Archive for the ‘আমার ভাবনা’ Category

রূপকথা আমার মেয়ের নাম। ওর এখনো জন্ম হয়নি। তবে হবে কোন একদিন। মেয়ের জন্য এই নামটি রেখেছিল আমার ছোট বোন রুকসি; অনেক আগে… প্রায় ৫বছর হবে। তখন রূপকথা অধ্যায় বা আমার সন্তান বিষয়ক কোন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু এখন আমি অনুভব করি আমার মেয়েকে।

যখন আমি অনেক আনন্দ বা বেদনার সাথে থাকি আমার মেয়েকে অনুভব করি। তখন শুধূ মনে হয় মন খারাপ করার মতোন কিছু ঘটেনি। আমার মেয়ে আমার সাথে আছে। আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী।

এইযে এখন গভীর রাতে বসে বসে গান শুনছি আর মেয়েকে চিঠি লিখছি: এটা এক ধরনের আশ্রয়। আশ্রয়হীন মানুষ মাত্রই আঁকড়ে ধরে বাঁচি। আমার সন্তান: তোমার জন্য রেখে যাওয়া পৃথিবীটা হয়তো অনেক শীতল হবে! হয়তো বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য তুমি কষ্ট পাবে। আমাকে ক্ষমা করে দিও। একজন দুর্বল বাবা: তোমার জন্য ভালো একটা পৃথিবী বানাতে পারেনি!

আমি মালদ্বীপের মানুষদের হাহাকার শুনতে পাই, শুনতে পাই নিজের দেশের আর্তনাদ। কিছুই করতে পারছি না। একটা বড় দেহে পঁচন ধরেছে: থামাবার কোন উপায় নেই। বসে বসে একটা সুন্দর অনাগত স্বপ্নের মৃত্যুদৃশ্য দেখা!

আমার টেলিভিশন দেখার সুযোগ খুব কম হয়। তাই অনেক কিছুই জানি না আমি। কয়েকদিন আগে আমি হরলিক্স এর একটা বিজ্ঞাপন দেখলাম যেখানে বলা হয়েছে হরলিক্স খেলে বাচ্চারা হবে টলার, স্ট্রংগার এবং শার্পার। সুন্দর কথা। আমার কোন অভিযোগ নেই। ইন্ডিয়ানদের বানানো জমকালো বিজ্ঞাপন। কিন্তু আপত্তিটা অন্য জায়গায়!

2003071000120302আমি ঠিক বুঝলাম শার্পার এর উদাহরন হিসেবে কেন কনফিউজ করাকে বুঝাবে? যেখানে পুরো মানব জাতির সাধনা কনফিউশন থেকে বের হয়ে আসার আর তারা (!) কিনা শেখাচ্ছে কনফিউজ করা? এটা কী ধরনের রসিকতা। বুঝতে পারলাম ইন্ডিয়ান নামক চাপাবাজ জাতিটার কাছে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমাদের দেশে কেন এই বিজ্ঞাপনটা অনুমোদন করা হলো? খুবই কষ্টিত হলাম। এই চাপাবাজ জাতিটা কি আমাদে মিডিয়াটা পুরোটাই কিনে নিয়েছে?

কেউ কি জানেন বিজ্ঞাপন বিষয়ক আমাদের কোন নীতিমালা আছে কিনা? আমার মতে কিছু বিষয়কে এখনই প্রতিরোধ করা উচিৎ।

১. যদি কোন বিদেশী পণ্যকে বাজারজাত করতে হয় তবে তার বিজ্ঞাপনটা অনবশ্যই এ’দেশের মতোন করে নির্মান করতে হবে। কোন ধরনের ডাবিং করে নয়।

২. বিজ্ঞাপনটি অবশ্যই মানসম্মত হতে হবে। তার মানে হলো পয়সা দিয়ে হুট করে কোন কিছু দেখাতে পারবে না। (মনে আছে নিশ্চই: ডিজুসের কিছু বাজে বিজ্ঞাপন সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল)।

এই কাজটি করলে একটা অনেক বড় লাভ হবে: আমাদে বিজ্ঞাপন শিল্প অনেক বিশী প্রতিষ্ঠিত হবে। যেহেতু আমরা মুক্ত বাণিজ্যে বাস করছি তাই সেটা পণ্যের মধ্যেই সীমিত করে রাখার এখন উপযুক্ত সময় এসেছে। পণ্যের সাথে ফ্রিতে বিজ্ঞাপণ আমদানী বন্ধ করা উচিৎ এখনই। নইলে মনে হচ্ছে একটা চাপাবাজ প্রজন্ম তৈরি করব আমরা!

[poll id="2"]

আমি এই ঈদের শুভেচ্ছা এখন লিখছি। আর আমার চারপাশে পাখির কলোরব, শরতের পরিষ্কার আকাশ। দিগন্তরেখা ছোঁয়ার অনেক আগেই এঁকে বেঁকে গেছে ফুলকুমার নদী। আমার শৈশবের নদী। নদীর বাঁক ধরে একটু এগুলেই ফাঁকা-বিস্তৃর্ণ মাঠ; তারপরেই দুধকুমার নদী। খালি চোখে দিগন্ত আর এই নদীটি মিলেমিশে গেছে। চোখ আলোর গতিতেই চলে উল্টা প্রতিবিম্বে। মস্তিষ্ক প্রসেস করার যেটুকু সময় তার মধ্যেই আসলে বিস্ময়। আমার বিস্ময়কর গ্রাম। এই বিস্ময় আবিষ্কারের না স্মৃতিমালার এই হিসেব করছি এই ঈদের মেজাজে।

এর আগের তিনটি ঈদ আমি বাড়ি আসতে পারি নাই। এবার আসলাম। তবে এবারের এই আসাকে আমি ফেরা বলতে পারি! বাড়ি ফিরলাম। আবিষ্কারের নেশায়। অনেক কিছু্ দেখার বাসনায়।

DSC_5138

এইযে পূর্বপুরুষদের বানান বাগানে এখন বসে আছি আদিম আর বর্তমানকে নিয়ে। বসে আছি শত বছরের পুরোনো বাগানে আর কোলের উপর ডেলের সর্বাধুনিক (একদম আপডেটেড) ল্যাপটপ কম্পিউটার। মাথার উপর কলতান আর ল্যাপটপে টুইটার.কম। কী অদ্ভুত ব্যাপার। ভার্চুয়ালিটি আর রিয়েলিটি। তাই এখন ভাবছি মাইকেল এরিংটন বা রবার্ট স্কবল কী এই অনুভূতি নিতে পেরেছেন কিনা?

মূল প্রসংগ থেকে সরে যাচ্ছি, আমার গ্রাম থেকে! আমি এবার বাড়িতে গিয়ে সামান্য সময়ের জন্যও বাইরে বের হইনি। শুধু দু’চোখ যতদূর যায় দেখেছি। আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা মানুষের মতোন। বসে ছিলাম পানির নালাটার কাছে। আমার শৈশবে যেখানে অনেক মাছ ধরেছি। শৈশবে তার চারপাশটাকে অরণ্য মনে হতো। এখন ছোট্ট একট জংলা। হায় শৈশব! শৈশবের উদার মন এখন আর নেই। সব কিছুকে ছোট করে দেখার অভ্যাস হয়ে গেছে!

প্রাচীন গাছগুলোন নেই। যেসব গাছে ওঠার কৌশল একসময় আমি জানতাম। কোন গাছের ফলের স্বাদ কেমন তাও ছিল মুখস্ত। স্মৃতিগুলোন নিয়ে তবুও ভালোই ঘসামাজা করি।

DSC_5287 কিছুদিন আগে ঢুলি দাদা মারা গেছেন। প্রাচীন একজন মানুষ ছিলেন। তার কিছু পোট্রেট করা উচিত ছিল। পারলাম না। অনেক ভালো কাজ করা হয় না কিন্তু করার উপযোগিতা চন্তা করতে ভালো লাগে। অলস চিন্তা।

আমাদের বাড়িতে পরম্পরার কুকুর আছে। বাড়ি কখনই কুকুর শূন্য ছিল না। এবার দেখলাম প্রথমবার মা হয়েছে একটা কুকুর। জন্ম দিয়েছে ৮টি বাচ্চার (!)। জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই ২টা বাচ্চা মারা যায়। গিয়ে পেলাম ৬টিকে। বড় বিস্ময়কর দৃশ্য। কেবল ঘর থেকে বের হয়েছে বাচ্চাগুলোন। তাই নতুন করে দেখতে শেখা। সব কিছুতেই তাদের অনুসন্ধিৎসু মন। তাই প্রায় সময়ই দেখা গেল পাশের পানির নালায় পরে গেছে এবং চিৎকার করছে। তাদের তুলে দিতে হয় বার বার। এই কুকুর বিষয়ে আর একটা মজার কথা আছে। সেটা আমার বাবাকে নিয়ে!

Mother Dog আমার বাবা হচ্ছেন মজলিশি মানুষ। যেকোন সাধারন কাজকে অনেক আয়োজন করে করতে তিনি ভালোবাসেন। মা কুকুরটা যখন ছোট ছিল, তখন তারা ছিল ৪টি। বাবা একদিন লক্ষ করলেন যে শরীরে তাদের অনেক ময়লা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি কিছু লোক নিয়োজিত করলেন পরিষ্কার করার জন্য। সাবান, শ্যাম্পু দিয়ে একাকার। তাদের কে গা শুকানোর জন্য দেয়া হলো নতুন পাটি (বাঁশের)। গোসল শেষে যখন রৌদ্রময় পাটিতে তাদের রাখা হলো তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ধুলায় নেমে পরে গড়াগড়ি দিতে লাগল। স্বভাবিক কুকুরের অভ্যাস। কিন্তু আমার বাবা অনেক হতাস এবং বিরক্ত হলেন। তার এতো আয়োজন কুকুরগুলোন বুঝল না!

তবে এবার আমার কুড়িগ্রাম অধ্যায় অনেক ভালো লেগেছে। যদিও ঢাকায় ফিরি এসেছি ঈদের একদিন পরেই। তবুও বার বার যেতে ইচ্ছে করছে। আমার বাড়ি। আমার নিজের বাড়িটাতে।

the family

ছোটবেলায় পাঠ্য বইয়ের একটা বিষয় ছিল সামাজিক বিজ্ঞান। সেখানে পরিবারের সংজ্ঞা ছিল। সেটা আমাদের শিক্ষক মুখস্ত করিয়ে নিতেন। কিছুই বুঝি নি। একটু বড় হয়ে গেলে বাবা-মা জোর করে পাঠিয়ে দিলেন স্কুলের হোস্টেলে তাই আবারো পরিবার ছাড়া। ঐ পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা আর ঘুচলো না। বড় হতে থাকলাম পরিবার ছাড়া। মানে যে পরিবারের সংজ্ঞা আমার বাল্যবইয়ে ছিল “আমাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, চাচা-চাচি সবাইকে নিয়ে আমাদের পরিবার।” বাল্যকালের শিক্ষা! না বুঝতে শেখা পরিবার!

ছবিটা আমার বাড়ি থেকে তোলা। ২বছুর আগে সম্ভবত (বা তিন)। আমার ফ্লিকারে পোস্ট করেছি।

www.nirjhar.com

অনেক কাল পরে আবার আমি পুরো বিভ্রান্ত। নিজেকে চিনতে না পারায়। অনেক অস্থির হয়ে আছি। স্বস্তি পাচ্ছি না কোনো ভাবেই।

হাসানের সাথে আমার পরিচয় ২০০৬ সালে। তখন আমি মিরপুরে থাকতাম। হাসান আমার বাসায় এসেছিল এসি লাগাতে। সে এল জি তে কাজ করে। আমার বাসায় যেদিন সে এসি লাগাতে আসে তখন অনেক রাত। এসে সে যখন কাজ শুরু করল, কারেন্ট চলে যায়। তখন সে একটা চার্জার লাইট দিয়ে এসি লাগানো শুরু করে। ছাদের মধ্যে সে কাজ করছিল একাএকা। তার কারিগরি যোগ্যতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর হাসানের সাথে অনেকবার দেখা হয় অফিসের সমস্ত এসি লাগানোর সময় বা আমার বাসা পরিবর্তনের সময়। হাসান হয়ে যায় আমার সব কাজের কাজী।

কয়েকদিন আগে হাসান আমার বাসায় আসে এসি পরিষ্কার করতে। দুপুর বেলা, তাই আমি তাকে আমার সাথে খেতে অনুরোধ করি। আমার রান্ন্ করা সব্জি আর ভাত। ফ্রিজ থেকে মা’র রান্না্ করা গুরুর মাংস গড়ম করে করে দিলাম সাথে।

খেতে বসে হাসানের প্রথম কথা হলো ‘স্যার আমরা মোটা চাউলের ভাত খাই সব সময়’। আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘মোটা চাউল আর চিকন চাউলের দামের খুব পার্থক্য নেই আর’। হাসান হেসে বলল আমাদের পোশায় না। অনেক মানুষ বাড়িতে। আমি আর কথা বললাম না এই প্রসঙ্গে। খাওয়া শুরু করলাম।

হাসান খাচ্ছে। আমিও খাচ্ছি। আমি অনেক কম ভাত খাই (পারত:পক্ষে খাই না)। তাই সামান্য ভাত নিয়ে প্লেট সব্জি দিয়ে ভর্তি করলাম। হাসানকে সব মাংস এব সব্জি দিলাম। কিছুক্ষণ পর হাসান জিজ্ঞেস করল ‘স্যার একটা বিষয় খেয়াল হইল, চিকন চাউলের ভাত অল্প খাইলেই পেট ভরে।’ আমি কোন কথা বললাম না। চিকন চাউল বিষয়ে আমার জ্ঞান মনে হয় ভালো না।

চিকন চালে’র ভাত আমাকে এখন অনেক বেশী হাসানের কথা মনে করিয়ে দেয়। নিম্ন আয়ের মানুষেরা চিকন চাউলের আকঙ্খা নিয়ে থাকে। থাকবে। এটা সবাই জানেন আশা করি। হাসান আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

যখ শব্দটার সাথে পরিচিতি আমার শৈশবেই। কোন বই থেকে জানা নয়; আমার পারিপাশ্বিকতা থেকে জানা। অনেক আদরে বড় হয়েছিলাম তাই গল্প শোনানো ছিল এক ধরনের প্রচ্ছন্ন ভালোবাসা। বড়’রা বিশষত বুড়োরা অনেক গল্প শোনাতেন যার বেশীরভাগই ছিল ভৌতিক গল্প। তাই যখ চিনে গেছি।

এই যখের গল্প শুনে আমি কিন্তু কখনই ভয় পেতাম না। খুব কষ্ট হতো। ছোট একটা বাচ্চাকে জ্যান্ত পুঁতে দেয়া হতো টাকা পয়সার সাথে। প্রায়ই আমি সেই ছোট বাচ্চাদের স্বপ্নে দেখতাম। কষ্ট পেতাম। কুড়িগ্রামের গরীম মানুষেরা অন্যের গচ্ছিত টাকার গল্প করতে আনন্দ পেতেন।

Safiuddin Ahmed (The Cry, 1980)

ছবিটা সফিউদ্দিন স্যারের আাঁকা। ১৯৮০ সালে। ছবির নাম দ্য টিয়ার

আমি আমার বর্তমান বয়সে আবার যখের গন্ধ পাচ্ছি। আশেপাশের মানুষগুলোর মধ্যে অনেক বেশী যখ প্রবণতা। সবাই এখন ভালোবাসার যখ বানাতে আগ্রহী। যে যখ তাদের সঞ্চিত ভালোবাসাকে ধারন করবে। আমি কোন অবস্থাতেই যখ হতে চাই না। সেই ছোটবেলা থেকেই চাই না।

কালকে খুব অদ্ভত একটা বিষয় হয়েছে। আমার প্রচণ্ড মন খারাপ অবস্থায় আমার বন্ধুকে ফোন করলাম। বললাম। তিনি আমাকে বুদ্ধি দিলেন অনেক শব্দে গান শোনার। এবং গান শোনা শেষে দুকাপ কফি বানাতে। এক কাপ আমার জন্য এক কাপ তার জন্য। আমারটা খেতে বললেন আর তার টা ফেলে দিতে বললেন। মজাটা এখানে নয়।

যেহেতু আমার বন্ধুটি আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই তার কথা অবশ্যই বিবেচ্য। আমি ফোনে কথা বলার সময় আপেক্ষিকতা বুঝতে পারলাম। আমি আমার অনুভূতিকে যদি বড় করে সময়কে টেনে লম্বা করি তাহলে বিষয়টা হবে এমন।

-নির্ঝর খুব উচ্চ শব্দে গান শোন

(আমি ভাবছি: কোন গান, কী ধরনের গান? কতটুকু শব্দে শুনব? আশে পাশের মানুষরা কী বিরক্ত হবে? গান কি দরজা বন্ধ করে শুনব নাকি দরজা খুলে দিয়ে হেটে হেটে শুনব?)

-ল্যাপটপে দেখ ফাতেহ আলী খানের গান আছে, আমার ফোল্ডারে ওইটা শোন।

(কম্পিউটার ফরম্যাট দিয়েছি। কোন হার্ড ড্রাইভে ব্যাকাপ রেখেছি! গানটার ট্যাগ ঠিক আছে তো? গানটার বিট রেট কত? কী ফরম্যাটে আছে?)

-আর দুকাপ কফি বানাও (তার মানে সে আসছে। আমার কাছে আসছে। আহা কি আনন্দ। আমার ঈদ অবশেষে একটু ভালো হতে যাচ্ছে। তাকে ঈদে কী খাওয়াব? কী নিয়ে গল্প করব? নতুন গাছগুলো কোথায় কোথায় রাখা যায় জিজ্ঞেস করতে হবে।) এক কাপ তোমার জন্য আর এক কাপ আমার জন্য (অবশ্যই সে আসছে। আনন্দে আমার চোখে পানি চলে এসেছে। বাসার সব ল্যাম্পগুলোন জ্বালানো দরকার। নরম আলোর বন্যা বইয়ে দেয়া দরকার। এয়ার ফ্রেশনার দেয়া দরকার। এসিগুলোন ছাড়া দরকার।)। তোমারটা তুমি খাও আর আমারটা ফেলে দাও (আমার ভূবন কিছুক্ষণের জন্য তছনছ হয়ে গেল। আমি হয়ে গেলাম বোবা। আমার অনুভূতিগুলোনও ভোঁতা। আমার এক সেকেন্ডও ভালো লাগছে না। ইচ্ছে ছুটে পালিয়ে যাই। কিন্তু কার থেকে কিসের থেকে পালাব তাও বুঝতে পারছি না।)

আগেই বলেছি আমার বন্ধুটি আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার সব কথাই শুনলাম। শুধু শুনালাম না আকুতি গুলোন। লিখে ফেললাম একটি কবিতা (যা এই পোস্টের আগের পোস্টটি: তোমাকেই চাই)। এভাবেই একটি কবিতার জন্ম হলো। খারাপ কী? লাভ হলোই তো। নগতে একটা কবিতা পেলাম।

untitledঈদের আগের দিন খুব আয়োজন করে গাছ কিনতে গেলাম। এক বন্ধুকে অনোরোধ করেছিলাম কিনে দেয়ার জন্য, তিনি সময় পান নি। আর এক বন্ধুকে অনুরোধ করলাম, তিনিও সময় পেলেন না। তাই শেষ বিকেলে আমার সাবেক কলিগ ইমরান হাসানকে সাথে নিয়ে গাছ আনতে যাই।

আমার বাসার কাছে ফার্মগেইট-গ্রীনরোড মোড়। সেই মোড়েই গাছের দোকান। খুব দ্রুত ৬টা গাছ কিনে ফেলি। ৪টা এখন ড্রয়িং রুমে বাকী দু’টা বাড়ান্দায় ঝোলানো। আমার বাসাটায় এখন টুকরো টুকরো সবুজ। বড় আনন্দের ব্যাপার। গাছের সাথে আনন্দ কী?

একাকীত্ত্ব কাটানোর জন্য গাছ ভালো একটা বিষয়। আমি গাছগুলোর সাথে কালকে অনেক্ষণ গল্প করেছি। প্রত্যেকের সাথে আলাদা করে। দেখলাম কথা বলতে খারাপ লাগছে না। এক ধরনের শান্তি বা আশ্রয়।

আমি আজকেও গাছগুলোতে পানি দিলাম। পাতাগুলোন যত্ন করে পরিষ্কার করে দিলাম। এবং কথা বললাম।

প্রিয় পাঠক, এই ছবিটা আমার গাছের নয়। প্রায় এক বছর আগে তোলা একটি ছবি। ছবিটা আমার ফ্লিকারে পোস্ট করেছি। আমার নিজের গাছগুলোর মতোন এই গাছটির নামও আমি জানি না।

তোমাকে যখন ভাবি না

পরে না ভাবার জন্য খারাপ লাগে

তোমাকে যখন ভাবি

তখন তোমাকে পরিপূর্ণ দেখতে না পাওয়ায় খারাপ লাগে

তোমাকে যখন দেখি না

তখন না দেখতে পাওয়ার কষ্টে খারাপ লাগে

তোমাকে যখন দেখি

তখন তোমাকে পাশে না পাওয়ার জ্বালায় খারাপ লাগে

তোমাকে যখন পাশে পাই

তখন তোমাকে ছুঁতে না পারার জন্য খারাপ লাগে

তোমাকে যখন ছুঁয়ে দেই

তখন তোমাকে হারাবার ভয়ে খারাপ লাগে

তুমি যখন হারিয়ে যাও

আমার অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে অনেক খারাপ লাগে।

তুমি আসলে আমার ভাগ্যের পরিহাস;

তোমাকে পাওয়ার জন্য আমার দুর্ভাগ্য-দায়ভারে যাই

তবুও দেখ, আমি তোমাকেই চাই;

তোমাকে চাই তাই কষ্টের হিসেব করি

তোমাকে চাই বলেই আমি বসে বসে কান্না করি

নির্জন রাত বা বিষন্ন বিকেলে;

যখন নিজের অক্ষমতার কথা ভেবে ভয় পাই

ঠিক তখনি আমি আবার তোমাকেই চাই।

ইদানিং কোন এক অদ্ভুত কারনে আমার মৃত্যু চিন্তা হচ্ছে। বিষয়টা খুব হাস্যকর! আমার বয়স মাত্র ২৮বছর ৫মাস। এই বয়সে মৃত্যুচিন্তা হওয়ার কথা না। আমার হচ্ছে। ভালোই হচ্ছে। মৃত্যুকে বোঝার মতোন সামর্থ বা সাহস আমার নেই। তবুও আমি ভাবি। বড় কষ্ট হয় আসলে! কষ্টটা আসলে অনেক অভিমানের।

আমি যদি মরে যাই তার পরিনতি নিয়ে আমার অভিমান! আমি একা থাকি (অসংখ্যবার এই তথ্য দিয়েছি)। আমি মরে গেলে আসলে কেউ টের পাবে না। অথারিতি আমার অনলাইন স্টাটাস আইডেল হয়ে থাকবে (যদি আমার বাসার ফাইবার অপটিক ক্যাবল কেউ কেটে না ফেলে বা আমার রাউটার হ্যাং না করে)। আমার মোবাইলে ফোন করলে ধরব না। এটাও স্বাভাবিক। আমি প্রায় কোন ফোনই ধরি না। তাই আমার মৃত্যুর উপলব্ধি হবে দুর্গন্ধ দিয়ে। ৮/১০ দিন পরে যখন আমার শরীরটা পচে যাবে তখন সবাই টের পাবে। খুব বাজে ব্যাপার হবে। আমি হয়ে যাব একটা গলিত পচা লাশ। অভিমান এইখানেই।

ইদানিং আমি আমার গলিত চেহারাটা দেখতে পাচ্ছি। বড় কুৎসিত দৃশ্য। বড় কুৎসিৎ।

আজকে ঈদ। ঈদের দিনে এই ধরনের একটা লেখার জন্য দুঃখিত।

dead vs liveএই ছবিটার নাম মৃত বনাম জীবিত। তুলেছিলাম কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে। আজকে ছবিটা আমার ফ্লিকারে পোস্ট করলাম। যেহেতু আমি এখন উপলক্ষ করছি ছবিটাকে তাই ছবির সাথে একাত্মতা করতেই হচ্ছে। এটা দায়বদ্ধতা এক ধরনের। ছবির প্রতি দায়ভার।

আমার বাড়ি কুড়িগ্রামের রায়গঞ্জে। বাড়ি যেতে পাড়ি দিতে হয় ধরলা নদী। আগে এই নদীর উপর ব্রিজ ছিল না। তখন অনেকটা পথ হেটে যেত হতো চরের মধ্য দিয়ে। অনেক কষ্টের একটা পথ। নদীর চরে সব সময় দু’জন ভিখারিনীকে বসে থাকে দেখতাম। কথনও কথা বলতো না। ফ্যাল ফ্যার করে চেয়ে থাকতো। ভাবলেশহীন (আমি তাদের সম্পর্কে আমার একটা কবিতা লিখব তে বলেছি) মুখ। আমি আজকে চিন্তা করছি তারা কী মৃতজন ছিলেন? তাদের জীবন বোধটা কী ছিল? জীবনের কোন দিকটা নিয়ে তারা ভাবিত হতেন?

অনেক নির্জনতায় আমার বাস এখন। একা একা থাকি। ভাবি। অনুভব করার চেষ্টা করি জীবনকে। এই নির্জনতায় মাঝে মাঝে নিজেকে মৃত মনে হয়। বা মৃতপ্রায়। এই অনুভবের প্রেক্ষিতে মাথায় এলো একটা সার্ভিসের কথা। এমন কোন একটা নাম্বার থাকবে। যে নাম্বারে ফোন করলে অটো এন্সার হবে। এবং যা থেকে শোনা যাবে লাইভ কোলাহল। যে সময়টা আমি অনেক নিঃসঙ্গ অনুভব করব। আমি সেই নাম্বারে ফোন করে কোলাহল শুনব। কোলাহলকে এখন জীবন মনে হয়। মানে আমার এই জীবনবোধের সাথে তুলনা করে।

এমন কোন নাম্বার কী আছে যেখানে ফোন করে মানুষের দুঃখগুলোন অটো ক্লিন করে ফেলা যাবে। ফোন করলেই অপারেটর বলবে “আপনার দুঃখ ডাউনলোড করা হচ্ছে। ক্লিন করতে সময় লাগবে ১০মিনিট। এই ১০ মিনিট আপনি চোখ বন্ধ করে দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুলের মাঝে ছুটে বেড়ান। নদীর পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন কোনার কিনারায়। আকাশে মেঘের জন্মদিন। সেই মেঘের মধ্যে মেঘ হয়ে যান। তারপর মেঘ থেকে যখন বৃষ্টি হবে সেই বৃষ্টিতে ভিজুন। পানির প্রতিটি বিন্দুতে বয়ে বেড়ানো দুঃখ গুলোন মিশিয়ে দিন। তারপর ধুয়ে যাক। ধুয়ে যাক মুছে যাক বেদনার সকল স্তর।” এটা হবে হয়তো কোনদিন। যেদিন সামান্য হাসির কলোরবে জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে আমি নবজাতকের মতোন অনুভব করব জীবনকে। জীবনের ক্লেদ থাকবে না। এমনটা কবে হবে? কবে কোন ম্যাজিশিয়ান আমাকে আলিঙ্গণ করবে? অপেক্ষায় আছি কিন্তু!

জীবন যেমন অপেক্ষার একটা দায়ভার নিয়ে বয়ে যাই। মাঝে মাঝে হিসেব মিলাই। কিন্তু যে অংক বা হিসেব মেলাতে চেষ্টা করি তা থাকে স্বপ্নের জগতে। তাই বাস্তবের মাপকাঠি গুলোন আরালে থেকে অন্যকারোর কলকাঠি-ইশারায় ওলোট পালোট হয়ে যায়। তাই আর দুঃখের শেষ হয় না। তাই আমি একটা দুঃখের ফোন নাম্বার পেয়েছি। এই নাম্বারটায় ফোন করলে কেউ একজন ফোনটা ধরে। তার গলার স্বরে থাকে জীবনের তাবৎ অভিজ্ঞতা। কিন্তু আমার মতোন যারা স্বপ্ন বা ভালোবাসার কাঙাল তাদের জন্য করুণামিসৃত কোন কথা থাকে না। তাই সময়ের প্রতিটি হাসির ঝঙ্কার, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। আর তা হয়ে যায় হাহাকারের অট্টহাসি। সেই হাহাকারের আকারে বিকারে দুঃখের জন্ম হয় শুধু। অত:পর। আমি নির্ঝর সেই দুখের ধারায় অনেক বেশি দুঃখ সঞ্চয় করি। এভাবেই আমার দুঃখ প্রাপ্তি ঘটে।

রবীন্দ্রনাথে বাঁশি থেকে শিরোনামটি ধার নিলাম। প্রিয় কবিতার  লাইন নিতে আমার কোন আপত্তি নেই। যদিও আমি আকবর বাদশাহ বা হরিপদ কেরানি নই। আমি মনে হয় কান্তবাবু, শুধু বাজনা বাজাই। এ বাজনা তোমাদের কানে পৌঁছাবে না। যে কানে গড়ম সীসা ঢেলে রেখেছো সে কানে গান প্রবেশ করবে না। এ গান বড্ড অবেলার গান।

হা হা হা। অনেক ভারী একটা শিরোনাম দিয়ে দিলাম। আসলে গত কয়েকদিন থেকে বাসার সাথে যুদ্ধ করছি। মানে সবকিছু নতুন করে সাজাচ্ছি। যেহেতু আমি গৃহী (সারাদিন বাসায় থাকি সেই অর্থে) তাই বাসাটার একটা মেজাজ তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমার বন্ধুর পরামর্শে কালার থিম দিলাম বাসায়। বসার ঘরটা এখন সাদাকালো, আমার শোবার ঘর বাসন্তী। আহা কী সুন্দর অনুভূতি। চিরবসন্তের মাঝে বিলীন হয়ে আছি। আর পুরোপুরি বসন্ত অনুভবের জন্য আজকে সারাদিন কোকিলের ডাক চালিয়েছি কম্পিউটারে। অবশ্য কোকিল কন্ঠের জন্য ডা. রোনাল্ড হালদারকে ধন্যবাদ দিতে হয়। ওনারি রেকর্ড করা ডাক।

তো ঘরেতে বসন্ত, মনেতে শ্রাবণ, বাইরে বরিষণ। ধারাবাহিক উপরিপাতন! বিষাদমাখানো একটা গৃহ হয়ে গেল। আমি একা একটা মানুষ এই বিষাদ অরণ্যে হাসফাস করি। বুভুক্ষের মতোন চেয়ে থাকি ফোনের দিকে। কিন্তু সানাই বাজে না।

আগের প্যারাগ্রাফের শুরুতেই বললাম মনেতে শ্রাবণ। আসলেই তাই। আমি খুব বিষন্ন হয়ে আছি। কোথা থেকে যে আসছে বেদনা বুঝি না। আমার নতুন সাজের বাসায় আমি বসে বসে বেদনাপাত করছি। স্বপ্নাতুর হয়ে বেদনার অনুভূতি গুলোন দিয়ে রঙ মাখছি। আহা বসন্ত! তোমার রঙের সাথে আমার বেদনার রঙ! ভালো কম্বিনেশন। দুয়ো তোমাকে!

আমার এ ঘর শূণ্যতার ঘর। আমার এ গৃহ প্রবেশের অনুপযোগী। তবুও কষ্টের কষ চেটে চেটে চলি আমি দুখের বাজিকর। ভালো থাক আমার এ ঘর!

ব্রাত্য রাইসু বলেন আমার লেখাতে "আমি" ভাবটা অনেক প্রবল। আমার জবাব ছিল "আমার নিজের ব্লগেই এই জন্য লিখি। তাই স্বাধীনতা নিতে পারি ষোল আনা। কারো (কর্তৃপক্ষ) কাছে জবাব দিতে হয় না।" আসলেই তাই। আমার এই এলেবেলে আমিটার জন্যই এ ব্লগ।

আমি একা থাকি। আসলে একা থাকিও না। সারাদিন যখন কাজ করি, তখন একা না। যখন কম্পিউটার এর সামনে থাকি, একা থাকি না। অনলাইনে অনেক জন। কথাও বলি না কিন্তু তাদের অনলাইন উপস্থিতি এক ধরনের আশ্রয় দেয়। আমি সেই ভার্চুয়াল আশ্রয়টুকু জড়িয়ে থাকি। পেচিয়ে থাকি আমার আবেশে। চৌম্বকিত করি অনলাইনে থাকা মানুষদের। আহা বেঁচে থাকা!

তবুও কিন্তু একটা সময় বিছানায় আসতে হয়। বিছানা অপেক্ষা করে একটা। আর তখনই আমি অনেক একা। যে থাকে অপেক্ষা করে তার কাছে এলেই মানুষ একা হয়ে যায়? কী নিদারূণ ম্যাজিক। বেঁচে থাকার উপলক্ষ গুলোন এ সময়টা অনেক বেশী হিসেব করি। মনে হয় দিন শেষে আমি এক মুদির দোকানি ২০০গ্রাম গড়ম মশলাল দাম মিলাচ্ছি!

কত জনস্রতের প্রবাহ আমি অনুভব করি। অন্যের সমস্যা শুনি, উপায় বলি। খারাপ নয় অনলাইনের জীবন। কিন্তু একটা কথা কখনই শুনি না। "আমি খেয়েছি কি না?" কেমন যেন নিজেকে কাঙালের মতোন মনে হয়। এ বেদনা আমার সকাল বেলা চা খাওয়া বন্ধ করার বেদনার মতোনই। বড় অভিমানি বেদনা। এই বেদনা আস্তে আস্তে শরীরে মিশে। বড় মধুর মতোন এ অভিমান। লালন করতে ভালো লাগে কিন্তু কোথায় যেন খঁচখঁচ করে!

হে আমার আশ্রয়(রা)! আমি খঁচখঁচানি নিয়ে, অভিমান নিয়ে এই রাতের কাছে, বিছানার কাছে নিমজ্জ্বিত হচ্ছি। আমি একা হয়ে যাচ্ছি! আজকে রাতে শুধু খাওয়াটা হলো না। রান্না করতে একদম ইচ্ছে করছিল না। খেতে ভালোও লাগে না।

picture of a labor-2ছবির মানুষটার নাম মনে নেই। তবুও একটু পরিচিতি পর্ব ফরমার আকারে দিচ্ছি।

নাম: অজানা

পেশা: ট্রাক শ্রমিক

বয়স: ৫০ (আনু:)

গ্রাম: রাঙ্গালীর বস্

উপজেলা: নাগেশ্বরী

জেলা: কুড়িগ্রাম।

এইভাবে দেয়ার অর্থ হলো আমি ওনার পোট্রেট করেছি। যদিও তাকে চিনি গ্রাম্যসূত্রে, তবুও তিনি আমার মডেল।

ছবিটা আনুমানিক ৩বছর আগের তোলা। তারিখ মনে নেই।

এবার ঈদে বাড়ি যাচ্ছি না। ঈদের পরে যাব। এবার গিয়ে পোট্রেট কালেকশন বাড়িয়ে ফেলব। দেখা যাক কী হয়!

Page 1 of 3123