Posts Tagged ‘raigonj’
স্কুল যাই আর আসি!
প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় আমাকে যেতে হতো রায়গঞ্জ বাজারের পাশ দিয়ে। বাজারের মোড়েই ছিল কামারখানা। স্কুল যাওয়ার সময় একবার এবং বাড়ি ফেরার সময় একবার দাড়িয়ে থাকতাম। সবচেয়ে মজা লাগতো হাপরের কারসাজি। সামান্য কিছু কয়লাকে কি সুন্দর করে টকটকে লাল আগুন বানিয়ে ফেলত! কী সুন্দর আগুনের রং। আরো মজা পেতাম যখন সেই কয়লার আগুনে লোহা গরম করত। কয়লার রং আর লোহার রং এক হয়ে যেত। তারপরেই আসল খেল। দুজন সুন্দর ছন্দে (উপরের ছবিটি দেখুন) সেই গরম লোহা পিটিয়ে পিটিয়ে একটা করে আকৃতি দিত। কোনদিন দা, কোনদিন বটি আবার কখনো কাস্তে। বড় সুন্দর ভাষ্কর্য।
উপরের ছবিটি তুলেছিলাম গত বছর বর্ষায়। রায়গঞ্জেই। তবে আমার সেই ছেলেবেলার জায়গা বা কামারদের নয়। এরা নতুন। কিন্তু কানের পরতে সেই পুরনো ঝঙ্কার। ছান্দিক আওয়াজ আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। তুলেছিলাম এই ছবি।

আমার শৈশবের বড় একটা অংশের নাম ফুলকুমার। এটি আমার বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছো্ট্ট একটা নদী। ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে। আমার বাচ্চাকালে নদীটার নাম নিয়ে অনেক ভাবতাম। বুঝায় যাচ্ছে অনেক ফুল ভেসে আসত এই নদী দিয়ে। যারা একটু বেশী রোমান্টিক তারা ভাবতে পারেন কোন রাজপুত্র এই নদী দিয়ে পাঠাতো রাশি রাশি ফুল কোন মেয়ের জন্য; ফুলকুমারী!
এই নদীতেই আমি (মনে হয়) সাতার শিখি। মনে হয় এই জন্য যে আমার বর্ণিল শৈশবে সাঁতারের মতোন তুচ্ছ বিষয়টা আয়োজন করে শেখা হয়নি। আজকে এই নদীটার একটা ছবি দিলাম এখানে।

সারারাত ঘুমিয়ে কাটিয়েছি অনেকটা না ঘুমিয়েই। রাতের কথা আমি হয়তো অনেক বেশী’ই বলি; রাতগুলো অনেক বেশী অর্থবহ। বিনিদ্রজনেরা আমার আকুতি’র বিষয়টা অনেক সহজেই বুঝে যাবেন। কিন্তু যারা বিনিদ্র নয় তাদের স্বপ্নাতুর করার একটু ছো্ট্ট বাসনা।
অনেকগুলো সকালের মতোন আজকেও সকাল হলো একটা। সাভাবিক একটা সকাল। সাভাবিক তাপমাত্রা। চিরচেনা আমার চারপাশ। তবুও মনে মনে বললাম ‘আজ সকালটা অন্যভাবে শুরু হোক’। বুঝতে পারছি বুকভরা ভালোবাসা, বুকভরা কান্না অনেকদিন থেকে জমা হয়ে আছে। কিন্তু কার জন্য, কাহার জন্য বুঝতে পারি না। অনেক কিছু করার কথা ছিল, অনেক বেশী প্রতিশ্রুতি ছিল, কিছুই হয় নি। আজকে ঠিক করলাম বুকের ভালোবাসাগুলো সব বিলিয়ে দিব আর কষ্টগুলো আমার ব্লগে লিখে ফেলব ধীরে ধীরে। যেহেতু আজকের সকালটা শুধুই ভালোবাসার তাই ঠিক করেছি একবুক ভালোবাসা দিয়ে আমার অসমাপ্ত অন্তত একটা কাজ আজ শুরু করব।
আমি বড় হয়েছি ১০০ভাগ গ্রামে। আমার চারপাশটা ঠিক বৈষয়িক নয়; কিছুটা সরল কিছুটা প্রাকৃতিক ছিল। আমাদের গ্রামটি ছিল ছবির মতোন। সেই ছবির মতোন গ্রামে আমার বন্ধুরা, আমি বড় হতে থাকলাম। বন্ধুরা বড় হতে থাকলো পরিকল্পণাহীন কোন উদ্যানের গাছের মতোন। সময় চলে গেল, সময় চলেই যায়। দীর্ঘ ১৬বছর পর ফিরে তাকালাম আজকে সকালে। আমার চিরচেনা ছেলেবেলা, আমার দুরন্তপনা’র ডায়েরি সব কিছুই ধারাবাহিক আর্তনাদ করে উঠল। যে অরণ্যের স্বপ্ন দেখতাম একদল দুরন্ত কিশলয় তারা আজ ভূমিহীন বৃক্ষ। তাদের শেকড় রাখার স্থান নেই। আমার বন্ধুরা তোমরা এই দীর্ঘ ব্যবচ্ছেদকে ক্ষমা করো। শিকড়ের সন্ধান করতে বড্ড দেরী হয়ে গেল!
আজ আমি ঠিক করলাম আমার শৈশবের বন্ধুদের জন্য কিছু করব।





















