Archive for the ‘Pathshala’ Category

এই লেখার বিষয় আমার উপর অর্পিত। পাঠশালার শিক্ষক রেজাউর করিম মনু’র বরাতে আমার লেখনীতে চলে এল। যেহেতু আমি পাঠশালায় অধ্যয়নরত আছি তাই এই লেখাটি আমার পরীক্ষা। প্রিয় পাঠক আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।

যার হাতে ক্যামেরা থাকে তিনি না চাইলে কখনো ছবি হবে না। মানে কোন একজন ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরাগিরি থেকে ছবি বা ফটোগ্রাফ তৈরি হয়। অবশ্য যদি কোন ব্যক্তি অন্ধকারের কোন ছবি তোলেন বা সাদা কোন ছবি তোলেন (কোন ধরনের ডিটেইল ছাড়া) তবে তাকে ছবি বলা ঠিক হবে না। তাই যদি একটু অন্যভাবে বলা যায় ‘আলোকচিত্রায়ন বস্তু অথবা বিষয়বস্তুর চিত্রায়ন নাকি তার উপর আলোকচিত্রীর চিন্তার পরিবেশন?’ তাহলে আলোচনাটা আরো জমে উঠবে।

যেভাবে একটি ছবির ছবি হয়ে ওঠা

ক্যামেরা নামের যন্ত্রের যান্ত্রিক সহায়তায় ফিল্ম অথবা ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষ ছবি তৈরি করে। এতে কিছু কারিগরি বিষয় আছে আর আছে ভিউ-ফাইন্ডার দিয়ে দেখে একটা মানুষের বন্দিকরা একটা মূহুর্ত। একটা ছবির জন্মলগ্নে কোন একজনের একটু দৃষ্টির প্রয়োজন হয়, তাই বলা যায় একটা ছবির ছবি হয়ে ওঠাটা নির্ভর করে কোন ব্যক্তির দৃষ্টির পরিবেশনা। আর মানুষের দৃষ্টিপাত চিন্তার একটা অন্যরূপ।

আলোকচিত্রায়নের শুরুর কথা

আলোকচিত্রের শুরুর ইতিহাস ক্যামেরা অবসকিউরার সাথে। তখনকার দিনের পেইন্টাররা কোনকিছুর আকার-প্রকারের প্রজেকশন বুঝতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। পরবর্তিতে এই চিত্রশিল্পীরাই হয়েছিলেন ক্যামেরার অনুরাগী। ক্যামেরা দিয়ে অনেক কম সময়ে মানুষের পোর্ট্রেট করা যেত। ইতিহাসের এই সাক্ষিকে মেনে বলা যায় ফটোগ্রাফি আদতে চিত্রশিল্পীদের ভালোবাসায় সৃষ্টি আর একটি মাধ্যম। বর্তমান সময়ে তাই ফটোগ্রাফি শিল্পকলা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যেহেতু কোন শিল্পকলা চিন্তার প্রয়োগ ছাড়া তৈরি হয়নি বা হয় না তাই অবশ্যই বলব আলোক চিত্রায়ন আলোকচিত্রীর চিন্তার পরিবেশন।

যেসব আলোকচিত্র বা আলোকচিত্র না

ক্যামেরায় সৃষ্ট সকল ছবিই আলোকচিত্র (কারিগরি ভাবে)। একটি ক্যামেরা দিয়ে যদি একটা বস্তুর ছবি তুলতে দশ জনকে পাঠানো হয় তবে কারো সংগে কারো ছবির মিল পাওয়া যায় না। স্বকীয়তা মানুষের বৈশিষ্ট তাই সবাই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখে। এই তথ্য একাধিকবার প্রমাণিত। তার মানে মানুষভেদে একই বস্তুর ছবি ভিন্নতর হয়। তার মানুষের চিন্তাতরঙ্গের তারতম্যে ছবির তারতম্য।

আজকে যারা অনেক বড় আলোকচিত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বা যারা এখনো প্রতিষ্ঠা পাননি সবাই কিন্তু তর্কে একটা জায়গায় থাকেন, তা হলো তাদের চিন্তার প্রতিচ্ছবি ছবিতে দেখাতে পারছেন কিনা। আজকের সময়ে আলোকচিত্র অনেক বড় একটা যোগাযোগের মাধ্যম। ছবির উপস্থাপন দিয়ে মানুষ সম্ভাবনা অথবা কোন তথ্যকে অনেক সহজে অন্যের দোরগোরায় পৌঁছাতে পারছে। মানুষের ভাবনার জগতে একটি আলোকচিত্র প্রভাব ফেলছে অনেক অংশে। তাই আজকের দিনে খবরের কাগজে কোন দুর্ঘটনার ছবি দেখলে আর বলে দিতে হয় না সেটি দুর্ঘটনা নাকি আনন্দের খবর। আলোকচিত্র সেই ভাষায় পরিণত হয়েছে। আর মানুষের চিন্তার পরিবেশনার মাধ্যমই তো ভাষা। ভাষা দিয়ে মানুষ চিন্তার পরিসর তৈরি করে।

বস্তুর চিত্র বলে আদতে কিছু নেই

কোন বস্তু বা পণ্যের ছবি তুলতে বললে বা তোলা হলে বর্তমান সময়ে তা আর বস্তু থাকছে না। ধরা যাক একটি বস্তু চায়ের কাপ। যখন চায়ের কাপের ছবি তুলতে কেউ ফরমায়েস করেন বা শখের বসেই তুলে থাকেন কেউ ছবি: লক্ষ রাখেন কিভাবে সেই চায়ের কাপটির উপস্থাপন নান্দনিক হয়। বা ফরমায়েসি ছবি হলে তার উদ্দেশ্য থাকে কিভাবে সেটি অনেক দৃষ্টিনন্দন হয় যাতে ক্রেতা বুঝতে পারে কাপের মাহত্ম। তাই নিছক সাধারন বস্তু কাপটি আর সাধারন থাকে না। অনেক বড় স্টার হয়ে যায় কোন এক ফটোগ্রাফারের কেরামতিতে। এভাবেই আমাদের পুঁজিবাদি সমাজব্যবস্থা চলছে। এই সমাজে বাস করে কোন বস্তু ফটোগ্রাফিকে তাই আমার শুধুই বস্তুর ছবি মনে হয় না। বস্তুর ছবি এখন সুচিন্তিত বাজার বিপণনের অনেক বড় হাতিয়ার।

আমি একজন ফটোগ্রাফার। আমি কোন বিষয়বস্তুর ছবি চিন্তা না করে তুলি না। অনেক চিন্তা করেই তুলতে হয় ছবি।

31
Jan

পণ্য সংস্কৃতি

   Posted by: Nirjhar   in Pathshala, photography

DPP_0002 DPP_0003 DPP_0004 DPP_0005 DPP_0006 DPP_0007 DPP_0008 DPP_0009 DPP_0010 DPP_0011 DPP_0012 DPP_0013 DPP_0014 DPP_0015 DPP_0016 DPP_0001

বাংলাদেশের বাণিজ্যমেলা এখন একটি বড় পণ্য-বাজার। গতানুগতিক এই মেলা জন্ম দিয়েছে নতুন ধরনের পণ্য সংস্কৃতির।

Love

Searching for my childhood

Lack of Nature

A School in Dhaka

Re-Enter Moon

My Childhood

Ambition makes us Brutal

A City Without Moonlight

Bricks and Blocks Garden

19
Oct

গরু

   Posted by: Nirjhar   in Pathshala, আমার ছেলেবেলা

এই বয়সে গরু বিষয়ক রচনা লিখতে বললে শুধু একটাই মানে তৈরি করে: আমার বর্ণিল শৈশব! আমি হলফ করে বলতে পারি আমার সমসাময়িক বয়সের (আমার জন্ম ১৯৮০সালে) সবারই জীবনের পথম রচনা ছিল গরু। বা বলা যেতে পারে গরু কে দিয়েই আমাদের গদ্য লেখার হাতেখড়ি!

আমি বড় হয়েছি কুড়িগ্রামের রাঙালীরবস গ্রামে। আমার শৈশবে রচনা লেখা মানেই ছিল চোখ বন্ধ করে মুখস্ত করে ফেলা। মনে পরে হ্যারিকেনের আলোয় বসে পড়তাম তখন। পরীক্ষার সময় রাত জাগতে হতো, তা না হলে বাবা-মা ভাবতেন আমি সিরিয়াস না। আবার পড়া মুখস্ত বলে শোনাতে হতো! কত যে মার খেয়েছি এই গরুর জন্য!

বড় অদ্ভুত ভাবে এই রচনাটি লিখতে গিয়ে আমার উথাল-পাতাল জোৎস্নার কথা মনে পড়ছে। ঠিক এই সময়টায় হালকা কুয়াশা দেখা যেত। পূর্ণিমার সময় সেই কুয়াশাগুলোন অদ্ভুতভাবে শ্যাডোডিটেইলড হতো। হায়রে! ঢাকায় পূর্ণিমাও দেখতে পাইনা। এমনকি রাতে আকাশে তারাও দেখা যায় না!

আমার স্কুল ছিল গ্রামে। প্রথম ক্লাস ছিল একটা আম গাছের নিচে, ইটের উপর বসে। সম্ভবত ১৯৮৪ সালের কথা। স্কুলের নাম ‘রায়গঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’। অনেক মোটা একজন শিক্ষক ছিলেন, মোজাম্মেল হক স্যার যাকে আমার মোটাস্যার নামেই ডাকতাম। অনেক উদাসীন ভাবে ছাত্রদের পেটাতেন। সেই স্যার আমার প্রথম স্কুল শিক্ষক। স্যার আজকে আর বেঁচে নেই, সেই আম গাছটাও নেই! ক্লাস ওয়ানে থাকতে প্রথম গরু বিষয়ক রচনা লিখেছিলাম।

আমি জানিনা এই রচনা কত শব্দের হতে হবে। কিন্তু বুঝতে পারছি আমার শৈশবের প্রত্যেকটি ঘটনা এই রচনার সাথে সম্পর্কিত। আমার নানারঙের শৈশবকে নতুন করে মনে পড়েছে। এতেই আমি ধন্য। শহরের বাচ্চাগুলোর জন্য মায়া হয়! আমি জানিনা তারা গরু বিষয়ক রচনা এখনো লিখে কিনা। কিন্তু তাদের ইট-কনক্রিটের শৈশবে আর যাই হোক উথাল-পাতাল জোৎস্না থাকবে না।

Page 1 of 11