Lutfar Rahman Nirjhar's Blog | ..!

TAG | কবিতা

এই গানটি রবীন্দ্রনাথের ফাল্গূনী নাটকের অন্তর্গত। আমার অনেক পছন্দের একটি গান। বার বার শুনেছি অনেকের কন্ঠে। সবাই গানটি রবীন্দ্র সঙ্গীত বানিয়েছেন কিন্তু একজন শিল্পী গানটিকে গাইতে পেরেছেন (আমার মতে। সাইমন জাকারিয়াও একমত হয়েছেন আমার সাথে)। তিনি দেবব্রত বিশ্বাস। কিছুদিন আগে তার কন্ঠে এর ইংরেজি ভার্সনও শুনলাম। জানতাম না ফাল্গুনী ১৯১৭ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছিল! ইংরেজি ভার্সনটাও অনেক ভাল লাগল। ফাল্গুনী’র ইংরেজি ভার্সনের নাম The Cycle of Spring যা http://manybooks.net/support/t/tagorera/tagorera2460724607iliad.pdf এখান থেকে ডাউনলোড করে পড়া যাবে। আর এই গানটির ইংরেজি নাম The Songs of Fresh Beauty.

Etodin Je Boshe Chilem

এতদিন যে বসেছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে
            দেখা পেলেম ফাল্গুনে॥
        বালক বীরের বেশে তুমি করলে বিশ্বজয়–
            এ কী গো বিস্ময়।
        অবাক আমি তরুণ গলার গান শুনে॥
গন্ধে উদাস হাওয়ার মতো  উড়ে তোমার উত্তরী,
    কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরী।
তরুণ হাসির আড়ালে কোন্‌ আগুন ঢাকা রয়–
            এ কী গো বিস্ময়।
অস্ত্র তোমার গোপন রাখ কোন্‌ তূণে॥

THE SONG OF FRESH BEAUTY

We waited by the wayside counting moments till you appeared in the April morning. You come as a soldier-boy winning life at death's gate,-- Oh, the wonder of it. We listen amazed at the music of your young voice. Your mantle is blown in the wind like the fragrance of the Spring. The white spray of malati flowers in your hair shines like star-clusters. A fire burns through the veil of your smile,-- Oh, the wonder of it. And who knows where your arrows are hidden which smite death?

 

কবির সুমনের (সুমন চট্টপাধ্যায়) ঢাকার দ্বিতীয় কনসার্টে তিনি বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানে ঢোকা সহজ, বের হওয়া কঠিন। আমি একমত। তাই আবারো রবীন্দ্রনাথ!

আবার যদি ইচ্ছা কর আবার আসি ফিরে
     দুঃখসুখের-ঢেউ-খেলানো এই সাগরের তীরে ॥
আবার জলে ভাসাই ভেলা,  ধুলার ‘পরে করি খেলা গো,
              হাসির মায়ামৃগীর পিছে ভাসি নয়ননীরে ॥
কাঁটার পথে আঁধার রাতে আবার যাত্রা করি,
     আঘাত খেয়ে বাঁচি নাহয় আঘাত খেয়ে মরি।
আবার তুমি ছদ্মবেশে    আমার সাথে খেলাও হেসে গো,
              নূতন প্রেমে ভালোবাসি আবার ধরণীরে ॥

 

রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকোষ এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। যত ইচ্ছে পড়ুন একদম ফ্রিতে। লিঙ্ক: http://tagoreweb.in/  এখানে বোনাস হিসেবে পাবেন বিশ্বভারতীর স্বরবিতান সবগুলোই!

এটি অনেকটা উইকিপেডিয়ার মতোন। আপনি চাইলে এটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারেন। অবশ্য সাইটটির পরিচালকদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

· · · · · · · · · ·

তোমাকে যখন ভাবি না
পরে না ভাবার জন্য খারাপ লাগে
তোমাকে যখন ভাবি
তখন তোমাকে পরিপূর্ণ দেখতে না পাওয়ায় খারাপ লাগে
তোমাকে যখন দেখি না
তখন না দেখতে পাওয়ার কষ্টে খারাপ লাগে
তোমাকে যখন দেখি
তখন তোমাকে পাশে না পাওয়ার জ্বালায় খারাপ লাগে
তোমাকে যখন পাশে পাই
তখন তোমাকে ছুঁতে না পারার জন্য খারাপ লাগে
তোমাকে যখন ছুঁয়ে দেই
তখন তোমাকে হারাবার ভয়ে খারাপ লাগে
তুমি যখন হারিয়ে যাও
আমার অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে অনেক খারাপ লাগে।
তুমি আসলে আমার ভাগ্যের পরিহাস;
তোমাকে পাওয়ার জন্য আমার দুর্ভাগ্য-দায়ভারে যাই
তবুও দেখ, আমি তোমাকেই চাই;
তোমাকে চাই তাই কষ্টের হিসেব করি
তোমাকে চাই বলেই আমি বসে বসে কান্না করি
নির্জন রাত বা বিষন্ন বিকেলে;
যখন নিজের অক্ষমতার কথা ভেবে ভয় পাই
ঠিক তখনি আমি আবার তোমাকেই চাই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা এটি। আমাকে অনেক খানি পরিবর্তন করেছে এই কবিতাটি!

বাঁশি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কিনু গোয়ালার গলি।

দোতলা বাড়ির

লোহার-গরাদে-দেওয়া একতলা ঘর

পথের ধারেই।

লোনাধরা দেয়ালেতে মাঝে মাঝে ধসে গেছে বালি,

মাঝে মাঝে স্যাঁতাপড়া দাগ।

মার্কিন থানের মার্কা একখানা ছবি

সিদ্ধিদাতা গণেশের

দরজার ‘পরে আঁটা।

আমি ছাড়া ঘরে থাকে আরেকটা জীব

এক ভারাতেই,

সেটা টিকটিকি।

তফাত আমার সঙ্গে এই শুধু,

নেই তার অন্নের অভাব।।

বেতন পঁচিশ টাকা,

সদাগরি আপিসের কনিষ্ঠ কেরানি।

খেতে পাই দত্তদের বাড়ি

ছেলেকে পড়িয়ে।

শেয়ালদা ইষ্টিশনে যাই,

সন্ধেটা কাটিয়ে আসি,

আলো জ্বালাবার দায় বাঁচে।

এঞ্জিনের ধস্‌ ধস্‌,

বাঁশির আওয়াজ,

যাত্রীর ব্যস্ততা,

কুলি-হাঁকাহাঁকি।

সাড়ে-দশ বেজে যায়,

তার পরে ঘরে এসে নিরালা নিঃঝুম অন্ধকার।।

ধলেশ্বরী-নদীতীরে পিসিদের গ্রাম-

তাঁর দেওয়ের মেয়ে,

অভাগার সাথে তার বিবাহের ছিল ঠিকঠাক।

লগ্ন শুভ, নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেল-

সেই লগ্নে এসেছি পালিয়ে।

মেয়েটা রক্ষে পেলে,

আমি তথৈবচ।

ঘরেতে এল না সে তো, মনে তার নিত্য আসা-যাওয়া-

পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।।

বর্ষা ঘনঘোর।

ট্রামের খরচা বাড়ে,

মাঝে মাঝে মাইনেও কাটা যায়।

গলিটার কোণে কোণে

জমে ওঠে, পচে ওঠে

আমের খোসা ও আঁঠি, কাঁঠালের ভূতি,

মাছের কান্‌কা,

মরা বেড়ালের ছানা-

ছাইপাঁশ আরো কত কী যে।

ছাতার অবস্থাখানা জরিমানা-দেওয়া

মাইনের মতো,

বহু ছিদ্র তার।

আপিসের সাজ

গোপীকান্ত গোঁসাইয়ের মনটা যেমন,

সর্বদাই রসসিক্ত থাকে।

বাদলের কালো ছায়া

স্যাঁৎসেঁতে ঘরটাতে ঢুকে

কলে-পড়া জন্তুর মতন

মূর্ছায় অসাড়!

দিনরাত, মনে হয়, কোন্‌ আধমরা

জগতের সঙ্গে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছি।

গলির মোড়েই থাকে কান্তবাবু-

যত্নে-পাট-করা লম্বা চুল,

বড়ো বড়ো চোখ,

শোখিন মেজাজ।

কর্নেট বাজানো তার শখ।

মাঝে মাঝে সুর জেগে ওঠে

এ গলির বীভৎস বাতাসে-

কখনো গভীর রাতে,

ভোরবেলা আধো-অন্ধকারে,

কখনো বৈকালে

ঝিকিমিকি আলোয়-ছায়ায়।

হঠাৎ সন্ধ্যায়

সিন্ধু-বারোয়াঁয় লাগে তান,

সমস্ত আকাশে বাজে

অনাদি কালের বিরহবেদনা।

তখনি মুহূর্তে ধরা পড়ে

এ গলিটা ঘোর মিছে

দুর্বিষহ মাতালের প্রলাপের মতো।

হঠাৎ খবর পাই মনে,

আকবর বাদশার সঙ্গে

হরিপদ কেরানির কোন ভেদ নেই।

বাঁশির করুণ ডাক বেয়ে

ছেঁড়া ছাতা রাজছত্র মিলে চলে গেছে

এক বৈকুন্ঠের দিকে।।

এ গান যেখানে সত্য

অনন্ত গোধূলিলগ্নে

সেইখানে

বহি চলে ধলেশ্বরী,

তীরে তমালের ঘন ছায়া-

আঙিনাতে

যে আছে অপেক্ষা ক’রে, তার

পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।।

আমি আসলে এখনও চিন্তা করি। আকবর বাদশা আর হরিপদ কেরানি’র কথা। বড় অদ্ভুদ জীবনযাত্রা। মিল পাই না।

· ·

একটা কবিতা লিখব এটি আমার ১৯বছর বয়সে লেখা একটি কবিতা। আমার গ্রামে বড় হয়ে ওঠার একটা অংশ এতে আছে। সেই সময়ে উদীচী’র অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়েছিল। অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। ফুলকুমার নদীর ধারের এই ছেলেটি সেদিনের কষ্ট বুকে জমা করে রেখেছিল।

এই কবিতায় হরিমতি’র কথা লিখেছি। আমার শৈশবের অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলানো চেষ্টার সে স্বাক্ষী। সে কোথা থেকে আসত সব সময় ভাবতাম। তখন আমাদের বাড়ির চারপাশের ফুলকুমার নদীর ওপারে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। খুব ছোট বেলায় হরিমতির বয়ে আনা টেংড়া মাছ আমার হাতে কাটা ফুটিয়ে দেয়। তাই থেকে তাকে আমি টেংড়া নামেই ডাকতাম। বলতাম হরিমতি টেংড়া। খুব রাগ করত। বেচারা কবে মরে গেছে জানি না। এখন তাকে পেলে হয়তো খুব আয়োজন করে ছবি তুলতাম তার। এই কবিতার সাথে লাইভ হরিমতি। ইউটুবে স্থান করে নিত। হরিমতি নেই। কিন্তু তার ‘বাপই’ রয়ে গেল। রংপুর অঞ্চলে ছোট ছেলেকে বাপই বলে।

অন্য চরিত্রগুলো নিয়ে সময় করে লিখতে হবে। আয়োজন করে লিখতে হবে। বর্ণিল সম্ভাবনা গুলো মলিন করতে খুব মায়া লাগছে। যাদের কথা লিখতে চাই তারা সবাই শুদ্ধ মানুষ। তাদের মলিনতা কখনও ছুঁতে পারে নি। অন্তত এই কথাটি আমি বিশ্বাস করি। প্রিয় শৈশব; প্রিয় ছেলেবেলা; আমারে তুমি অশেষ করেছ।

একটা কবিতা লিখব;
এই ধ্যান অনেক কাল ধরে
মিশে আছে মনে
আমার ভাবাতুর চেতনা পরে
কি লিখব সে কবিতায়?
ভাবি শুধু ভাবি
দিনরাত অবিশ্রান্ত
পড়ার টেবিলে-পার্কে-আড্ডায়,
শাওয়ারের শব্দে-বাথরুমে
পাইনা কিছুই খুঁজে।

একটা কবিতা লিখব;
নুতন কথার একটা কবিতা
কি লিখব সে কবিতায়!
ভাবি আর ভাবি………….।

একবার ভাবি
কবিতায় লিখি
ধরলার চরে সেই
নির্বিকার দুই ভিখারিনীর কথা,
যার হাত সবসময়’ই থাকে শূন্যে
প্রত্যাশায়,
দশ-বিশ-পঁচিশ পয়সা করে
সারাদিনে জমে যায় বেশ
খোলা আকাশের সূর্য কোনদিন তাতে
করে না চাঁদাবাজি
শুধু নির্বিকারভাবে দেয় তেজ
যেন হলুদ জন্ডিস মার্কা স্বপ্ন দেখায়।

একটা কবিতা লিখব;
একটা কবিতা লেখা উচিৎ
কি লিখব সে কবিতায়!
ভাবি আর ভাবি………..।

ইচ্ছে করে
কবিতায় লিখি
পয়ড়াডাঙার সেই তেতুল গাছ,
বিলের কিনার ঘেঁসে আছে দাড়িয়ে
বৃহৎ সুন্দর হয়ে
সবুজের ভান্ডার যেন
কতকাল থেকে কে জানে!
সারাদিন তার ডালে
পাখির ছুটোছুটি ক্লান্তিহীন
সবুজের বুকের মাঝে,
আবছা ছায়ায় যেন ভাসে
নিচের সবুজ জলে
যেন আমিও সবুজে আছি মিশে।

একটা কবিতা লিখব;
সুন্দর একটা কবিতা
ভাবনায় আসে না কিছু
আসে সীমাহীন অজ্ঞতা।

ভাবি কবিতায় লিখে ফেলি
রিম ঝিম বৃষ্টি
সুর বাজে ঝাপতালে
টিনের চালায়,
বৃষ্টির কণাগুলো আসবে হাওয়ায় ভেসে
সিক্ত করবে শুধু আমার খাতা
আলতো ভাবে,
যেন সোহাগে বুলিয়ে দেবে
মমতার পরশপাথর,
ছোঁয়াতে সোনার খাতায়
লিখে দেব
তার মহা জয়গান
প্রভাত আলোয়।

একটা কবিতা লিখব;
একটা কবিতা লেখার অপেক্ষায়
আছি বসে
কি লিখব সে কবিতায়!

ভাবি কবিতাতে এঁকে দেই
মজিরনের হাত দু’টো,
সারাদিন অবিরাম
ঠুকুস ঠুকুস
কয়লা ভাঙে,
প্রতিটিন দুইটাকা করে
মালিক দেবে
সে…………ই সাঁঝে,
ভিতরটা তার
ইট ভাটার কয়লার মত জ্বলে
উদরের সংগ্রাম অব্যাহতভাবে চলে
উপায় নেই তার
জীবন গেছে বলী
প্রার্থনা তার আজ
কখন আসবে সাঁঝ।


একটা কবিতা লিখব;
নুতন ধারার একটা কবিতা
দূর নিরুদ্দেশের যাত্রায়
প্রিয়জনের ব্যাথায়;
কি লিখব সে কবিতায়!

লেখার বাসনাতে
লিখে দেই
মন্টু মিঞাকে,
প্রিয়জন ছেড়ে
মফিজ হয়ে বাসের ছাদে,
দড়ির বেষ্টনীর ফাঁদে
জীবন মুঠোয় ভরে,
চলে দূর অজানায়………….
যেখানে ফলেছে ফসল আগে;
মফিজ অপবাদ ঘাড়ে
করে তাড়া বারে বারে
রোজগার করে আনবেই কিছু,
অনাহারে আছে প্রায়
তার বঁধু-দুধের শিশু।

একটা কবিতা লিখব;
কবিতা একটা লিখতেই হবে
ভালোবাসা মায়ার কোন কবিতা
বঞ্চিত জীবনের কবিতা
কার কথা লিখব?

ভাবনার চোখে আসে
মনের অজান্তে ভাসে
মলাতি বুড়ির কথা,
খুব সকালে সে আসত
শীর্ণ মলিন কান্তি
কুকড়িয়ে শুকিয়ে যাওয়া,
তবু মাথায় ধরা ভারে
রাশি রাশি মোয়া
বেড়াত ফেরী করে,
চিরকাল থাকবে মুখে মিশে
সেই সকালগুলোর
গোল গোল মোয়ার স্বাদ,
জানিনা কি ভেবে সে
জীবনের শেষ অবধি
কুকড়িয়ে যাওয়া শরীরে
মায়ার চোখে তাকিয়ে
করত ফেরী স্বর্গ প্রসাদ।

আবার চেতনায় জাগে
অনেক দিন আগে
হরিমতির কথা;
যাকে ডাকতাম টেংড়া বলে,
প্রতিদিন আসত সে
জেলে পাড়া থেকে
মাছের ডালা হাতে
ফুলকুমার নদী
পেরিয়ে,
ইচ্ছে করে কবিতায় শুধু বলি
তার চোখের দুঃখ ভরা হাসি
আর সেই ডাক;
‘মাছ নেবে গো মাসী।’

একটা কবিতা লিখব;
রক্তের উষ্ণতা মাখা কোন কবিতা
ভরা শুধু প্রখর খরতা
কি লিখব সে কবিতায়!

ইচ্ছে করে;
কবিতায় রক্তগঙ্গা দিই বইয়ে
সেইসব ঘাতক পশুর,
সুরের আবেশ ভরা মধ্যরাতে
যারা করে বোমা হামলা
নিস্প্রান করার বাসনায়
সমাজটাকে,
আদিম ক্রধে ভরে
তাদেরকে জড়ো করে
মনের ঘৃনা আক্রোশ মেশানো
ভয়াবহ এটম বোমাটি
দিই ছুঁড়ে,
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক
পৃথিবীর বুকে
প্রসুনের বিরুদ্ধাচারী
সেইসব কীট
যারা সুন্দর স্বপ্নের ঘটায় ব্যাঘাত
নড়ে যায় ভিত।

একটা কবিতা লিখব;
একটা কবিতা লেখার বাসনায়
আমৃত্যু থাকব আমি বসে,
ভয় নেই কিছু হারাবার
আমি লিখবই অবশেষে
কোন একটি কবিতা সাহসে।।

০১.০৫.১৯৯৯

·

শহর মানেই বন্দী দশার শুরু
শহর শুধু ইট-বালি-ককটেল
শহর মানেই বুক করে দুরু দরু
শহর শুধু ভয়ের সিঁড়িবেল।

৮ই, ১৭এ বনানী
ঢাকা ৯সেপ্টেম্বর/০৩
ভোর ৪.০০

এই কবিতটি লেখার সময় সম্ভবত হাওয়া ভবন ঘেরাও কর্মসূচী হয়েছিল। সারাদিন বাসা থেকে বের হতে পারি নি। খুবই বাজে একটি দিন ছিল।

·

তুমি করো রঙ্গমঞ্চে খেলা
পাবলিক খাই খালি ঠেলা
ঠেলাও আছে তবু হাভাতে
দেখে তুমি দাড়াও তফাতে
এরি নাম রাজ্যপৃষ্ঠপাশ
ভালোবাসা চরম হতাস;
আমরা তো শীতল বাতাস
বাল-ছাল কবিতার চাষ

১৭/০৯/২০০৪

কবিতটি লেখার পর আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এবার পেলাম। ভুল ফাইলে নেমিং হয়েছিল।

·

তৈলচর্চা প্রমিতকরণ
মহাগুরুবিদ্যা বুঝা অবান্তর অতি
শামুক খোলস তার নিদারুণ জ্যোতি
ডানে চান বায়ে চান হাসিতে লাগিয়া
সাগরেদ রেস ধরে ঢলিয়া ঢলিয়া
গুরুহস্তমধ্যে আছে মজার ম্যাজিক
ম্যাজিকের তাণ্ডবতে সঠিক-বেঠিক
গুরুর মাথায় যদি চিন্তা করে খেলা
ভক্তকুল ভক্তিভরে দেয় খালি ঠেলা
ঠেলায় ঠেলায় শেষে গুরুলীলা সারা
গুরুচিন্তাবিদ্যাজ্ঞান মাঠে যায় মারা
ভক্তকুলে মুসরায় ভয়াল ঘটনা
গুরুহীনসভাঘরে সভাযে টেকেনা!
ভক্তরা বসিয়া পরে একখানে মাথা
গুরুগুণকীর্তনেতে ইতিহাস গাঁথা
দিস্তাভরি কাগজেতে কালি অপচয়ে
গ্যালনে গ্যালনে তেল ঢালিল সকলে
তৈলাক্ত আবহাওয়া পিছলা পিছলা
ভক্তকুল চামড়াতে আবরণ দিলা
এইভাবে ভক্তদের চামড়াটা ভারী
তেলামির তৈলাক্ততা বুঝতে-না পারি

মিরপুর-ঢাকা/২০জুলাই/২০০৪

কবিতাটি আমার পছন্দের ছিল। পুরোনো হার্ডড্রাইভে অনেক কিছুর সাথে এটিকে খুঁজে পেলাম।

·

তোমাকেই বলে দিব-২

আমি তোমাকেই বলে দিব’ অনাদি-অন্ত সমাচার
সেই মহকালের সময়ের হিসেবেরও আগে থেকে বলে আসছি
এই স্বঃমন্ত্র; অনুচ্চারিত হয়েও তবুও থমকে যায়নি কখনও
এখনও ভাবি বারংবার একি ভাবে ভিন্ন মাত্রায় রাঙিয়ে-তবুও জেনো
তোমাকেই বলে দিব-আমার ইতিহাস
সেদিন বিকেলের গল্পগুলোতেই ধর’ কাটা চামচের মধ্যে থেকেও ভালবাসা
বারংবার তার অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল আর তাই বুঝি তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত
আর আমি সেদিনের স্বল্পক্ষনের বিকেল বা বৃষ্টির আলিঙ্গনে ক্লান্ত রাজপথকে
পুঁজি করে নিয়ে লিখেছি কোন কাব্য বা কাব্যানু স্বার্থপর আমি…
এখন রাতগুলি অনেক নিরুত্তাপ কিংবা পালভাঙা কিংকর মাঝি
ছেড়াপালে নৌকা বাই-কুল নাই- অকুলে অকুতো এক নিধিরাম
তারপরেও গল্পগুলো শেষ হয় না অনেকটা ননস্টপ মেইলের মতন
এজীবন ভালবেসে কোন কথা তৈরি হবে কিনা কোনও ভাবে জানিনা
তবুও জেন আমি তোমাকেই বলে দেব’ কোন একদিন;
কোন একদিন হয়ত আবারও হাতের মধ্যে হাত
চোখে রঙিন দৃষ্টি-এলোপাথারি বৃষ্টি-কফির ঘ্রাণ
হয়ত কোনদিন ব্যস্ত রাজপথ-ফুটপাতে আমি আর তুমি কাধে শান্তিনিকেতনি ব্যাগ
হয়ত আবারও ভ্রমরের মতন তোমাকে ছুঁব নতুন করে আর তখনি জীবনের
ভুলের খসড়া পান্ডুলিপিটির কথা তোমাকে বলব যেন এর প্রুফরিডিং কর তুমি
হয়ত জেনে যাবে তখুনি তোমাকে বলে দেয়ার শেষ কথাগুলো।

০৫জুলাই/২০০৩

কবিতাটি সম্ভবত বনানী থাকার সময় লেখা।

·

চারদিকে চাইর চারটা বাঁশ
তার মইধ্যে একটা খাটাস
খাটাসের তিন হাত পা
সামনে দুইটা গ্লাস
একটায় যোগফল
আর একটায় শুদ্ধ তরল
পাইনসা খেলা খেলে
খাটাস খট্টানি তালে
তিন অঙ্গের নৃত্য খালি চলে;
নৃত্য ঘুরণ পাকে
চউখ গুলান চাইয়া থাকে
করে কী ডিসকো কর্মকার!
বাদ্য থামিয়া গেলে
শেষে দেখে সব ম্যাসাকার
শালা আমার কলির অবতার।

(কবিতাটি 2004 সালে লেখা। কবিসভার কবিতা সঞ্চালনের দ্বিতীয় কিস্তিতে ছাপা হয়েছিল)

·