Posts Tagged ‘poetry’

যত দূরে যাই, জীবন হাতড়াই

পাই শুধু অংকের খেলা

যোজন বিয়োজন, হয়তো জীবন

ফিরে পাই মেলা-না’মেলা।

তবুও আকড়ে ধরে বাঁচিবার সাধ

ক্লীশে, অতিবার; ভয় পাই

এ জীবনের হারানো ভাণ্ডার, রাত

শেষে তবু রাতেই ফিরে যাই!

এই যে এখন রাত্রির বেলা

আলো আঁধারির খেলা

এসময়ই বসে ভাবেন জীবনানন্দ;

যে জীবন গিয়েছে চলে বহুবার, জন্মাবার

তবুও অকস্মাৎ চারিধার

চেপে ধরে, বুকে উঠে আসে রক্তের প্রতিক্ষা!

সময়, আমার সময়, তুমি আমার অসময়ে থুথু ফেলে যাও….

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা এটি। আমাকে অনেক খানি পরিবর্তন করেছে এই কবিতাটি!

বাঁশি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কিনু গোয়ালার গলি।

দোতলা বাড়ির

লোহার-গরাদে-দেওয়া একতলা ঘর

পথের ধারেই।

লোনাধরা দেয়ালেতে মাঝে মাঝে ধসে গেছে বালি,

মাঝে মাঝে স্যাঁতাপড়া দাগ।

মার্কিন থানের মার্কা একখানা ছবি

সিদ্ধিদাতা গণেশের

দরজার ‘পরে আঁটা।

আমি ছাড়া ঘরে থাকে আরেকটা জীব

এক ভারাতেই,

সেটা টিকটিকি।

তফাত আমার সঙ্গে এই শুধু,

নেই তার অন্নের অভাব।।

বেতন পঁচিশ টাকা,

সদাগরি আপিসের কনিষ্ঠ কেরানি।

খেতে পাই দত্তদের বাড়ি

ছেলেকে পড়িয়ে।

শেয়ালদা ইষ্টিশনে যাই,

সন্ধেটা কাটিয়ে আসি,

আলো জ্বালাবার দায় বাঁচে।

এঞ্জিনের ধস্‌ ধস্‌,

বাঁশির আওয়াজ,

যাত্রীর ব্যস্ততা,

কুলি-হাঁকাহাঁকি।

সাড়ে-দশ বেজে যায়,

তার পরে ঘরে এসে নিরালা নিঃঝুম অন্ধকার।।

ধলেশ্বরী-নদীতীরে পিসিদের গ্রাম-

তাঁর দেওয়ের মেয়ে,

অভাগার সাথে তার বিবাহের ছিল ঠিকঠাক।

লগ্ন শুভ, নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেল-

সেই লগ্নে এসেছি পালিয়ে।

মেয়েটা রক্ষে পেলে,

আমি তথৈবচ।

ঘরেতে এল না সে তো, মনে তার নিত্য আসা-যাওয়া-

পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।।

বর্ষা ঘনঘোর।

ট্রামের খরচা বাড়ে,

মাঝে মাঝে মাইনেও কাটা যায়।

গলিটার কোণে কোণে

জমে ওঠে, পচে ওঠে

আমের খোসা ও আঁঠি, কাঁঠালের ভূতি,

মাছের কান্‌কা,

মরা বেড়ালের ছানা-

ছাইপাঁশ আরো কত কী যে।

ছাতার অবস্থাখানা জরিমানা-দেওয়া

মাইনের মতো,

বহু ছিদ্র তার।

আপিসের সাজ

গোপীকান্ত গোঁসাইয়ের মনটা যেমন,

সর্বদাই রসসিক্ত থাকে।

বাদলের কালো ছায়া

স্যাঁৎসেঁতে ঘরটাতে ঢুকে

কলে-পড়া জন্তুর মতন

মূর্ছায় অসাড়!

দিনরাত, মনে হয়, কোন্‌ আধমরা

জগতের সঙ্গে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছি।

গলির মোড়েই থাকে কান্তবাবু-

যত্নে-পাট-করা লম্বা চুল,

বড়ো বড়ো চোখ,

শোখিন মেজাজ।

কর্নেট বাজানো তার শখ।

মাঝে মাঝে সুর জেগে ওঠে

এ গলির বীভৎস বাতাসে-

কখনো গভীর রাতে,

ভোরবেলা আধো-অন্ধকারে,

কখনো বৈকালে

ঝিকিমিকি আলোয়-ছায়ায়।

হঠাৎ সন্ধ্যায়

সিন্ধু-বারোয়াঁয় লাগে তান,

সমস্ত আকাশে বাজে

অনাদি কালের বিরহবেদনা।

তখনি মুহূর্তে ধরা পড়ে

এ গলিটা ঘোর মিছে

দুর্বিষহ মাতালের প্রলাপের মতো।

হঠাৎ খবর পাই মনে,

আকবর বাদশার সঙ্গে

হরিপদ কেরানির কোন ভেদ নেই।

বাঁশির করুণ ডাক বেয়ে

ছেঁড়া ছাতা রাজছত্র মিলে চলে গেছে

এক বৈকুন্ঠের দিকে।।

এ গান যেখানে সত্য

অনন্ত গোধূলিলগ্নে

সেইখানে

বহি চলে ধলেশ্বরী,

তীরে তমালের ঘন ছায়া-

আঙিনাতে

যে আছে অপেক্ষা ক’রে, তার

পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।।

আমি আসলে এখনও চিন্তা করি। আকবর বাদশা আর হরিপদ কেরানি’র কথা। বড় অদ্ভুদ জীবনযাত্রা। মিল পাই না।

একটা কবিতা লিখব এটি আমার ১৯বছর বয়সে লেখা একটি কবিতা। আমার গ্রামে বড় হয়ে ওঠার একটা অংশ এতে আছে। সেই সময়ে উদীচী’র অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়েছিল। অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। ফুলকুমার নদীর ধারের এই ছেলেটি সেদিনের কষ্ট বুকে জমা করে রেখেছিল।

এই কবিতায় হরিমতি’র কথা লিখেছি। আমার শৈশবের অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলানো চেষ্টার সে স্বাক্ষী। সে কোথা থেকে আসত সব সময় ভাবতাম। তখন আমাদের বাড়ির চারপাশের ফুলকুমার নদীর ওপারে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। খুব ছোট বেলায় হরিমতির বয়ে আনা টেংড়া মাছ আমার হাতে কাটা ফুটিয়ে দেয়। তাই থেকে তাকে আমি টেংড়া নামেই ডাকতাম। বলতাম হরিমতি টেংড়া। খুব রাগ করত। বেচারা কবে মরে গেছে জানি না। এখন তাকে পেলে হয়তো খুব আয়োজন করে ছবি তুলতাম তার। এই কবিতার সাথে লাইভ হরিমতি। ইউটুবে স্থান করে নিত। হরিমতি নেই। কিন্তু তার ‘বাপই’ রয়ে গেল। রংপুর অঞ্চলে ছোট ছেলেকে বাপই বলে।

অন্য চরিত্রগুলো নিয়ে সময় করে লিখতে হবে। আয়োজন করে লিখতে হবে। বর্ণিল সম্ভাবনা গুলো মলিন করতে খুব মায়া লাগছে। যাদের কথা লিখতে চাই তারা সবাই শুদ্ধ মানুষ। তাদের মলিনতা কখনও ছুঁতে পারে নি। অন্তত এই কথাটি আমি বিশ্বাস করি। প্রিয় শৈশব; প্রিয় ছেলেবেলা; আমারে তুমি অশেষ করেছ।

একটা কবিতা লিখব;
এই ধ্যান অনেক কাল ধরে
মিশে আছে মনে
আমার ভাবাতুর চেতনা পরে
কি লিখব সে কবিতায়?
ভাবি শুধু ভাবি
দিনরাত অবিশ্রান্ত
পড়ার টেবিলে-পার্কে-আড্ডায়,
শাওয়ারের শব্দে-বাথরুমে
পাইনা কিছুই খুঁজে।

একটা কবিতা লিখব;
নুতন কথার একটা কবিতা
কি লিখব সে কবিতায়!
ভাবি আর ভাবি………….।

একবার ভাবি
কবিতায় লিখি
ধরলার চরে সেই
নির্বিকার দুই ভিখারিনীর কথা,
যার হাত সবসময়’ই থাকে শূন্যে
প্রত্যাশায়,
দশ-বিশ-পঁচিশ পয়সা করে
সারাদিনে জমে যায় বেশ
খোলা আকাশের সূর্য কোনদিন তাতে
করে না চাঁদাবাজি
শুধু নির্বিকারভাবে দেয় তেজ
যেন হলুদ জন্ডিস মার্কা স্বপ্ন দেখায়।

একটা কবিতা লিখব;
একটা কবিতা লেখা উচিৎ
কি লিখব সে কবিতায়!
ভাবি আর ভাবি………..।

ইচ্ছে করে
কবিতায় লিখি
পয়ড়াডাঙার সেই তেতুল গাছ,
বিলের কিনার ঘেঁসে আছে দাড়িয়ে
বৃহৎ সুন্দর হয়ে
সবুজের ভান্ডার যেন
কতকাল থেকে কে জানে!
সারাদিন তার ডালে
পাখির ছুটোছুটি ক্লান্তিহীন
সবুজের বুকের মাঝে,
আবছা ছায়ায় যেন ভাসে
নিচের সবুজ জলে
যেন আমিও সবুজে আছি মিশে।

একটা কবিতা লিখব;
সুন্দর একটা কবিতা
ভাবনায় আসে না কিছু
আসে সীমাহীন অজ্ঞতা।

ভাবি কবিতায় লিখে ফেলি
রিম ঝিম বৃষ্টি
সুর বাজে ঝাপতালে
টিনের চালায়,
বৃষ্টির কণাগুলো আসবে হাওয়ায় ভেসে
সিক্ত করবে শুধু আমার খাতা
আলতো ভাবে,
যেন সোহাগে বুলিয়ে দেবে
মমতার পরশপাথর,
ছোঁয়াতে সোনার খাতায়
লিখে দেব
তার মহা জয়গান
প্রভাত আলোয়।

একটা কবিতা লিখব;
একটা কবিতা লেখার অপেক্ষায়
আছি বসে
কি লিখব সে কবিতায়!

ভাবি কবিতাতে এঁকে দেই
মজিরনের হাত দু’টো,
সারাদিন অবিরাম
ঠুকুস ঠুকুস
কয়লা ভাঙে,
প্রতিটিন দুইটাকা করে
মালিক দেবে
সে…………ই সাঁঝে,
ভিতরটা তার
ইট ভাটার কয়লার মত জ্বলে
উদরের সংগ্রাম অব্যাহতভাবে চলে
উপায় নেই তার
জীবন গেছে বলী
প্রার্থনা তার আজ
কখন আসবে সাঁঝ।


একটা কবিতা লিখব;
নুতন ধারার একটা কবিতা
দূর নিরুদ্দেশের যাত্রায়
প্রিয়জনের ব্যাথায়;
কি লিখব সে কবিতায়!

লেখার বাসনাতে
লিখে দেই
মন্টু মিঞাকে,
প্রিয়জন ছেড়ে
মফিজ হয়ে বাসের ছাদে,
দড়ির বেষ্টনীর ফাঁদে
জীবন মুঠোয় ভরে,
চলে দূর অজানায়………….
যেখানে ফলেছে ফসল আগে;
মফিজ অপবাদ ঘাড়ে
করে তাড়া বারে বারে
রোজগার করে আনবেই কিছু,
অনাহারে আছে প্রায়
তার বঁধু-দুধের শিশু।

একটা কবিতা লিখব;
কবিতা একটা লিখতেই হবে
ভালোবাসা মায়ার কোন কবিতা
বঞ্চিত জীবনের কবিতা
কার কথা লিখব?

ভাবনার চোখে আসে
মনের অজান্তে ভাসে
মলাতি বুড়ির কথা,
খুব সকালে সে আসত
শীর্ণ মলিন কান্তি
কুকড়িয়ে শুকিয়ে যাওয়া,
তবু মাথায় ধরা ভারে
রাশি রাশি মোয়া
বেড়াত ফেরী করে,
চিরকাল থাকবে মুখে মিশে
সেই সকালগুলোর
গোল গোল মোয়ার স্বাদ,
জানিনা কি ভেবে সে
জীবনের শেষ অবধি
কুকড়িয়ে যাওয়া শরীরে
মায়ার চোখে তাকিয়ে
করত ফেরী স্বর্গ প্রসাদ।

আবার চেতনায় জাগে
অনেক দিন আগে
হরিমতির কথা;
যাকে ডাকতাম টেংড়া বলে,
প্রতিদিন আসত সে
জেলে পাড়া থেকে
মাছের ডালা হাতে
ফুলকুমার নদী
পেরিয়ে,
ইচ্ছে করে কবিতায় শুধু বলি
তার চোখের দুঃখ ভরা হাসি
আর সেই ডাক;
‘মাছ নেবে গো মাসী।’

একটা কবিতা লিখব;
রক্তের উষ্ণতা মাখা কোন কবিতা
ভরা শুধু প্রখর খরতা
কি লিখব সে কবিতায়!

ইচ্ছে করে;
কবিতায় রক্তগঙ্গা দিই বইয়ে
সেইসব ঘাতক পশুর,
সুরের আবেশ ভরা মধ্যরাতে
যারা করে বোমা হামলা
নিস্প্রান করার বাসনায়
সমাজটাকে,
আদিম ক্রধে ভরে
তাদেরকে জড়ো করে
মনের ঘৃনা আক্রোশ মেশানো
ভয়াবহ এটম বোমাটি
দিই ছুঁড়ে,
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক
পৃথিবীর বুকে
প্রসুনের বিরুদ্ধাচারী
সেইসব কীট
যারা সুন্দর স্বপ্নের ঘটায় ব্যাঘাত
নড়ে যায় ভিত।

একটা কবিতা লিখব;
একটা কবিতা লেখার বাসনায়
আমৃত্যু থাকব আমি বসে,
ভয় নেই কিছু হারাবার
আমি লিখবই অবশেষে
কোন একটি কবিতা সাহসে।।

০১.০৫.১৯৯৯

23
Jun

শহর

   Posted by: Nirjhar   in কবিতা, ডায়েরি, লেখালেখি

শহর মানেই বন্দী দশার শুরু
শহর শুধু ইট-বালি-ককটেল
শহর মানেই বুক করে দুরু দরু
শহর শুধু ভয়ের সিঁড়িবেল।

৮ই, ১৭এ বনানী
ঢাকা ৯সেপ্টেম্বর/০৩
ভোর ৪.০০

এই কবিতটি লেখার সময় সম্ভবত হাওয়া ভবন ঘেরাও কর্মসূচী হয়েছিল। সারাদিন বাসা থেকে বের হতে পারি নি। খুবই বাজে একটি দিন ছিল।

তুমি করো রঙ্গমঞ্চে খেলা
পাবলিক খাই খালি ঠেলা
ঠেলাও আছে তবু হাভাতে
দেখে তুমি দাড়াও তফাতে
এরি নাম রাজ্যপৃষ্ঠপাশ
ভালোবাসা চরম হতাস;
আমরা তো শীতল বাতাস
বাল-ছাল কবিতার চাষ

১৭/০৯/২০০৪

কবিতটি লেখার পর আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এবার পেলাম। ভুল ফাইলে নেমিং হয়েছিল।

তৈলচর্চা প্রমিতকরণ
মহাগুরুবিদ্যা বুঝা অবান্তর অতি
শামুক খোলস তার নিদারুণ জ্যোতি
ডানে চান বায়ে চান হাসিতে লাগিয়া
সাগরেদ রেস ধরে ঢলিয়া ঢলিয়া
গুরুহস্তমধ্যে আছে মজার ম্যাজিক
ম্যাজিকের তাণ্ডবতে সঠিক-বেঠিক
গুরুর মাথায় যদি চিন্তা করে খেলা
ভক্তকুল ভক্তিভরে দেয় খালি ঠেলা
ঠেলায় ঠেলায় শেষে গুরুলীলা সারা
গুরুচিন্তাবিদ্যাজ্ঞান মাঠে যায় মারা
ভক্তকুলে মুসরায় ভয়াল ঘটনা
গুরুহীনসভাঘরে সভাযে টেকেনা!
ভক্তরা বসিয়া পরে একখানে মাথা
গুরুগুণকীর্তনেতে ইতিহাস গাঁথা
দিস্তাভরি কাগজেতে কালি অপচয়ে
গ্যালনে গ্যালনে তেল ঢালিল সকলে
তৈলাক্ত আবহাওয়া পিছলা পিছলা
ভক্তকুল চামড়াতে আবরণ দিলা
এইভাবে ভক্তদের চামড়াটা ভারী
তেলামির তৈলাক্ততা বুঝতে-না পারি

মিরপুর-ঢাকা/২০জুলাই/২০০৪

কবিতাটি আমার পছন্দের ছিল। পুরোনো হার্ডড্রাইভে অনেক কিছুর সাথে এটিকে খুঁজে পেলাম।

তোমাকেই বলে দিব-২

আমি তোমাকেই বলে দিব’ অনাদি-অন্ত সমাচার
সেই মহকালের সময়ের হিসেবেরও আগে থেকে বলে আসছি
এই স্বঃমন্ত্র; অনুচ্চারিত হয়েও তবুও থমকে যায়নি কখনও
এখনও ভাবি বারংবার একি ভাবে ভিন্ন মাত্রায় রাঙিয়ে-তবুও জেনো
তোমাকেই বলে দিব-আমার ইতিহাস
সেদিন বিকেলের গল্পগুলোতেই ধর’ কাটা চামচের মধ্যে থেকেও ভালবাসা
বারংবার তার অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল আর তাই বুঝি তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত
আর আমি সেদিনের স্বল্পক্ষনের বিকেল বা বৃষ্টির আলিঙ্গনে ক্লান্ত রাজপথকে
পুঁজি করে নিয়ে লিখেছি কোন কাব্য বা কাব্যানু স্বার্থপর আমি…
এখন রাতগুলি অনেক নিরুত্তাপ কিংবা পালভাঙা কিংকর মাঝি
ছেড়াপালে নৌকা বাই-কুল নাই- অকুলে অকুতো এক নিধিরাম
তারপরেও গল্পগুলো শেষ হয় না অনেকটা ননস্টপ মেইলের মতন
এজীবন ভালবেসে কোন কথা তৈরি হবে কিনা কোনও ভাবে জানিনা
তবুও জেন আমি তোমাকেই বলে দেব’ কোন একদিন;
কোন একদিন হয়ত আবারও হাতের মধ্যে হাত
চোখে রঙিন দৃষ্টি-এলোপাথারি বৃষ্টি-কফির ঘ্রাণ
হয়ত কোনদিন ব্যস্ত রাজপথ-ফুটপাতে আমি আর তুমি কাধে শান্তিনিকেতনি ব্যাগ
হয়ত আবারও ভ্রমরের মতন তোমাকে ছুঁব নতুন করে আর তখনি জীবনের
ভুলের খসড়া পান্ডুলিপিটির কথা তোমাকে বলব যেন এর প্রুফরিডিং কর তুমি
হয়ত জেনে যাবে তখুনি তোমাকে বলে দেয়ার শেষ কথাগুলো।

০৫জুলাই/২০০৩

কবিতাটি সম্ভবত বনানী থাকার সময় লেখা।

চারদিকে চাইর চারটা বাঁশ
তার মইধ্যে একটা খাটাস
খাটাসের তিন হাত পা
সামনে দুইটা গ্লাস
একটায় যোগফল
আর একটায় শুদ্ধ তরল
পাইনসা খেলা খেলে
খাটাস খট্টানি তালে
তিন অঙ্গের নৃত্য খালি চলে;
নৃত্য ঘুরণ পাকে
চউখ গুলান চাইয়া থাকে
করে কী ডিসকো কর্মকার!
বাদ্য থামিয়া গেলে
শেষে দেখে সব ম্যাসাকার
শালা আমার কলির অবতার।

(কবিতাটি 2004 সালে লেখা। কবিসভার কবিতা সঞ্চালনের দ্বিতীয় কিস্তিতে ছাপা হয়েছিল)

আমি ইদানিং রাস্তায় রাস্তায় একটু বেশিই হাটি

কত বড় বড় বাড়ি চারপাশে

তার মইধ্যে আবার বাতিও জ্বলে

আমার দেখতে বড়ই ভালো লাগে।

হয়তো সেইসব বাড়িতে যেনাদের থাকার কথা, তেনারাই থাকেন

হয়তো যাদের থাকার কথাও নয়, তারাও

কিন্তু আমার ভাবনার মধ্যে তারা খুব বেশী পাত্তা পায়না।

আমি ভাবি এইসব ধবধবা বাড়িতে নিশ্চই অনেক সুন্দরী ঘুমায়

মানে তাদের ঘুমাতে হয় আরকি, রূপকথার মতোন

তারা নিশ্চই ঘুমের মইধ্যে স্বপ্নও দেখে!

তারা নিশ্চই আমার মতোন মানে আমাদের মতোন পথপাগলদেরও কথা ভাবে!

এদের মইধ্যে আবার হয়তো কেউ কেউ আমাদের প্রেমিকা

যারা রাতভর জেগে জেগে মোবাইলে গুটুর গুটুর করে

এদের মইধ্যে আবার হয়তো অনেকেই আছে যারা আমার স্বপ্নাংশের অংশীদার!

আমার বড়ই ভাবতে ভালো লাগে, সেখানে হয়তো আমার প্রমিকা আমার জন্য

অপেক্ষা করে সারা রাত!

কিন্তু আমার মতোন বা আমাদের মতোন পথ রাজপুত্ররেরা কখনও

সোনার কাঠি বা রুপার কাঠি নিয়ে তাদের স্বপ্নে প্রবেশ করার অধিকার রাখে না!

বা অনধিকারের কথা ভেবে আমরা তাদের দরজা খটখটাই না!

কিন্তু তাদের কথা, তাহাদের কথা ভেবে আমার বড়ই আনন্দ লাগে।

ঢাকা/১০অক্টবর/২০০৭

মাঝে মাঝে গভীর রাত্রে
কারো সংগে কথা বলতে ইচ্ছে করে
অচেনা-চেনা নয় কিছু; যে কেউ হতে পারে।
বাতাসের ঝাপ্টায় বসে থাকতে চায় শরীর
আকাশের আঙিনায় আবার শীতল হতে চায় মন
কী এক অদ্ভুদ কথা; শিয়রে শিয়রে বেদনা বাতাস;
কোথা কোন সময় থেকে নিশব্দে আছরে পরে
এইসব গভীর রাতে শুধুই কথা বলতে ইচ্ছে করে

কাহারে শোনাই, শোনাই কারে
আজ এই অন্ধকারে
বসে বসে রজনীপাত
সঞ্চিত কথার ধারাপাত?
বাঁশিওয়ালা হতে চেয়ে বাঁশি শুনি শুধু
দিন শেষে রাত হয়, কথার পিঠে কথা কয়
এ কেমন কাটাকাটি খেলা!
চিন্তার ছুরি হাতে, নিজের মন শরীর কাটে
দিনে দিনে রক্তাক্ত হই!
এতো রক্ত কোথা যায়?
বসে বসে এই রাতে ভাবি
বন্ধুহীন কেটে গেল সকল ফাগুন
রক্ত পোড়ে ধীরে ধীরে
জ্বলে থাকে তরল আগুন

Page 1 of 11