এই বয়সে গরু বিষয়ক রচনা লিখতে বললে শুধু একটাই মানে তৈরি করে: আমার বর্ণিল শৈশব! আমি হলফ করে বলতে পারি আমার সমসাময়িক বয়সের (আমার জন্ম ১৯৮০সালে) সবারই জীবনের পথম রচনা ছিল গরু। বা বলা যেতে পারে গরু কে দিয়েই আমাদের গদ্য লেখার হাতেখড়ি!
আমি বড় হয়েছি কুড়িগ্রামের রাঙালীরবস গ্রামে। আমার শৈশবে রচনা লেখা মানেই ছিল চোখ বন্ধ করে মুখস্ত করে ফেলা। মনে পরে হ্যারিকেনের আলোয় বসে পড়তাম তখন। পরীক্ষার সময় রাত জাগতে হতো, তা না হলে বাবা-মা ভাবতেন আমি সিরিয়াস না। আবার পড়া মুখস্ত বলে শোনাতে হতো! কত যে মার খেয়েছি এই গরুর জন্য!
বড় অদ্ভুত ভাবে এই রচনাটি লিখতে গিয়ে আমার উথাল-পাতাল জোৎস্নার কথা মনে পড়ছে। ঠিক এই সময়টায় হালকা কুয়াশা দেখা যেত। পূর্ণিমার সময় সেই কুয়াশাগুলোন অদ্ভুতভাবে শ্যাডোডিটেইলড হতো। হায়রে! ঢাকায় পূর্ণিমাও দেখতে পাইনা। এমনকি রাতে আকাশে তারাও দেখা যায় না!
আমার স্কুল ছিল গ্রামে। প্রথম ক্লাস ছিল একটা আম গাছের নিচে, ইটের উপর বসে। সম্ভবত ১৯৮৪ সালের কথা। স্কুলের নাম ‘রায়গঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’। অনেক মোটা একজন শিক্ষক ছিলেন, মোজাম্মেল হক স্যার যাকে আমার মোটাস্যার নামেই ডাকতাম। অনেক উদাসীন ভাবে ছাত্রদের পেটাতেন। সেই স্যার আমার প্রথম স্কুল শিক্ষক। স্যার আজকে আর বেঁচে নেই, সেই আম গাছটাও নেই! ক্লাস ওয়ানে থাকতে প্রথম গরু বিষয়ক রচনা লিখেছিলাম।
আমি জানিনা এই রচনা কত শব্দের হতে হবে। কিন্তু বুঝতে পারছি আমার শৈশবের প্রত্যেকটি ঘটনা এই রচনার সাথে সম্পর্কিত। আমার নানারঙের শৈশবকে নতুন করে মনে পড়েছে। এতেই আমি ধন্য। শহরের বাচ্চাগুলোর জন্য মায়া হয়! আমি জানিনা তারা গরু বিষয়ক রচনা এখনো লিখে কিনা। কিন্তু তাদের ইট-কনক্রিটের শৈশবে আর যাই হোক উথাল-পাতাল জোৎস্না থাকবে না।
ছবির পাখিটা অনেক বেশী পরিচিত সবার কাছে। একজন নিকটজনদের মতোন এই পাখি। যদিও ঢাকায় এর দেখা মেলে না। ইটের বস্তিতে এরা থাকে না।
আমার মা এই পাখিকে ডাকেন ক্যাচকেচি পাখি। তার কাছ থেকে আমিও এটা শিখেছি।
ছবিটা জাহাঙ্গীরনগর থেকে তোলা। আমার ফ্লিকারে পোস্ট করেছি।
www.nirjhar.com
One of the oldest labor in my village. In my childhood he made lots of bamboo stuff for me. Sometimes he made kites and some times trap to catch birds (dove). He is the best person with Bamboo.
His two sons was my game mate. In my village we raised all together and our entertainment was football. His son was the best goal keeper “Ershadul”.
I took this picture about a year ago with a Nikon D40. In this age he is tired of his physiology. Lots of suffering he is carrying right now but still he can work. He and his bamboo! The day I took this picture he was working with some bamboo stuff. Thanks for being my model Mr. Bamboo!
আমার দুরন্তপনা শৈশবের অনেক উপকারি অধ্যায় এই মানুষটির হাতে সূচিত। বাঁশ দিয়ে হরেক রকমের কাজ করতে পছন্দ করে লোকটি। আজ সে বৃদ্ধ। বয়সের ভারে কিছুটা নত। তবুও কাজ তার থেমে নেই। কুড়িগ্রামে কাজ না করলে খাবে কি?

আমার শৈশবের বিস্ময় এই মানুষটি। নাম: ইন্দ্র দেব, পেশা: মুচি।
গ্রামে তাকে ডাকা হয় “ইন্দ্রার দেও” নামে। যার অর্থ করলে দাড়ায়: ইন্দ্রা (কুয়া বা কুপ) এর দেও (দৈত্য)। বলার অপেক্ষা রাখে না। গ্রামের মূর্খ মানুষেরা বিপর্যয় করেছে নামটির। লোকটিকে আমার চির সুখী একজন মানুষ মনে হয়। যদিও জীবন অনেক বঞ্চনা দিয়েছে, বিপর্যয় নেমেছে তাতে। তবুও তাকে গান গাইতে শুনেছি কিছুদিন আগেও!
খুব যখন ছোট্টটি ছিলাম, তখন ইন্দ্রদেবের চুল পাকেনি। শরীরটাও কুঁজো হয়ে যায়নি। চোখ নষ্টতো দূরের কথা, ছানিও পড়েনি। সারাদিন দেখতাম জুতা শেলাই করছে! আবার বৃষ্টির দিনে নিজের বানানো অদ্ভুদ যন্ত্র বাজিয়ে গান গাইতে শুনেছি অনেক! আমি ওর ভাষা বুঝতাম না। অসমীয়া ভাষায় কথা বলতো। এখন কথা বুঝি।
এই ছবিটার নাম বাংলাদেশের প্রাণশক্তি দিলে অনেক ভালো হতো! এইযে ইন্দ্রদেব এখন সাইক্লপস্! খেতেও পারেনা ঠিকমতোন, তবুও ছবিতে সে হাসছে! আহা! কতদিন এমন হাসি দেখি না। খুব ইচ্ছে করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে তার যে গল্পগুলোন জানি না, তা লিখে ফেলার! কবে যে চলে যাবে সে ইন্দ্রলোকে!