এসি পরিষ্কার করতে। দুপুর বেলা, তাই আমি তাকে আমার সাথে খেতে অনুরোধ করি। আমার রান্ন্ করা সব্জি আর ভাত। ফ্রিজ থেকে মা’র রান্না্ করা গুরুর মাংস গড়ম করে করে দিলাম সাথে।

খেতে বসে হাসানের প্রথম কথা হলো ‘স্যার আমরা মোটা চাউলের ভাত খাই সব সময়’। আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘মোটা চাউল আর চিকন চাউলের দামের খুব পার্থক্য নেই আর’। হাসান হেসে বলল আমাদের পোশায় না। অনেক মানুষ বাড়িতে। আমি আর কথা বললাম না এই প্রসঙ্গে। খাওয়া শুরু করলাম।

হাসান খাচ্ছে। আমিও খাচ্ছি। আমি অনেক কম ভাত খাই (পারত:পক্ষে খাই না)। তাই সামান্য ভাত নিয়ে প্লেট সব্জি দিয়ে ভর্তি করলাম। হাসানকে সব মাংস এব সব্জি দিলাম। কিছুক্ষণ পর হাসান জিজ্ঞেস করল ‘স্যার একটা বিষয় খেয়াল হইল, চিকন চাউলের ভাত অল্প খাইলেই পেট ভরে।’ আমি কোন কথা বললাম না। চিকন চাউল বিষয়ে আমার জ্ঞান মনে হয় ভালো না।

চিকন চালে’র ভাত আমাকে এখন অনেক বেশী হাসানের কথা মনে করিয়ে দেয়। নিম্ন আয়ের মানুষেরা চিকন চাউলের আকঙ্খা নিয়ে থাকে। থাকবে। এটা সবাই জানেন আশা করি। হাসান আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

Tags: , , , ,

This entry was posted on Saturday, October 18th, 2008 at 5:33 pm and is filed under আমার ভাবনা, ডায়েরি, লেখালেখি. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

One comment

momo
 1 

hmm…amio cadet college thakte tana 6 yrs mota chaler vaat kheyechi…kintu hasan shaheber moto chikon chal ke feel korini,karon amar jonne chikon chal durlov na

October 18th, 2008 at 8:02 pm

Leave a reply

Name (*)
Mail (will not be published) (*)
URI
Comment