TAG | school
আমাদের দেশে স্কুল জীবনটা খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। মাত্র ১০ক্লাস পরেই! অথচ বাইরের দেশে অনেকদিন পর্যন্ত শব্দটা থেকেই যায় জীবনের সাথে। যেমন গ্রাডুয়েশন স্কুল। বড়ই আফসোস!
ফেসবুকের কল্যাণে আমার সাথে অনেকের বন্ধুত্ব হয়েছে নতুন করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ জনের নাম আনিকা শাহ প্রমি। সে এই বছরে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। প্রমি আমাকে কয়েকদিন আগে ফোন করে বলল যে সে খুবই আপসেট! কারণ হিসেবে বলল তার স্কুল জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে! আমি বুঝতে পারলাম।
স্কুলের কথা মনে পড়তেই আমারো খারাপ লাগল! বড়ই দুষ্টমির একটা সময়!
প্রমি আমার গভীর দুঃখবোধ হচ্ছে। তোমার সাথে একাত্মতা!
*****************************************************
সংশোধন: প্রমি এই বছর নয়, সামনের বছর পরীক্ষা দেবে।

প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় আমাকে যেতে হতো রায়গঞ্জ বাজারের পাশ দিয়ে। বাজারের মোড়েই ছিল কামারখানা। স্কুল যাওয়ার সময় একবার এবং বাড়ি ফেরার সময় একবার দাড়িয়ে থাকতাম। সবচেয়ে মজা লাগতো হাপরের কারসাজি। সামান্য কিছু কয়লাকে কি সুন্দর করে টকটকে লাল আগুন বানিয়ে ফেলত! কী সুন্দর আগুনের রং। আরো মজা পেতাম যখন সেই কয়লার আগুনে লোহা গরম করত। কয়লার রং আর লোহার রং এক হয়ে যেত। তারপরেই আসল খেল। দুজন সুন্দর ছন্দে (উপরের ছবিটি দেখুন) সেই গরম লোহা পিটিয়ে পিটিয়ে একটা করে আকৃতি দিত। কোনদিন দা, কোনদিন বটি আবার কখনো কাস্তে। বড় সুন্দর ভাষ্কর্য।
উপরের ছবিটি তুলেছিলাম গত বছর বর্ষায়। রায়গঞ্জেই। তবে আমার সেই ছেলেবেলার জায়গা বা কামারদের নয়। এরা নতুন। কিন্তু কানের পরতে সেই পুরনো ঝঙ্কার। ছান্দিক আওয়াজ আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। তুলেছিলাম এই ছবি।

blacksmith · fire · flickr · kurigram · metal · photography · raigonj · school · ছেলেবেলা
সারারাত ঘুমিয়ে কাটিয়েছি অনেকটা না ঘুমিয়েই। রাতের কথা আমি হয়তো অনেক বেশী’ই বলি; রাতগুলো অনেক বেশী অর্থবহ। বিনিদ্রজনেরা আমার আকুতি’র বিষয়টা অনেক সহজেই বুঝে যাবেন। কিন্তু যারা বিনিদ্র নয় তাদের স্বপ্নাতুর করার একটু ছো্ট্ট বাসনা।
অনেকগুলো সকালের মতোন আজকেও সকাল হলো একটা। সাভাবিক একটা সকাল। সাভাবিক তাপমাত্রা। চিরচেনা আমার চারপাশ। তবুও মনে মনে বললাম ‘আজ সকালটা অন্যভাবে শুরু হোক’। বুঝতে পারছি বুকভরা ভালোবাসা, বুকভরা কান্না অনেকদিন থেকে জমা হয়ে আছে। কিন্তু কার জন্য, কাহার জন্য বুঝতে পারি না। অনেক কিছু করার কথা ছিল, অনেক বেশী প্রতিশ্রুতি ছিল, কিছুই হয় নি। আজকে ঠিক করলাম বুকের ভালোবাসাগুলো সব বিলিয়ে দিব আর কষ্টগুলো আমার ব্লগে লিখে ফেলব ধীরে ধীরে। যেহেতু আজকের সকালটা শুধুই ভালোবাসার তাই ঠিক করেছি একবুক ভালোবাসা দিয়ে আমার অসমাপ্ত অন্তত একটা কাজ আজ শুরু করব।
আমি বড় হয়েছি ১০০ভাগ গ্রামে। আমার চারপাশটা ঠিক বৈষয়িক নয়; কিছুটা সরল কিছুটা প্রাকৃতিক ছিল। আমাদের গ্রামটি ছিল ছবির মতোন। সেই ছবির মতোন গ্রামে আমার বন্ধুরা, আমি বড় হতে থাকলাম। বন্ধুরা বড় হতে থাকলো পরিকল্পণাহীন কোন উদ্যানের গাছের মতোন। সময় চলে গেল, সময় চলেই যায়। দীর্ঘ ১৬বছর পর ফিরে তাকালাম আজকে সকালে। আমার চিরচেনা ছেলেবেলা, আমার দুরন্তপনা’র ডায়েরি সব কিছুই ধারাবাহিক আর্তনাদ করে উঠল। যে অরণ্যের স্বপ্ন দেখতাম একদল দুরন্ত কিশলয় তারা আজ ভূমিহীন বৃক্ষ। তাদের শেকড় রাখার স্থান নেই। আমার বন্ধুরা তোমরা এই দীর্ঘ ব্যবচ্ছেদকে ক্ষমা করো। শিকড়ের সন্ধান করতে বড্ড দেরী হয়ে গেল!
আজ আমি ঠিক করলাম আমার শৈশবের বন্ধুদের জন্য কিছু করব।

ferdausi priyobhasini · friends · kurigram · photography · raigonj · school · sculpture







Amit’s Blog
Christoph Jan’s Blog
Emran’s Blog
Hasin’s Blog
Mark Cuban’s Blog
Mehfuz’s Blog
Mithu’s Blog
Mouly’s Blog
Omar Al Zabir
Saqib’s Blog
Shafqat Ahmed’s Blog
Shahed’s Blog
Shahidul News
Magnum