Posts Tagged ‘Diary’

ইদানিং বড় অস্থির লাগে। কী জানি খুঁজি আবার খুঁজি না। আসলে আমি এর কিছু জানি না।Clouds at my window মেঘ জানে। আকাশে এখন কি সুন্দর ভবঘুরে মেঘ, সারাদিন তাই মন কেমন করে।

যাও মেঘ যাও উরে

উরে উরে দূরে

যাও মেঘ যাও,

মনের মেঘ গুলো

সাথে নিয়ে যাও।

ছবিটা আমার বাসার বারান্দা থেকে তোলা।

এবার ইচ্ছে মতোন মেঘের ছবি তুলে ফেলব।

flamboyant

ছবিটা টোপা পানার। আমরা যারা গ্রামে বড় হয়েছি তাদের কাছে অনেক পরিচিত এটি। অবশ্য ইদানিং এই জলজ উদ্ভিদ আর চোখে পড়ে না। কার্প জাতীয় কিছু মাছের দৌরাত্বে এগুলো ভালো জন্মায় না।

ছবিটা তুলেছিলাম সাভার এলাকা থেকে। একটা পুকুর থেকে। শ্যাওলাভরা একটা পুকুরের দেখা অনেক দিন পরে পেয়েছিলাম। সেই পুকুরের মধ্যে অনেকটা বিষন্ন হয়ে ছিল এই টোপা পানাটি। দলবল ছেড়ে একাকী!

ছবিটি তুলেছিলাম নাইকন ডি-৮০দিয়ে। লেন্স ব্যবহার করেছিলাম সম্ভবত ৩০০মিমি ম্যাক্র। অ্যাপারচার প্রায়রিটিতে।

আমি সবসময় র’তে ছবি তুলি। র প্রসেস করার জন্য ব্যবহার করেছি অ্যাডমি ক্যামেরা র ৪.৫।

অনেক আগের তোলা ছবি। বরাবরের মতোন এটি আমার ফ্লিকারে আপলোড করেছি। ছবিটা খুব ভালো মানের কিছু হয় নি। কিন্তু আমার স্মৃতি’র স্বার্থে রেখে দিলাম। আপনাদেরও ভালো লাগবে না। তবুও শেয়ার করলাম। সবাবইকে শুভেচ্ছা।

www.nirjahr.com

এই সিরিজের আগের লেখাগুলো এখানে:

প্রথম কিস্তি <<<<<

দ্বিতীয় কিস্তি <<<<<

৩য় কিস্তি

আমি হোস্টেলে থাকতাম। ওল্ড ডিওএইচএস, বনানী। আমার ইউনিভার্সিটির অনেকের সাথে। আমি বিবাহিত এই তথ্য কেউই পাত্তা দিল না। বেশ কয়েকদিন কেটে গেল। তখন কুড়িগ্রামে কোন মোবাইলের নেউওয়ার্ক ছিল না। যোগাযোগের কোন বুদ্ধি নেই। মনি (আমার স্ত্রী’র নাম) রংপুরে। তার কলেজ খোলা। এর মধ্যে একদিন যোগাযোগ হলো। আর সাথে সাথে চলে গেলাম রংপুর। বিয়ের পর প্রথম বারের মতোন দেখা করতে যাচ্ছি নিজের বউয়ের সাথে। সময়টা ২০০৩ সালের জানুয়ারি।

moni অনেক ভোরে রংপুরে নামলাম। তারপর অপেক্ষা। একটু আলো ফোটার সাথে সাথেই মনি’র হোস্টেলে চলে যাই। “আলো ফোটা খুব ফোটা এক ফোটা ভোরে” কৃষ্ণকলির গান। যাবার একটু পরেই মনি আসে। ভোরের নরম আলো, নির্ঘুম ফোলা চোখ নিয়ে আমি মনির সামনে। মনি্রো চোখ ফোলা, সারারাত উত্তেজনায় ঘুমায় নি। আমার বয়স তখন ২২বছর ৬মাস আর মনি’র ২০। ওর হোস্টেলের ওয়েটিং রুমে দেখা। ওর সাথের অনেক মেয়ে আসল আমাকে দেখতে। পিচ্চি একটা বড় (আমার চেহারা থেকে এখনএ বাচ্চা বাচ্চা ভাব টা গেল না!)! আমি লাজুক ভাবেই সব মন্তব্য হজম করলাম।

আমার গায়ের সুয়েটারটি জার্নিতে নোংড়া হয়েছিল। মনি এটা ধু’তে নিয়ে গেল। এবং জীবনের প্রথম আমার কাপড় ধুতে গিয়ে বিড়াট একটা হাস্যকর ভুল করল। অতি উত্তেজনায় আমার সুয়েটার না ধুয়ে তার রূমমেটের টা ধুয়ে ফেলে আর সেই সুবাদে আমাকে সেই নোংড়াটাই পড়তে হয়েছিল।

বিয়ের ২মাস পর মনি’র ছবি।

আমরা সারাদিন রিকসায় ঘুরলাম। অনেক আত্মিয়’র বাড়িতে গেলাম। তারপর রাত কাটালাম একটা হোটেলে। পরের দিন আরো অ্যাডভানচারাস! আমরা চলে যাই দিনাজপুর, মনি’র খালার বাড়ির উদ্দেশ্যে। গিয়ে দেখা গেল তারা সবাই কুড়িগ্রামে। আবার ফেরত রংপুরে। সেখানে অপেক্ষা না করে আমরা আবার গাইবান্ধায় গেলাম। মনি’র আর এক খালার বাড়িতে। সেখানে আমরা ২দিন থেকে আবারও রংপুরে। এরপর আমার ভাই শাহীন চৌধুরী আমাদের তার বাসায় নিয়ে আসলেন। প্রথম বারের মতোন আন্তরিক উষ্ণ অভ্যর্থনা।

(চলবে……..)

14
Oct

তোমাদের মনে পড়ে

   Posted by: Nirjhar   in ডায়েরি

বকুল ফুল বকুল ফুল সোনা দিয়া হাতখানো বান্ধাইলি!

শালুক ফুলের লাজ নাই

রাইতে শালুক ফুটে লো রাইতে শালুক ফোটে

যার সঙ্গে যার ভালোবাসা সেইতো মজা লোটে লো।

আমার জামাই ধান বায় হরিণডাঙার মাঠে লো হরিণডাঙার মাঠে

সোনা দেহে ঘাম ঝরে দেইখা পরান ফাটে লো!

বকুল ফুল…

শাওন ভাদর মাসে জামাই আদর করে লো

জামাই আদর করে

ইচ্ছে জামাই করব আদর দানা তো নাই ঘরে লো

<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<

এই গানটা প্রথম শুনি সেইন্টমার্টিনে ঘুড়ি উৎসবে। কনক আদিত্যের কন্ঠে। অনেক ভালো ছিল সময়টা। সবাই মিলে নেচে নেচে গান। অনেক আনন্দের ছিল সময়। সেইন্টমার্টিন নিয়ে আমি কিছু লিখি নি এখনো। লিখব। এটা ওয়ার্ম আপ লেখা।

dead vs liveএই ছবিটার নাম মৃত বনাম জীবিত। তুলেছিলাম কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে। আজকে ছবিটা আমার ফ্লিকারে পোস্ট করলাম। যেহেতু আমি এখন উপলক্ষ করছি ছবিটাকে তাই ছবির সাথে একাত্মতা করতেই হচ্ছে। এটা দায়বদ্ধতা এক ধরনের। ছবির প্রতি দায়ভার।

আমার বাড়ি কুড়িগ্রামের রায়গঞ্জে। বাড়ি যেতে পাড়ি দিতে হয় ধরলা নদী। আগে এই নদীর উপর ব্রিজ ছিল না। তখন অনেকটা পথ হেটে যেত হতো চরের মধ্য দিয়ে। অনেক কষ্টের একটা পথ। নদীর চরে সব সময় দু’জন ভিখারিনীকে বসে থাকে দেখতাম। কথনও কথা বলতো না। ফ্যাল ফ্যার করে চেয়ে থাকতো। ভাবলেশহীন (আমি তাদের সম্পর্কে আমার একটা কবিতা লিখব তে বলেছি) মুখ। আমি আজকে চিন্তা করছি তারা কী মৃতজন ছিলেন? তাদের জীবন বোধটা কী ছিল? জীবনের কোন দিকটা নিয়ে তারা ভাবিত হতেন?

অনেক নির্জনতায় আমার বাস এখন। একা একা থাকি। ভাবি। অনুভব করার চেষ্টা করি জীবনকে। এই নির্জনতায় মাঝে মাঝে নিজেকে মৃত মনে হয়। বা মৃতপ্রায়। এই অনুভবের প্রেক্ষিতে মাথায় এলো একটা সার্ভিসের কথা। এমন কোন একটা নাম্বার থাকবে। যে নাম্বারে ফোন করলে অটো এন্সার হবে। এবং যা থেকে শোনা যাবে লাইভ কোলাহল। যে সময়টা আমি অনেক নিঃসঙ্গ অনুভব করব। আমি সেই নাম্বারে ফোন করে কোলাহল শুনব। কোলাহলকে এখন জীবন মনে হয়। মানে আমার এই জীবনবোধের সাথে তুলনা করে।

এমন কোন নাম্বার কী আছে যেখানে ফোন করে মানুষের দুঃখগুলোন অটো ক্লিন করে ফেলা যাবে। ফোন করলেই অপারেটর বলবে “আপনার দুঃখ ডাউনলোড করা হচ্ছে। ক্লিন করতে সময় লাগবে ১০মিনিট। এই ১০ মিনিট আপনি চোখ বন্ধ করে দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুলের মাঝে ছুটে বেড়ান। নদীর পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন কোনার কিনারায়। আকাশে মেঘের জন্মদিন। সেই মেঘের মধ্যে মেঘ হয়ে যান। তারপর মেঘ থেকে যখন বৃষ্টি হবে সেই বৃষ্টিতে ভিজুন। পানির প্রতিটি বিন্দুতে বয়ে বেড়ানো দুঃখ গুলোন মিশিয়ে দিন। তারপর ধুয়ে যাক। ধুয়ে যাক মুছে যাক বেদনার সকল স্তর।” এটা হবে হয়তো কোনদিন। যেদিন সামান্য হাসির কলোরবে জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে আমি নবজাতকের মতোন অনুভব করব জীবনকে। জীবনের ক্লেদ থাকবে না। এমনটা কবে হবে? কবে কোন ম্যাজিশিয়ান আমাকে আলিঙ্গণ করবে? অপেক্ষায় আছি কিন্তু!

জীবন যেমন অপেক্ষার একটা দায়ভার নিয়ে বয়ে যাই। মাঝে মাঝে হিসেব মিলাই। কিন্তু যে অংক বা হিসেব মেলাতে চেষ্টা করি তা থাকে স্বপ্নের জগতে। তাই বাস্তবের মাপকাঠি গুলোন আরালে থেকে অন্যকারোর কলকাঠি-ইশারায় ওলোট পালোট হয়ে যায়। তাই আর দুঃখের শেষ হয় না। তাই আমি একটা দুঃখের ফোন নাম্বার পেয়েছি। এই নাম্বারটায় ফোন করলে কেউ একজন ফোনটা ধরে। তার গলার স্বরে থাকে জীবনের তাবৎ অভিজ্ঞতা। কিন্তু আমার মতোন যারা স্বপ্ন বা ভালোবাসার কাঙাল তাদের জন্য করুণামিসৃত কোন কথা থাকে না। তাই সময়ের প্রতিটি হাসির ঝঙ্কার, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। আর তা হয়ে যায় হাহাকারের অট্টহাসি। সেই হাহাকারের আকারে বিকারে দুঃখের জন্ম হয় শুধু। অত:পর। আমি নির্ঝর সেই দুখের ধারায় অনেক বেশি দুঃখ সঞ্চয় করি। এভাবেই আমার দুঃখ প্রাপ্তি ঘটে।

ছোটবেলা থেকেই আমার ডায়েরি লেখার অভ্যাস। মাঝপথে এসে আর হলো না। বড় বেলার (!) অনেক মহান (!) পরিবর্তনের সাথে সাথেই ডায়েরি হারিয়ে গেল। তাই ব্লগ লিখব ঠিক করেছিলাম। এটা তো ডায়েরি’ই।

আমি ব্লগ লেখা শুরু করলাম ঢিমা ত্রিতালে। আস্তে আস্তে। সব এলেবেলে ধরনের পোস্ট। আমার কয়েকজন কাছের মানুষ ছাড়া কেউ’ই জানে না এর সম্বন্ধে। খারাপ ছিল না। লিখি এবং নিজের লেখা নিজেই পড়ি। ওয়ার্ড প্রেস আমাকে অনেক স্বাধীনতা দিল। আমিও মজা পেলাম।

আমার ঘনিষ্ঠজন: শিপলু ভাই বললেন আমার তো ব্লগে লেখার বিষয়ের কোন অভাব হবে না। তার যুক্তি হলো যেহেতু আমি Jack of all trade  তাই আমার অনেক সুবিধা। আমি ওনার কথাটা মেনে নিয়ে শুরু করলাম একটু দ্রুত লয়ে।

গতকাল হঠাৎ লক্ষ করলাম আমার ব্লগ পড়েছে মোট ২৯৭জন। প্রথমবারের মতোন ভয় পেলাম। আমি এলেবেলে টাইপের একজন লেখক (?)। যা লিখি আমার এলেবেলে চিন্তা থেকে। এই লেখার আবার পাঠক? বড় ভাবনার বিষয়। বাংলা ভাষাভাষিদের মধ্যৈ কি পাঠযোগ্য বিষয়ের অভাব পড়ল? অভাবনীয়! এবার কী আমাকে লেখক হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে? কেমন যেন দায়বদ্ধতার গন্ধ পাচ্ছি! কী দরকার ছিলে এই নাপিতকে ডাক্তারি শেখানোর?

এখন পোস্ট দিতে আর পারছি না। কেমন যেন একটা ভয় ভয় ভাব। খারাপ হয়ে গেল। যাচ্ছেতাই একটা অবস্থা। কী করি বলুন তো?

Page 1 of 11