Lutfar Rahman Nirjhar's Blog | ..!

CAT | বেড়ানো

ছবির পাখিটা অনেক বেশী পরিচিত সবার কাছে। একজন নিকটজনদের মতোন এই পাখি। যদিও ঢাকায় এর দেখা মেলে না। ইটের বস্তিতে এরা থাকে না।Babler

আমার মা এই পাখিকে ডাকেন ক্যাচকেচি পাখি। তার কাছ থেকে আমিও এটা শিখেছি।

ছবিটা জাহাঙ্গীরনগর থেকে তোলা। আমার ফ্লিকারে পোস্ট করেছি।

www.nirjhar.com

· · · · · ·

Coppersmith BarbetI took this shot from Jahangir Nagar University Campus, in TSC area. This tree was a Banyan Tree. This bird with his folks was dancing over the branches of that tree. The number of birds was some hundreds. They were eating the fruits of the tree. And they looked very happy (may be the meal was really delicious) while they’re singing and dancing.

পাখিটার বাংলা নাম ভুলে গেছি। সুন্দর একটা নাম আছে। কেউ্ দয়াকরে আপডেট করে দিন। আমার পাখি বিষয়ক জ্ঞান অনেক কম। এই ছবিটাও আমার ফ্লিকারে আপলোড করেছি।

www.nirjhar.com

· · · · · · · ·

কুষ্টিয়া থেকে রওনা হই ১৪তারিখ দুপুর ২.৩০ এ। আগের রাতে অনেক ভালো ঘুম হয়েছে। প্রায় ১১ঘন্টা ঘুমিয়েছি। ঘুমের আগে আমি লিলুয়া বাতাস বোঝার চেষ্টা করছিলাম। ভাবছিলাম শুধু লালন শাহ’র কথা। লোকটা আজকে শুয়ে আছে, তার চারপাশে সারি সারি কবর। অনেক গুলোন কবরের মাঝে আছেন উনি। মৃতকে পাহারা দিচ্ছে মৃতজনেরা। বিষয়টা খুবই রহস্যময় লাগছিল।

১৪তারিখে অনেক পরে ঘুম ভাঙল। উঠে গোসল দিয়েই খেতে বের হলাম। হোটেলের নাম জাহাঙ্গীর হোটেল। জঘন্য রান্না খেলাম একটা মাছের আইটেমের। তাই আবার এক পিস খাসি’র মাংশ নিলাম। এই রান্না হয়েছে ১০ এ ১২ পাওয়ার মতোন। মাছের রাগ পানি হয়ে গেল। পুরা ডায়েটে থাকা আমি মানুষটা মনের সুখে ভাত খেতে থাকলাম।

বাসে উঠার পর একটু চোখ বুঝলাম। এক ধরনের অন্যরকম ভালো লাগা নিয়ে ফিরছি। অনেক শক্তি সঞ্চয় করে ফিরছি। এই ভালোলাগা নিয়ে চোখ মেলে চাইলাম। সব কিছুই সুন্দর লাগছিল। আকাশে সূর্যকে ঢেকে রেখেছে মেঘ। খুব নিরুত্তাপ একটা দিন। নরম আলো পড়েছে গাছের গায়ে। সেই হালাকা নরম রঙের সাথে মিশে গেলাম। দিগন্ত বিস্তৃত চলনবিলে নৌকা বাইছে জেলেরা। বড় সুন্দর একটা পেইন্টিং। এই গ্যালারির প্রদর্শণী চলল অনেক্ষণ। আর তারপর….

তারপর আবার সেই ঢাকা। সেই ঢাকা……ধুর…..

· · · ·

গতকাল খুব সকালে আমি কুষ্টিয়া রওনা হই। ঢাকার সকাল। সাদামাটা একটা সকাল। ৯টার সময় আমার বাস ঢাকা থেকে ছাড়ল। যমুনা সেতু পর্যন্ত আমার পথ চেনা। আমার বাড়ি কুড়িগ্রাম, তাই এই পথ আমি অনেক ভালো চিনি। যমুনা পার হয়ে যখন রাজশাহী’র রাস্তায় চলা শুরু করলাম, পথ আর চিনি না। পথ হয়ে গেল অপার সৌন্দর্যের, বিস্ময়ের।

সত্যিকারের হাইওয়ে। বাইরে ঝলমলে রোদ। সামনে বিস্তৃর্ণ পথ। গাড়িতে শৈততা। গাড়ির উপরে আকাশ। আকাশের নীচে আমি আর আমার দু’দিকে যতদূর দৃষ্টি যায়: চলনবিল। বর্ষায় চলনবিল কখনো দেখিনি। এবার দেখা হয়ে গেল। দিগন্তরেখা জুড়ে পানি আর পানি। আকাশে মেঘের বারাবাড়ি। মাথা খারাপ করার মতোন অবস্থা। যখন বিলের দাপট শেষ হয়ে গেল; চারিদিকে সবুজ ধান ক্ষেত। আহা! সবুজের মধ্যে মেঘের কারসাজি করা রোদ। মনে হলো আমি যেন ক্ষত-বিক্ষত আর কোন জন নই। মনে হলো এই পৃথিবী সবচেয়ে সুখী মানুষটাই আমি। দু’চোখ ভরেই দেখলাম। দেখতে থাকলাম।

গাড়িটি যখন লালন সেতুর কাছে পৌছল, তখন অবস্থা হলো সবচেয়ে সুন্দর। হঠাৎ লক্ষ করলাম আকাশে মেঘের মিছিল। এতো সুন্দর মেঘমালা আমি কখনো দেখিনি। অনেকটা ডে আফটার টুমরো ছবিটার থার্মাল সার্কেলের মতোন। মেঘেরা যেন চারপাশ থেকে ছুটে এসে আমাকে বন্দী করার চেষ্টা করছে। মেঘমালার দিকে তাকিয়ে মনে হলো অনেদ আদীম কোন রোমান ভাষ্কর খুব যত্ন করে তৈরি করেছে এই থ্রিডি স্কাল্পচার। কোন কোন মেঘের উপরে রোদ আবার কোথাও ভারী মেঘের কিনারায় রোদের আলো চক চক করছে। একদম বলা যায় গোল্ডপ্লেটেড মেঘ। এই সৌন্দর্য সহ্য করার মতোন নয়। প্রিয় বন্ধু সাজুকে ফোন করলাম। বললাম। রোবটের মতোন সাজু শুনল।

আমি চিত্রকর হলে এই মেঘের মনে হয় ছবি আঁকার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আমি চিত্রকর্ম পারি না। ছবি তুলতে পারি। ছবিতোলার উপায় নেই, আমি ক্যামেরা ব্রান্ড পরিবর্তন করেছি। সমস্তু নাইকন ছেড়ে দিয়েছি। নতুন কেনন এখনো হাতে পাই নি। এই প্রথম ক্যামেরাকে খুব মিস করলাম। কারো কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে আসা উচিৎ ছিল। আমি কুষ্টিয়া শহরে পৌছলাম দুপুর দু’টায়।

হোটেলে ব্যাগ রেখেই আমি হাওয়া। অনেক খিদে পেয়েছে। খেয়ে এসেই ঘুম। ঘুম ভাঙল সন্ধ্যার পরে। আমি দ্রুত ফ্রেশ হয়ে রিক্সা নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করতে শুরু করলাম। একদম ভবঘুরেদের মতোন। কুষ্টিয়ার বাতাসে সমস্যা আছে। খুব বোহেমিয়ান, চনমনে বাতাস। একটু অন্যরকম। মন আনচান করার মতোন হাওয়া। আমি যে হোটেলটায় উঠলাম, এর নাম শাপলা। শহরের শাপলা মোরের কাছে।

আমার রিক্সাওয়ালার নাম সবুজ। সবুজ এসএসসি পাশ করার পর আর কিছুই করেন নাই। দুই বাচ্চা আর তাদের মা’কে খাওয়াতে রিক্সা চালাচ্ছেন। সবুজের সাথে রিক্সায় ঘুরতে ঘরতে অনেক তথ্যই জানা হয়ে গেল। সবচেয়ে মজার তথ্য হলো এখানে ব্যাঙের ছাতার মতোন বাচ্চাদের কোচিং সেন্টার হচ্ছে। প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে নাকি এই ব্যবসা। এটা খুবই হতাসার ব্যাপার। বিষয়টা আমার কাছে এক ধরনের হাইপ মনে হলো। আমার বিশ্লেষণ হচ্ছে:

  • এই শহরের মানুষেরা অলস। তা না হলে একি ধরনের ব্যবসা কেন কপি করবে? নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে নতুন কিছু করতো!
  • শহরের বাবা মা গুলোন এক ধরনের মানষিক চাপে আছেন। নইলে কেন ছোট্ট বাচ্চাদের কোচিং এ পাঠাতেই হবে! অবশ্য দেশের সার্বিক পরিস্থিতি একটা কারন হতে পারে। জীবন যুদ্ধে জয়ী বানানোর ট্রেনিং।
  • শহরের মানুষগুলোন অনেক বেশী ভদ্র। আমি শহরে ঘুরেছি রাত ১১:৩০ পর্যন্ত। এইটুকু সময়ের মধ্যে কেউ’ই আগ বাড়িয়ে কথা বলতে আসে নাই। প্রাইভেসি দিয়েছে।

আজকে আমি এখন পর্যন্ত হোটেলে। এখন বাজে দুপুর ১টা। রাতে খুব ভালো ঘুম হয়েছে অনেক দিন পরে। ভাবছি বেশ কিছুদিন এখানে থেকে যাব।

আজ শনিবার। দুপুরের খাবারের পর আবারো শহর দেখতে রিক্সায়। আজকে গেলাম লালন শাহ্’র মাজারে। সারি সারি কবর। সবগুলো কবরের কাছে গেলাম। নাম পড়লাম সবার। সবশেষে ঢুকলাম তাঁর কবরের ঘরে। জায়গাটার মধ্যে কিছু একটা আছে। বিষয়টা খুব বেশী পরাজাগতিক। আমার পক্ষে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আমি প্রায় আধা ঘন্টা কবরের ঘরটায় চুপচাপ দাড়িয়ে রইলাম। ভেতর থেকে বাউলদের গান কানে আসল। অডিটরিয়ামের নীচে গান হচ্ছিল। আমি অনেকটা সময় নিয়ে গান শুনলাম। পুরা কম্পাউন্ডটা হেটে দেখলাম। সন্ধ্যার আগে আগে হোটেলে ফিরে আসলাম। এখন রাত ন’টা।

  • · · · · · · · ·

    DSCF0364

    ফুলকুমার নদী। ছবিটি তুলেছিলেন ডাঃ রোনাল্ড হালদার। আমরা ২০০৩ সালে বেড়াতে গিয়েছিলাম।

    · · · ·

    সেইন্ট মার্টিন থেকে ঘুড়ি উৎসব শেষ করে ফেরার পরও সবার মধ্যে একটা উৎসবের রেশ। এই রেশ কাটাতেই আবার একটা ঘুড়ি উৎসবের পরিকল্পণা। এবারের স্থান ঢাকার কাছের মাওয়া। যেখানে আছে পদ্মা নদী। পদ্মার চরে আছে পদ্মা রিসোর্ট। সেই রিসোর্টে আমরা রওনা হলাম ২১মার্চ, ২০০৮।

    padda resort

    পদ্মা রিসোর্টের সামনের অংশ।

    ছবিটি তুলেছিলাম হাটতে হাটতে।

    মাওয়া পর্যন্ত গেলাম রিতিমতোন লক্কর ঝক্কর মার্কা একটা বাসে। তবে আমাদের সাথের মানুষগুলো খুব বেশী রঙিন। তাই বাসটির করুণতা কোন অংশেই গুরুত্ব পেল না। আমরা গাইতে গাইতে মাওয়া পৌছে গেলাম। সেখান থেকে ৫মিনিটের নোটিশে পদ্মার চর তথা পদ্মা রিসোর্ট।

    চরে নেমেই মনটা ভালো হয়ে গেল। অনেক উজ্জ্বল একটি দিন ছিল। আকাশে ভাবুক ভাবুক উড়ু উড়ু মেঘ। নির্মল বাতাস। এতটাই নির্মল যে আমি সমীরন (যখন কোন বাতাস খুব বেশী প্রশান্তি দেয় আমি তাকে সমীরন বলি) বললাম। চরটির মধ্যে এক ধরনের বিস্তৃর্ণতা আছে। যেদিকেই তাকাই একটা হালকা সবুজাভ আচ্ছাদন। তার মাঝে কোথাও একটু একটু তাবু (রঙিন তাবু)। সবাই নানা রঙের ঘুড়ি উড়াতে ব্যস্ত।

    আমি আসলে মুগ্ধ রিসোর্ট দেখে। অনেক শান্তি দিল আমাকে। সবুজের মাঝে কাঠ ও খর দিয়ে বানানো ভয়ঙ্কর সুন্দর কিছু থাকার জায়গা। আছে সুন্দর খাবারের দোকান। যে কেউ চোখ বন্ধ করে পছন্দ করবে।

    padda resort-inside

    রিসোর্টর ভিতরের অংশ। এই রকম ঘাসের আচ্ছাদন পাওয়া যাবে পুরো রিসোর্টে। ঘরগুলি সব দোতলা। কাঠ দিয়ে তৈরি।

    ছবিটি তুলেছি খাবারের ঘরের সিঁড়ি থেকে।

    আমরা সারাদিন অনেক ঘোরাঘুরি করলাম। ফুটবল, ঘুড়ি, ক্রিকেট সব হয়ে গেল। দুপুরে খেলাম খোলা আকশের নীচে। লাইভ ইলিশ ভাজা, ইলিশের ঝোল আর সব্জি। ছড়ালাম অনেক ভাত। যেহেতু ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না, তাই চলে আসল হাজারো কাক। তবে ঢাকার কাকের মতোন সেই কাক আমার খারাপ লাগল না; উল্টো ভালো লাগল।

    দিন শেষে রাত নামল। আমাদের যাওয়ার ডাক এল। সবাইকে যেতে হয়। তারপর আবার সেই যানজট, আবার সেই ধোঁওয়া, আবার সেই মিথ্যে কথার শহরে। ইটের পর ইট শুধু স্বপ্ন গুলো আন ফিট। এই শহরে রাতের আকাশে তারা দেখা যায় না। বড় কষ্ট লাগে।

    · · · ·

    ছবিটা তুলেছিলাম জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আমার বোনদের দেখতে গিয়েছিলাম। ভালোই ছিল দিনটা। অনেক সকালে গিয়েছিলাম লোকাল একটা বাসে করে। অনেক সকাল তাই অন্য কোন সার্ভিস ছিল না। অনেক ভোরে দেখেছিলাম ক্যাম্পাসটি। কুয়াশায় ঢাকা ছিল চারপাশ, হয়তো আমিও সিক্ত ছিলাম অন্যভাবে।

    common scene in unusual posting time

    ছবিটা তুলেছিলাম ৭০মিলিমিটার লেন্স দিয়ে। আসলে লেন্সটি ছিল ৭০-৩০০। সেই মুহূর্তে আর পরিবর্তন করার উপায় ছিল না।

    অনেক দিন পরে ছবিটি খুঁজে পেলাম। তাই আর বিলম্ব না করে র ফাইলটিকে প্রসেস করে ফ্লিকারে উঠিয়ে দিলাম। আশা করি ছবিটি ভালো লাগবে সবার।

    শুভেচ্ছা।

    · · · · · ·

    what is missing....

    I took this photo from the Padma resort of Mawa, Dhaka. I really enjoyed that trip.

    ছবিটা ঘুড়ি উৎসব থেকে তোলা। আমরা সবাই ঘুড়ি উড়াতে গেছিলাম। সারাদিন অনেক মজা করেছি। ছবিটা আমার ফ্লিকারে আপলোড করেছি আজকে। ওখান থেকেই লিংক করে দিলাম।

    · · · · ·


    I really enjoyed the trip. Took lots of photos. I am here sharing one of them. The resort was really great. Pin drop silence and peace! Only problem is food. I didn’t like it. But natural beauty and peace will let you forget everything. You can visit this place too. Or write to me. I’ll be your guide :D

    Tags: , , , , , , , , , ,

    · · · · ·